কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Wednesday, January 25, 2017

| দলিত প্রজাতন্ত্র |

যে বামুনের ছেলে দুবেলা ভাত খেতে পারেনা, শ্রমের বিনিময় খিস্তি খায় বিপিএল কার্ড চেয়ে, সে কি দলিত নয়?

যে তপশীলি  ছেলেটির বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করে, ঘুষ খায়, সরকারি আবাসনে থাকে, সে ও দলিত তবে?

যে সংখ্যালঘু পরিবার, সেই পাড়াতে সংখ্যাগুরুদের হুমকি খেয়ে পাড়ার একটা দোকান কোনক্রমে চালায়, সে দলিত নয়?

দলিত কি শুধুই ভোট? পেট এ লাথি খাওয়া, পুলিস এর কাছে খিস্তি খাওয়া, বস্তার, কালাহান্ডি তে প্রচন্ড রাগ এ ফেটে পরা যুবক নয়?

মণিপুর এর মেয়েটি যাকে রোজ কাপড় খুলে প্রমান করতে হয় সে মানব বোমা নয়, সে ও ভারতীয়, সে দলিত নয়?

রোদ-জল-বন্যা তে দু মুঠো চালের খোঁজে লড়াই করা "প্রজাতন্ত্র থেকে কিচ্ছু টি না পাওয়া" সমস্ত প্রজাই তো পদ-দলিত।

প্রজাতান্ত্রিক এই দেশ এ অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণ এর লড়াই। চাই। চিৎকার টা দরকারি হয়ে পরে ব্রাহ্মণ্যবাদ ও দলিতবাদ থেকে মনুষ্যবাদ এর লড়াই লড়তে।

কেউ যদি বেশি খায়, খাওয়ার হিসেব নাও,
কেন না অনেক লোক ভালো করে খায় না।

Sunday, January 15, 2017

| বাঙালি নির্বাচন |

যে সমস্ত মানুষ কুসুম সমেত তিনটে ডিম সেদ্ধ খায় না,

হাত দিয়ে মেখে মাংস ভাত খায় না ও খাওয়ার পর হাত চেটে ঝোল খায় না,

মুরগির ঠ্যাং কুচি কুচি করে চিবিয়ে, বোন ম্যারো সুরুৎ করে চুষে নেয় না,

যারা কাঁটাওয়ালা মাছ খেয়ে, বীরের মত থালার সাইডে কাঁটা সাজিয়ে রাখেনা,

যারা বিরিয়ানির পর থামস আপ খেয়ে আওয়াজ করে রাম ঢেকুর তোলে না,

যারা রাম, সেদ্ধ ছোলা, ডিমের পকোড়া দেখে নাক সিঁটকোয় আর বিনি পয়সাতে ফ্লেবারড ভটকা দেখে হাবাতের মত বার কাউন্টার এ লাইন দেয়,

তারা বাঙালির নামে কালি। জ্যোতি বাবুর ধুতিতে, মমতার শাড়িতে, নবান্ন-র দেওয়ালে।

এরা জাহান্নম বা নরক যেখানেই যাক, এদের পেঁয়াজ, কাঁচা লংকা,আদা, রসুন, ডিমের গোলা মাখিয়ে ছাকা তেল এ ডিপ ফ্রাই করা উচিত।

ট্যাঁস ছাড়া শুয়োর বা গরুর স্বাদই আলাদা।

-- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| আমার বারবেলা |

আলুথালু থ্যাতলানো লাল টিপ, সাদা শাড়ি গায়ে চড়িয়ে হেঁটে চলা তুলতুলে নরম ডিমসেদ্ধ ফালি করে শোয়ানো, ওপরে গোলমরিচ, ঝাল নুন, ধনে পাতা ছড়ানো। ধবধবে সাদা প্লেটে ৮ পিস শুয়ে।

চাটুতে রোষ্ট করা পাপড়, স্টিলের বাটিতে নুন পেঁয়াজ মাখানো বাদাম।

পাশে ধনে পাতা, লাল লংকা, পুদিনা, রসুন, মরিচ সোহাগ করে বাটা চাটনি। করাচির মত সবুজ, হীনা রাব্বানি খার এর মত নেশা ধরানো।

অর্ধেক মুরগী মারাঠি মশলা মাখানো, আদুরে তন্দুর এ আধো আধো ঝলসাও, লেবু মাখাও, পুদিনার প্রলেপ লাগাও। অবিন্যস্ততা সহ ঘেমো পরিবেশন।

খুব গভীর ভাবে তাকিয়ে থাকা লাল ঘোলাটে রাম। এক বোতল। সাথে স্বচ্ছ বরফ কুচি, কোলা, ঠান্ডা জল। গ্নাসের গায়ে জলের বিন্দু। ঠোঁটে লাগা ঠান্ডা, অল্প যদিও।

বাকিটা অতল খোঁজা। আরো গভীরতর। বাদামের একটা টুকরো গেলাসের নিচে পরে থাকে যেমন। রাম, জল, বরফ, চুমুক এর নিচে, অস্থিরতায়। তার ও নিচে। আরো অতল খোঁজার আকুতি।

আমার "বার" বেলা।

Happy New Year 2017.

অনেক গুলো একই রকম বছর কাটিয়ে ফেলার পর ২০১৬ আক্ষরিক অর্থতেই আমার কাছে ঘটনাবহুল।

আয়ে মারম্ভ শুভায় ভবতু। Let the Beginning be auspicious!

এবিপি আনন্দ তে চার বছর কাজ করেছি, হাঁপিয়ে উঠছি "Growth" এর খোঁজে, এমন সময় দৈবের বশে টাইমস নাও থেকে ডাক পেলাম। অর্ণব গোস্বামী বললো, বম্বে এসো। কাজ শুরু করো। আমিও মন কে প্রস্তুত হতে বললাম।

আমার প্রথম সব গোপন কথা পুষে রাখার শহর কলকাতা কে ছেড়ে, বিমানবন্দর এ নিজের মানুষ গুলোকে কাঁদিয়ে মুম্বাই পাড়ি দিলাম।

আমার কলেজ জীবনের বন্ধু Monalisa Chatterjee Ghosh, ঘটনাচক্রে আমার স্ত্রী ও, তার অফিস কলকাতাতেই, তাকে একা রেখে চলে এলাম। একা করে দিলাম আমার হন্ডা এক্টিভা স্কুটি, রাতের সফর।

এবিপি আনন্দেও তো অনেক কিছু  রেখে এলাম। গড়িয়াহাট মলের প্রত্যেক দেওয়াল, আলো, আর মানুষজন যে আমার খুব পরিচিত। আর ওই বন্ধুরা? দাদাগুলো? প্রেস ক্লাব? বা অনুপমের ওই ভাড়া বাড়ি?

প্রতি রবিবার আড্ডা মারার আস্তানা, যাদবপুর সেট্রাল রোডে পূর্বিতার বাড়ি, জয়, ঈন্দ্র? তথা, উরমি?

নাকতলা আর নরেন্দ্রপুরের মানুষ গুলোকেও তো ছেড়ে এলাম। ঠাকুমা, দিদা।

মুম্বাই এসে বিশ্বমানের টেলিভিশন এর কাজ শিখলাম, সাংবাদিকতার আধুনিক পাঠ নিলাম, বিশাল ক্যানভাস এ কাজ করার সুযোগ। ও হ্যা, নিজের প্রথম বাইলাইন টাও পেলাম টাইমস এর সাংবাদিক হিসেবে।

এর মাঝে আমার জীবন অনেক বদলে গেছে। পেয়িং গেষ্ট হয়ে থাকতে শিখেছি, জ্বর হলে একা ট্যাবলেট আর জলপট্টি। ধন্যবাদ তো সৌভিক এর ও প্রাপ্য।  আমার প্রথম গার্জেন এই অচেনা শহর এ।

অনেকগুলো গলার কাছে কান্নার মাঝে, একটা বিশাল শহর পেলাম। যোগ্যতাকে তারিফ করে যে শহর, শ্রম এর সঠিক মূল্য দেয় যে শহর, মুরি আর মুরখি আলাদা বাটিতে রাখতে জানে যে শহর। বম্বে শহর এ আমার সাত মাস।

বম্বে আমাকে শক্ত হতে শিখিয়েছ, লোভ বেড়েছে কারন দেখেছি যত কাজ করবে তার যোগ্য পারিশ্রমিক পাবে। আর এর কোন শেষ সংখ্যা নেই।

২০১৭ আমার আবার নতুন করে শুরু করার বছর। ইংলিশ,হিন্দি তে লেখা সব নতুন মাইল ফলক। রান লোলা রান।

বম্বে তে একটা ছোট্ট ফ্ল্যাট নিচ্ছি, বউ আসবে। এখানে সব সাংবাদিকরাই দেখি ভিজিটিং কার্ড রাখে পকেটে। আমিও রাখা শুরু করলাম। আর মুম্বাই প্রেস ক্লাব এর মেম্বার হওয়ার দরখাস্ত ও করলাম।

একটা বিরাট বিপ্লব এর স্বপ্ন আজ ও দেখি। স্বপ্ন দেখতে ভালোই লাগে। স্বপ্ন সত্যি করার প্রতিস্পর্ধা।

অপেক্ষায় থেকো আমার ভিটে, আমার পাড়া, লেপ এর তলার উষ্ণীষ, মধ্যরাতের ফ্লাইওভার। আমি ফিরবো।

নতুন বছর সবার শুভ হোক।
Happy New Year 2017.

| লাভ ইন দা টাইম অফ ডিমুদ্রিকরন |

গোটা দেশ যখন পরি কি মরি করে আধ কাটা দাড়ি আর আধ ধোয়া নিতম্ব নিয়ে ডিজিটাল হচ্ছে, আমরা বর-বউ কেন পিছিয়ে থাকি? লাভ ইন টাইম ওফ ওয়ার যদি হয় লাভ ইন টাইম অফ ডিমুদ্রিকরন কেন হইবে না? আসা যাওয়ার মাঝে বাঙালি দম্পতির প্রেম বিনিময় বাপুজি কেক এই কেন আটকে থাকবে? মেরা দেশ বদল রাহা হ্যা! এখন পায়ে বাঁধা প্রেমপত্র নিয়ে আর কবুতর আসেনা। তারা বাইকে চেপে, বাক্স হাতে আসে। কমিশন এর টাকা পেটিএম এ পায়। গল্প ঠিক সেখান থেকে শুরু।

'হ্যাপিনেস' কখনো সখনো বাক্সবন্দি হয়ে আসে। তাতে ছটা সাহেবি বানরুটি নানা রকম 'সিনফুল' জিনিস পেটে ঠাসা, উপরে চকোলেট, ক্যারামেলাইজ ক্রিম, শুকনো ফল বা চিজ দিয়ে আঁকা হাসিমুখ।

'হ্যাপিনেস' এর আর এক নাম চমকে দেওয়া উপহার। মুম্বাই এর কোন অফিসে পৌছে যাওয়া স্ত্রী Monalisa Chatterjee Ghosh এর বাক্সবন্দি ভালোবাসা, হাত এ হাত শক্ত করে ধরা, দারুণ মন খারাপি নিরোধক ছটা ডোনাট।

'হ্যাপিনেস' আজ সন্ধেবেলা এসেছিল। একটা বেঁটেখাটো ঝগড়াটে দুপুর,হাপুসহুপুস কান্না কাঁদে মন কিন্তু জিভে ভিষন রাগ ওঠা দুপুরের তরজার শেষে মোনালিসা কলকাতা বসে সুইগি থেকে অর্ডার দিয়েছিল 'ম্যাড এবাউট ডোনাট' এর এক বাক্সজাত 'হ্যাপিনেস'। সাথে এই ছবিটা আর বাকিটা ব্যক্তিগত কিছু খুনসুটি যা মুচকি হাসিয়ে দেয়।

কিছু 'হ্যাপিনেস' ওষ্ঠে শান্তি পায়, কিছু এভাবে। এতে অনেকটা চুমু বরাদ্দ থাকে গল্পের শেষে। লাস্ট  সিন এ ডোনাট মাখামাখি প্রেম করতে করতে মুম্বাই এর রাস্তা দিয়ে চলেছে দুজন। ড্রিম সিকুয়েন্স। পেছনে পিয়ানোর আবহ। আশপাশ এ তখনো হাজার মানুষ এটিএম এর লাইন, নোট এর হাহাকার, বিমুদ্রাকরনের বিরুদ্ধতায় মিছিলে সুর চড়াচ্ছে। চারিদিকে বারুদ আর গরম গরম সদ্য বেক হওয়া ডোনাট এর গন্ধ।

"কবুতর" তখন সুইগির জামা পরে, ঘেমে নেয়ে প্রবল বেগে আর এক বাড়িতে 'হ্যাপিনেস' ডেলিভার করতে যাচ্ছে। পেটিএম ছেড়ে আঙ্গুল তখন আঙ্গুলে মিশেছে, ঠোঁট চকোলেট এ। লাভ ইন দা টাইম অফ ডিমুদ্রিকরন।

------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Wednesday, December 28, 2016

| সিনেমা হলে সিরিয়াল ব্লাস্ট, সিটের নিচে ধুলাগড় |

বম্বে একটা অদ্ভুত মায়াবী শহর। এর শরীর জুরে একরাশ গল্প ছাপা। এ শহরের সমস্ত কিছুতেই গল্প বুঁনে রাখা। সমস্ত দালান কোন ইতিহাস বহন করে চলেছে। সমস্ত রাস্তার নাম কোন উত্তরাধিকার সযত্নে বহন করে চলেছে। বা কোন গভীর ক্ষত। এ শহর সমস্ত টা দিব্বি নিজের মতো গল্পে বাঁচিয়ে রেখেছে।

আমি একা সিনেমা দেখতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যস্ত। ভারি গায়ে লাগে মাল্টিপ্লেক্স এ ৫০০টাকা খরচ করতে একার জন্য। তাছাড়া ছোটবেলা থেকে সিঙ্গিল স্ক্রিন যে আমায় দারুন হাতছানি দেয়।

সিঙ্গিল স্ক্রিনে ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার থাকে।সেখানে যে ফিল্ম দেখে স্ক্রিন ঝাপসা হয়ে আসে ও ফুঁপিয়ে কান্না ঝরে, সেই ছবি অসাধারণ।

অন্ধকার হলে, প্রজেক্টার এর দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে নাকি ম্যাজিক এর মতো টাইম মেশিনে চড়ে বসে যে কোন সময় নিয়ে আসা যায় সেলুলয়েডে।

আমার বাবা আমাকে প্রথম সিনেমা হলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় বান্টিতে। বান্টি একটি হলের নাম ছিল। ক্রমে গোটা এলাকার নাম হয়ে যায় বান্টি। নাকতলার পরের স্টপ। যেখানে হালে মেট্রো স্টেশন হয়েছে।
বান্টি তে জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র দেখি খুদা গাওয়া! তিন ঘন্টা অপলক দৃষ্টিতে মানুষগুলো তাকিয়ে থাকতো স্ক্রিনের দিকে।নেশা ওখানেই শুরু।

তখন আইনক্স ছিল না। থাকার মধ্যে আমার দুনিয়া জুড়ে ছিল বান্টি, মহুয়া, পদ্মশ্রী,মধুবন, মালঞ্চ। দক্ষিণ কলকাতার ছেলে আমি। আগাগোড়া গড়িয়া।

কাঠের চেয়ার, ঘুটঘুটে অন্ধকার হল, টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সিট দেখিয়ে দেওয়া, সস্তার টিকিট এ মার্কার দিয়ে লেখা সিট নম্বর, ইন্টারভ্যালে প্যাটিস। আমার এক নিমেষে হিপনোটাইস এর যন্ত্র ছিল সেলুলয়েড।

আমার দারুণ লাগে সিনেমা হলের ওই ভোঁটকা গন্ধ। হলে ওই EXIT লেখা আর চারপাশের অন্ধকার। ওখানে নাকি সপ্তাহে সপ্তাহে স্বপ্ন দেখা যায়। স্বপ্নে নায়ক অমর হয়ে যায় আর হল মালিক নিঃস্ব।

বম্বে শহর এ আমার ভাড়াবাড়ির ঠিক পাশেই একটা দারুণ সিনেমা হল আবিষ্কার করেছি। দাদুলদা দের প্রিয়ার মতো ঝকঝকে তকতকে। দোতলার সিট ১৫০ টাকা। বম্বের তুলনায় সস্তায় পুষ্টিকর।

প্রতি সপ্তাহে একটা ছবি বাঁধা। সাথে টুকটাক। আর বাকিটা ওই অন্ধকার ঘরটা। নেশার মতো। অফিসে আমার এই আবিষ্কার নিয়ে আজ কথা হচ্ছিল। আমাদের অফিসেই এক  প্রবীণ মারাঠি সাংবাদিক আমায় খুব স্নেহ করেন। শুনে টুনে বললেন, প্লাজা তে আমরা ও বহু ছবি দেখেছি। বাড়ি থেকে মারাঠি ছবি দেখতে যেতাম। তারপর আর যেতে পারিনা। পুরনো কথা মনে পরে, অর্ধেক শরীর উড়ে যাওয়া বন্ধুর কথা।

আমি মাঝপথে থামিয়ে দিই। মানে?

প্রবীণ মারাঠি ভদ্রলোক বলেন, বাবু, প্লাজা সিনেমা ৯৩' সিরিয়াল বম্ব ব্লাস্ট এর একটা টার্গেট ছিল। সিটের নিচে আরডিএক্স রেখে দেওয়া হুয়েছিল ওই অন্ধকার ঘরটায়। অন্ধকার হলে, প্রজেক্টার এর দিকে একটানা তাকিয়ে থাকা লোক গুলো টের ও পায়নি। ম্যাজিক এর মতো সেলুলয়েডে বুঁদ হয়েছিল। ৫৩ জন মানুষ মারা যায় ওই বিস্ফারণ এ। প্লাজা সিনেমা তে।

প্লাজা তে লিওপল্টের মতো বন্দুক এর চিহ্ন স্বযত্ন রাখা নেই। রাখার মধ্যে প্রচুর পুরনো ছবির সিলভার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি স্মারক। আর ভারি অদ্ভুত নেশাতুর চারপাশ।

অন্ধকার ওই ঘর স্বপ্ন দেখায়। যারা ওই স্বপ্ন কে খুন করে, তারা কাপুরুষই। তাদের কোন মতবাদের দোহাই দিয়েই বিপ্লবী বা স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতে পারবো না।

আমার রাজ্যেও এই ধরনের কিছু মানুষ ঢুকে পরেছে। যারা কিছু টাকার বিনিময় সিটের তলায় বোম বা নিচের পেটে বেল্ট বেঁধে উড়িয়ে দিতে পারে আমার সমস্ত স্বপ্ন। তারা আমার বন্ধু নয়, তারা গান ভালোবাসে না, ভালো গরুর মাংস কষা রান্না করতে জানে না। এরা ঘটনা চক্রে কোন নির্দিষ্ট ধর্ম মেনে চলে। বাকিটা খুব খারাপ কিছু গুরুর আয়াত। মানুষ এ মানুষ এ লড়াই করার ফতোয়া।

আমার দেশের চূড়ামণি ও অনেকটা এরকম। ত্রিশূল শান নিচ্ছে প্রতিদিন। কি জানি এর মাঝে আমাদের ছবি দেখা গুলো কবে প্রচন্ড বিস্ফারণ এর শব্দে লাশ এ বদলে যাবে। মুম্বাই এর প্লাজা তে বিস্ফারণ নাকি কোন মসজিদ গুড়িয়ে দেওয়ার বদলা ছিল। কিন্তু হাওড়া?

সিটের নিচে বোমা রাখা। টিক টিক টিক টিক হয়েই চলেছে। দিদি শুনতে পাচ্ছো?

----ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Wednesday, December 21, 2016

প্রতিস্পর্ধা

প্রতি প্রশ্নে প্রতিস্পর্ধা/রাষ্ট্র প্রতিপক্ষ যার,
ভোটের আগে বরাদ্দ হয়,এনকাউন্টার।

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Monday, November 28, 2016

বিলম্বে বিমান উদয়: প্রফেট চদ্রিল

চন্দ্রিল দা কাল আনন্দবাজার পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয়তে বিমান বাবু বা সিপিএম এর কোমায় চলে যাওয়া নিয়ে যা লিখেছিল, তাতে বহু দলীয় সদস্য কাঁচা খিস্তি শুরু করেছিল। হেব্বি সব চকচকে গাল দেওয়া হচ্ছিল ও কেন এই হরতাল ঠিক তার বিবরন দেওয়া হচ্ছিল। প্রবীণ নেতা কে খাস্তা করা তাদের অতি তাত্বিক মস্তিস্কে রক্তক্ষরনের সামিল ছিল।

আজ সর্বহারার মহান নেতা শ্রী বিমান বসু মেনে নিলেন যে হরতাল বিফল হয়েছে, খুব কম সময়ে ডাকা এই হরতাল সফল হয়নি। তাঁদের বিচার বিবেচনা করে দেখতে হবে এই নিয়ে। এটি একটি জটিল বিষয়। অত সহজ নয়।

সাবাস কমরেড! বিশাল এক বেড়াল ফোলালেন, ভাবলেন বাঘ হয়েছেন, লালন পালন করলেন তাকে, বিপ্লবী ভাষণ ছাড়লেন সর্বহারার প্রতিনিধি হয়ে ওঠার আর শেষমেষ ঘ্রোঁয়াও ক্রমাগত মিয়াওঁ এ বদলে গেল। তারপর ঢোঁক গিলে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। সেই কবে জননেতা বুদ্ধ বাবু হাত জোর ক রেছিলেন, ব্যস হা রে রে করে মধ্যমেধা সব নামিলো ক্ষমা চাইতে। যাই হোক সরি দাদা।

বিশাল সব নেতা। পাড়ার মোড়ের বিপ্লবী। দল বলেছে হরতাল হবে, বেশ! চল শালা বিপ্লবের কল এসেছে। এই পবিত্র কাজ যদি না করতে পারি তবে মেম্বারশিপ নিয়ে কি হল এই অশান্ত সময়ে?

মনে করিয়ে দিই, কাল আনন্দবাজার এ প্রফেট চন্দ্রিল লিখেছিলেন যা ফাস্ট হুবহু তুলে দিলাম।

" কী বিপদে না পড়লাম! যারা মোদীর এই নোট বাতিলের যাত্রাপালার পক্ষে, তারা সব্বাই হয়ে গেল বিজেপি। আর যারা বিপক্ষে, সব্বাই হয়ে গেল তৃণমূল। আমরা পড়ে রইলাম মাঝামাঝি, ঝুলন্ত, ঝুল। একটু-আধটু চোপা করছি, ভান করছি যেন আমাদের ঘটেও বুদ্ধি খেলছে জিভে গজাচ্ছে চাড্ডি জ্বালাময়ী দড়াম, আমাদেরও আছে কর্মসূচি নেওয়ার ধক ও প্ল্যান। কিন্তু কী করব? মমতা আগেই এমন পালে হাওয়া লাগিয়ে বসে আছেন, এত দ্রুত উনি হইহইটা শুরু করে দিতে পারেন, তত দুদ্দাড়িয়ে আমাদের মিটিং-এর ঘরের তালা অবধি খোলা হয় না। কাজেই যত ক্ষণে উনি কোমর বেঁধে এটিএম-এর সামনে, তত ক্ষণে আমাদের ঢুলুন্তি মগজ সিধে হয়ে শুধু চোখ গোলগোলিয়ে দেখছে মাত্তর, লেনিনকে পেন্নাম ঠুকে প্রাথমিক গলা-খাঁকারিই শেষ হয়নি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আমরা ভেবে বের করলাম আশ্চর্য ঘনঘটা: বন্‌ধ ডাকব। লোকে শুনে শিউরে উঠল। আজি হতে শতবর্ষ আগেও এই পার্টি প্রতিবাদ করতে হলে সহস্র মাথা চুলকে সেই বন্‌ধই ডাকত, এখনও চিন্তা-দেওয়ালে মাথা কুটে সেই বন্‌ধই ডাকছে। কী ব্রেন-বিবর্তন!"

কি ভুল বলেছিল? আজ তো আপনি নিজেই বলে দিলেন ভুল ভুল সবই ভুল। পুঁজিবাদী আনন্দবাজার খঁক খঁক করে খিল্লি নিচ্ছে নিশ্চয়। টিএমসি তো কবেই দুদু ভাতু করে দিয়েছে আপনাদের, এখন সর্বহারার ও খিল্লি টপিক না হয়ে যান।

সবাইকে মিডিয়া ফ্রেন্ডলি হতেই হবে কেউ দিব্বি দেয়নি কিন্তু একই মানুষ যদি একই ভুল বারবার করে?

মশাই আপনারা নিজেরা একে কনফিউজড টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি, তার উপর স্থবির আর মিনিটে মিনিটে স্বীকার করেন নিজেদের ভুল। বুকে হাত রেখে বলুন তো ফিদেল বা লেনিন এরকম লিডার হলে বিপ্লব কি হত? জ্যোতি বাবু যদি সিদ্ধান্তহীন হতেন ২৫ বছরভর লাল পতাকা
থাকতো?

এরপর ও বন্ধু বলবেন মমতা কেন এত সফল? কেন মোদি হিট? লিডারশীপ বাওয়া!

দেওয়াল লিখন পরিস্কার! মায়োপিয়া থাকলে চশমা পাল্টান আর পারলে ধারনা। দুনিয়া বদলেছে, আম্বানিরা এখন অনেক ক্ষমতাশালী, আপনি রিপ ভ্যান উইংকিল। বাঁশি বাজাচ্ছেন যাচ্ছেতাই আর তাতেই ইদুঁরের দল পিল পিল করে গা এ গা ধা এ ধা মেলাচ্ছে। কেউ মাথা খাটাচ্ছে না। কেউ অন্য সুর এ কথা বলছে না।

ফিদেল আপনি ঘুমান। আমরা এই অবস্থা দেখবো বলে জেগে থাকি। স্বপ্ন দেখি।

পুনশ্চ: আমি শ্রেণিশত্রু, পাতিবুর্জোয়া, তিনোমূলি বা চাড্ডী নই। আরো খারাপ। আপনারা অযাচিত ভালো। হবেন না। প্লিজ।

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Tuesday, November 15, 2016

| সাব-অল্টার্ন,নোট পাল্টান ও কোল্যাটেরাল যা কিছু |

আমাদের প্রধানমন্ত্রী ধাপ্পা দিতে হেব্বি ভালোবাসেন। ছেলেবেলার ধাপ্পা খেলা। পেছন থেকে অতর্কিতে এসে কাউকে চমকে দেওয়া আর সে সত্যি মিথ্যে বুঝে ওঠার আগেই সজোর চ্যাঁচানো "ধাপ্পায়ায়ায়ায়ায়ায়া"।

দেশের সাংবাদিককুল ও এডিটর রাতের হ্যান্ডওভার ও প্ল্যানিং এ যখন একগুচ্ছ ক্লিনটন ও ট্রাম্প এর কভারেজ গুঁজছে, তখনই মোদীজির ধাপ্পায়ায়ায়ায়ায়ায়া। চমক। বুকের সাইজ নিয়ে কোন প্রশ্ন হবেনা। এই ধাপ্পার কোল্যাটেরাল ড্যামেজ নিয়ে হবে।

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ার ফলে আমাদের সমস্যা হবে। তবে যাদের পেটে সপাটে লাথিটা পরলো তারা আমাদের চারিপাশ ছাইপাশ মানুষগুলো।যারা দিন আনে, দিন খায়।

আজ আমার চোখের সামনেই যেরকম দেখলাম। লোয়ার পরেল এর টাইমস নাউ অফিস এর ক্যান্টিন টা বিশাল। ইটি নাউ,জুম, রেডিও মিরচি সহ সবার খাবার জায়গা। মহান প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা শেষ, নিউজ আওয়ার ও খতম, খেতে এসেছি ক্যান্টিন এ। আমার সাথেই খাবার জন্য দাঁড়িয়েছে এক রাজ মিস্ত্রি। ৫০ টাকার মিল খাবে। রাতে সাংবাদিক সহ সবাই চলে গেলে এদের কাজ করতে হয়। এখানেই খাবার খায়।

আজ একটা ৫০০ টাকার চকচকে নোট, একটাই নোট নিয়ে খেতে এলো। ভাত, চারটে রুটি, ডাল, আলুর দম, একটা সব্জি, ভাজা, মিল্ক পাউডার এর ক্ষীর। ৫০ টাকা। রাজা প্রজার পুষ্টিকর খাদ্য।

সবে ৫০০ টাকাটা দিয়েছে, আমাদের ক্যান্টিন এর ছেলেটি বলে উঠলো,  ক্যা ইয়ার টিভি ভি নেহি দেখতে? ৫০০ টাকা আর বৈধ নয়। এই সব নোট বাতিল। ব্যাংক এ বদলে আনো। ১০০ টাকার নোট দাও, খাবার নাও বা নাম লিখে রাখছি, কাল দিও টাকা। মিস্ত্রির মুখ চুন, এক পেট খিদে। জন ধন প্রকল্পে নাম আছে কিনা জানা নেই। আপাতত ধন বলতে ৫০০ টাকা। খালি পেটে মাথা বেশি গরম হয়। শোনা যায় নাকি এরকমই এক নভেম্বর মাসে পেটে খিদে নিয়ে কিছু মানুষ দুম করে বিপ্লব করে ফেলেছিল। 

মিস্ত্রি ভদ্রলোক কাঁপতে কাঁপতে চেঁচিয়ে উঠলো,  সারাদিন কাজ করবো না টিভি চালিয়ে বসে থাকবো? তারপর এক ঝটকায় পেছন ঘুরে হন হন করে হাঁটা দিল। ক্যান্টিন এর ছেলেটি কিন্তু শ্রেণিশত্রু নয়। ও ডাকার চেষ্টা করেছিল আর মাইরি বলছি, প্রাথমিক বমকে যাওয়া কাটিয়ে উঠে আমিও বাইরে বেড়িয়ে খুঁজেছিলাম কিন্তু সে কোথাও নেই। এখন নোওয়ান লুক ব্যাক ইন Anger হয়তো।

এতটা লিখলাম একটাই কারনে। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ার ফলে আমাদের সমস্যা হবে। তবে যাদের পেটে সপাটে লাথিটা পরলো তারা আমাদের চারিপাশ ছাইপাশ মানুষগুলো।যারা দিন আনে, দিন খায়ে।

দয়া করে অতি চালাক হয়ে কেউ নিজের আশে পাশের সব্জি মাসি, মাছওয়ালা, কাজের দিদিকে এই সুযোগ এ ৫০০ টাকা গছিয়ে দিয়ে নিজে দায়মুক্ত হবেন না। বিশ্বাস করুন ওই লাথি টা ক্যাঁৎ করে লাগবে পেটে। এক পেট খিদে, সারাদিনের ঘাম, অপমান, রক্তবমি করে ফেলতে পারে। মোছার লোক থাকবে না।

আসলে আমরা যারা ছেঁড়া, ফাটা নোট প্রথমেই ওদের গছিয়ে দিই, চুরি গেলেই ওদের ঝোলা সার্চ করাই, আবার প্রবল খাটিয়ে মোক্যাম্বোতে খাওয়াতে নিয়ে যাই তারাই এটা করবো।

আমরা যারা আজন্ম মধ্যবিত্ত হয়ে গাড়িয়া থেকে বিবাদি বাগ মিনিতে করে গেলাম, মেট্রোতে বিহারি মুটে উঠতে দেখলে নাক শিঁটকে গেলাম আর বলাবলি করতে থাকলাম তাদের থুতু ফেলার বদ অভ্যাস নিয়ে, আমরা যারা কেউ দেখছে না ভেবে নাকের পোটা বা চিউয়িং গাম হোটেলের দেওয়াল বা রেঁস্তরা টেবিল এ চিপকে দিই, আমরা যারা পূজোর বাজার করতে কোয়েস্ট মল যাই আর ফেরার পথে গড়িয়াহাটার ফুটপাথ থেকে মালতীদির জন্য তিনশো টাকার শাড়ি কিনি।তারাই এটা করবো।

আমরা বাসে উঠেই ঘেমো গন্ধকে ঘৃণা করিনা? বা যে গ্রামের মেয়েটি প্রথম বাসে উঠে টানা বমি করে চলে তাকে উপদেশ দিই না টাক্সি করে যাওয়ার? সাথে আবার জানালার ধারে বসার টোটকা ও তো দিই বিনামূল্যে।

কারন আমরা ধনীদের ভয় পাই। গরীবের পেছন মেরে শান্তিতে ঘুমাই। একটা ডায়েট কোক ৩০ টাকা দিয়ে কিনি, থাকে ২০০এমএল, বাকিটা প্যাকেজিং। আর একটা ডাব ২৫টাকা শুনলেই বাব্বা, এত দাম!!

৫০০ টাকার সাথে সাথে এ সব ও যদি বদলানো যেত।

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Wednesday, November 2, 2016

আপনাকে

জুন মাসের মাঝামাঝি যখন আমি আনন্দবাজার গোষ্ঠীর খবরের চ্যানেল এবিপি আনন্দ থেকে বিদায় নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করছি, এক সন্ধেবেলা শুলনাম অভীক বাবু, আনন্দবাজার গোষ্ঠীর প্রধান সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন। আমাদের কিছু এসে যাবেনা কিন্তু বাঙালির অনেক কিছু এসে যাবে।

চমকে গেছিলাম শুনে। মেনে নেওয়া টা সহজ নয়। আজন্মকাল আনন্দবাজার এর শেষ পাতায় নাম, মাটিতে লুটোচ্ছে ধুতি, বিশাল সম্পাদকীয় প্রতিপত্তি, আদ্যোপান্ত ভিক্টোরিয়ান বাঙালি। আমার মত সাব-অল্টারনেটস দের কাছে ব্যাপার একটা। মানে যেটা হ্যাংলামির কাছাকাছি আরকি।

অভীক বাবুর চলে যাওয়া আমায় বুঝতে শিখিয়ে ছিল যে নিজের ভাবনা চিন্তা, ধ্যান, ধারণা আরো আরো ফ্লেক্সিবিল ও সময় এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হবে। পাথর এর মত স্থিত, স্থবির হয়েছো কি কম্পালসারি ওয়েটিংরুম বরাদ্দ।

আরবসাগর এর পাশে কমলা মিলস নামক যে বিশাল জায়গাতে টাইমস নাও এর অফিস সেখানেও সেই মন্ত্রেই দিক্ষিত হয়েছিল একটা গোটা প্রজন্ম।  যাদের বয়স ২৩ থেকে ৩৩। হ্যা এটাই টাইমস নাও এর সম্পাদকীয় মানব সম্পদের গড় বয়স। টেবিল রিপোর্ট করছে, ফোন এ প্রধান অভিযুক্তকে চোখা চোখা প্রশ্ন ছুঁড়ছে, দেশের এজেন্ডা সেট করছে, শো এর গেস্ট ঠিক করছে পাকিস্তান বা লন্ডন থেকে বা কোন নেতা কে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে।

এই সব টাই ২৩ থেকে ৩৩। এখানে সংবাদমাধ্যম এর সংগা রোজ বদল হয়েছে, ব্যাকরণ দুমড়েছে, লুটিয়ান দিল্লীর ফর্মালিটি বদলে এসেছে মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখা কিছু দামাল ছেলে মেয়ের দাপাদাপি।  যারা ইংলিশ, হিন্দি, বাংলা, অহমিয়া, তামিল মিশিয়ে এক অদ্ভুত ভাষাতে কথা বলে, বাকিটা হাসি আর লজ্জা,ঘেন্না, ভয় ভুলে খবরদারি করা।

পুরোটাই শিখিয়েছিল যে, সাহস জুগিয়েছে যে, ছক ভেঙে চোখ এ চোখ রেখে প্রশ্ন করার, সে ১৮ই নভেম্বর ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেল।

দু বছর সাংবাদিকতা পড়েছি কলকাতায়, কিন্তু আসল শেখাটা বোধহয় প্রাথমিক ভাবে আনন্দবাজার আর বাকিটা ওই অহমিয়া ভদ্রলোক এর কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ যা শিখিয়েছে আমার শহর তাতে ৮০র দশকের দূরদর্শন এ কাজ মিললেও মিলতে পারে।

অশান্ত সমুদ্রে সাঁতার কাটা সহজ নয়। কিন্তু সেটাই তো নতুন প্রজন্মকে শেখাতে চেয়েছে এরা। প্রজন্ম যারা ফোর জি তে আছে, যারা ডিজিটাল স্ট্রিমিং করে, হ্যাশট্যাগ এ কথা বলে আর ভবিষ্যৎ এর ৭০% মিডিয়া যারা নিয়ন্ত্রণ করবে।

এদের সেলাম ঠুকলে কি খুব আদিখ্যেতা হবে?