কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Tuesday, December 12, 2017

| দাঁত অচ্ছে হে |

| দাঁত অচ্ছে হে |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

#বংযাত্রীরবম্বেডায়েরি

দাঁত অনেকটা অফিসের নিঃশব্দ দক্ষ কর্মীটির মত। ঠিক সময়ে আসে, টিফিনবাক্স নিয়ে ক্যান্টিনে চলে যায়, নো ননসেন্স, নির্দিষ্ট কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যাওয়ার মত। টুঁ শব্দ থাকে না। সচারচর সাতদিনের ছুটি নিয়ে পুরী ঘুরতে না গেলে বা অসুস্থ হয়ে বাড়ি বসে না গেলে, বোঝা যায় না তার গুরুত্ব।

বাঙালি চোঁয়া ঢেকুর আর অম্বলজনিত অসুখ নিয়ে এতটাই ব্যাস্ত থাকে আজীবন যে ওই দাঁতকে আর যত্ন বা প্রমোশন দেওয়া হয়না। যেমন সব চেয়ে হাঁই হাঁই করে যে কর্মীটি, বসেদের সব কথায় ইয়েস স্যার বলে যে কর্মীটি, ফোঁপরদালালি আর একে ওকে কাঠি করে ঘুরে বেড়ায় যে, সে ওই চোঁয়া ঢেকুর আর অম্বলের মত। যতক্ষণ আছে, যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসলে হজমিগুলি আর ইনোতেই দু মিনিটে দমন।

দাঁত যে ব্যাথা দেয় তা দমন করার ক্ষমতা মধ্যবিত্তের নেই। সে ব্যাথা অনেকটা নষ্ট হতে থাকা দাম্পত্যের মত। ভিতর থেকে ক্ষয় হচ্ছে দীর্ঘকাল, জীবাণু ও ছিল, কিন্তু যতক্ষণ না ফুঁলে ঢোল হচ্ছে, অমানুষিক ব্যাথা হচ্ছে, থেকে যেতে হয়। উপড়ে তো দেওয়াই যায় যখন তখন।

এখন আর উপড়ে ফেলতে নেই। রুট ক্যানাল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁত না ফেলে দাঁতের ব্যাথা সম্পূর্ণ কমিয়ে দাঁতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সম্পর্কচ্ছেদের পর ফের দিব্বি এক সাথে কফি শপে কথা, চাপা দোষারোপ শেষে একসাথে আগের মত থাকার মত।

আমার একটি মোলার টুথ বহুদিন ধরে জ্বালাছিল। সাথে অমানুষিক ব্যাথা। তো আমিও রুট ক্যানাল ধরেই শান্তি পথ খুঁজছি। শীতকাল এসে গেছে, দাঁতের গোঁড়ায় হু হু যন্ত্রণার অনুশোচনা থেকে যাবে নয়তো।

বম্বের ডাক্তারদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, এরা সবাই পেশাদারী বিপণনী সংস্থার সাহায্য নেন পশার বাড়াতে। অর্থাৎ যিনি রিয়েল ট্যালেন্ট তিনিও বিজ্ঞাপনে সদা হাস্য, যিনি ফটকাবাজি তিনি ও। Yardstick অগত্যা হতে হয় নামের নিচের ল্যাজ। বিডিএস এর পর আর কি কি আয়ত্ত করেছেন, কোন দেশ থেকে, কিসে ইত্যাদি। এতে মানসিক শান্তি পায় দন্তধারী।

আমিও এধরনের এক প্রাজ্ঞজনের কাছে গেলাম। শুনলাম রুট ক্যানাল ছাড়া গতি নেই আর সে পথ ধরতে হলে লাগবে দশ সহস্র মুদ্রা। ক্ষত গভীর, বেড়ে খেললে সব দাঁতে ছড়িয়ে পরবে, মারক লাগবে, ঝড়ে গাছ পরে যাওয়ার মত সব একে একে শেষ হয়ে যাবে। স্নায়ু ও রক্তবাহী নলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাংসকষা বদলে যাবে আজীবন গলা ভাতে, আনাড়ি খোঁচাখুঁচি করলে ব্রেন ও ড্যামেজ হতে পারে বা সুষুম্নাকান্ড। তারপর আমৃত্যু দাঁতে আর দাঁতে থাকো আলু ভাতে।

দাদা গো আমি বাঁচতে চাই। রইলো দশ সহস্র মুদ্রা। লেগে পরুন। আমিও রাজি হলাম। এক রাশ আপসোস সহ। ডেন্টালে চান্স পেয়ে ও ডেন্টিস্ট না হওয়ার আপসোস। আজীবন দাঁতের পাটি আর মুখের গন্ধ মেরামত ছেড়ে চ্যানেলের বুম আর ব্রেকিং নিউজের ধুম নিয়ে মেতে ছিলাম, দাঁত ব্যাথা হলে ক্লোভ ওয়েল আর সেন্সোডাইন। এর বাইরে যে কিছু হয় তা ভাবতেম নি।

মধ্যবিত্ত মানুষ আমরা। দাঁত মাজার ৫০ টাকার পেস্ট ও কিছু দিন বেশি চালাতে একদম চেপেচুপে ফোল্ড করে, শেষ অবধি ব্যাবহার করি। ব্রাশ ও তাই। ব্রাশ তো তারপরও বেঁচে থাকে জুতো বা বেসিন পরিষ্কার করতে।

দশ সহস্র মুদ্রা খরচাই যখন হচ্ছে, আশা করেছিলাম মারকাটারি কোন ঘটনা ঘটবে, প্রচুর রক্তপাত, ডাক্তারবাবুর অস্থির হয়ে পরা ইত্যাদি। সিনেমাতে যেরকম হয়। লে হালুয়া এখানে লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া মারলো, অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে কিসব স্মার্টলি করলো, কিছু খোঁচাখুঁচি আর মাল মশলা পুশ করা। ব্যাস। এ ভাবে তিন দিন। শেষে দশ সহস্র মুদ্রা ব্যায়ের স্মৃতিস্বরূপ  এক ধরনের কৃত্তিম মুকুট পড়ানো। এ যেন সেই হাড়ানো পদক যা এক সময় বিয়ার বোতল খুলে ফেলতো, দামড়া ঠ্যাং চিবিয়ে ছাতু করে দিত, চুইংগামের সাথে সহবাস করতো।

ডাক্তার বাবু দাঁতগুলো জরিপ করতে করতে বললেন, আপকে বাকি দাঁত আচ্ছে হে। অর্থাৎ ওই একটাই হারামজাদা ছিল। বাকি সব অচ্ছে হে। বউদের মত। যত্নবান না হতে পারলেও অভিযোগ করেনা, খারাপ লাগা ফাঁকফোকরে আটকে থাকলেও বিদ্রোহ করে না। ময়লা জমতে জমতে একসময় সমস্যা হয়। তাই এর সঠিক সময়ে যত্ন নিতে হয় নয়তো পুরনো ক্ষত ভোগায় বড্ড। এক আধটা এরকম দারুন ব্যাথা লাগা আর গেঁজে যাওয়া ছাড়া যেরকম দাম্পত্য আচ্ছে হে। দাঁত অচ্ছে হে।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| খোয়া গেছে শীতকাল, মোয়াওয়ালা, রোদে দেওয়া হারমোনিয়াম |

| খোয়া গেছে শীতকাল, মোয়াওয়ালা, রোদে দেওয়া হারমোনিয়াম |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

হেমন্ত ছাতিমগাছে মৃত। শীতকাল এসে গেছে শহরাঞ্চলীয় আনাচে কানাচ। এবার বিষাদ আসবে। ঘিরে ধরবে চারপাশ অনেক রাত হলে। কনকনে ঠান্ডা তখন জানালায় ওপাশে। ওপাশেই। কারন এপাশে দীর্ঘনিশ্বাসের তাপ অনেকটা। ওতে ওম পাওয়া যায় শহুরে উইন্টারের। শীতকাল কবেই খোয়া গেছে আমাদের।

ছোটবেলার প্রথম আর শেষ শীতকালে পাড়াতে মুড়ির মোয়া, চিড়ের মোয়া, বাতাম তকথি, তিলের নাড়ু পিঠের বিশাল বস্তাতে নিয়ে ঘুরতো মোয়াওয়ালা কাকু। ওর কোন নাম ছিল না। হাঁক ছিল। মুরিরররররররর মোয়ায়ায়া, চিড়াররররর মোয়ায়ায়া।

তখন অরিয়ো মিল্কশেক অলীক সুখ, হট চকলোট সৌখিনতা, এক বাক্সজাত শক্ত মোয়াতেই মিলতো শীতকালের গন্ধ। আর অনেকটা অপেক্ষার পর জয়নগরের মোয়াতে আরাম। ওটা অবশ্য নরম, নলেনগুড়ে আদর করা। বাচ্চাকে কাজলের টিপ পড়িয়ে দেওয়ার মত একটা কিসমিস বসানো।

এসমস্ত দুপুরবেলা প্রাচীন বউদির গোপন চিঠি লেখার কথা থাকতো। কোলবালিশটা জাপ্টে বুকের কাছে, সব ওজন চাদরে, নেকলেসটা ঝুলছে। নিষিদ্ধ কিছু শিহরণ লেখা হবে। এসব দুপুরে রোদ পোয়াতে নেই। বিছানাপত্র, বন্ধ দরজায় উষ্ণতা বেশী। কান্নার ও।

সন্ধে নামলে রুপকথা লেখা হত বয়ঃসন্ধির খাতায়। পাশের বাড়ির রাজকন্যা গলা সাধতো হারমোনিয়াম নিয়ে। সপ্তাহে দুবার রোদে দেওয়া হত হারমোনিয়ামখানা।

মোয়াওয়ালা কাকুর বস্তা, নলেনগুড়ের আদর, প্রাপ্তবয়স্ক চিঠিপত্র, বয়ঃসন্ধির খাতা আর রোদে দেওয়া হারমোনিয়ামখানা চিলেকোঠার ঘরে রাখা থাকতো। রোজ ওখানে মিঠে রোদ এসে বসতো, পাখি খোঁজ নিত, নিষ্পাপ ভালোবাসার রঙ পেন্সিল দেওয়ালজুরে আঁকিবুঁকি কাটতো। চিলেকোঠার ঘরে।

চিলেকোঠার যে ঘরে রুকু, ক্যাপ্টেন স্পার্ক, প্রখর রুদ্র, কড়ালকুম্ভীর, আফ্রিকার রাজা ছেলেবেলার অজস্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে শীতের ছুটি কাটাতো, সেই ঘর সহ গোটা বাড়িটাই কোন এক মনখারাপের শীতকালে ভাঙা হয়েছিল। মগনলাল মেঘরাজ সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ি তুলেছে।

ভিত আর পিলারের অনেক নিচে মাটিচাপা মোয়াওয়ালা কাকুর লাশ। প্রবল অর্থকষ্ট আর ধারদেনা মাথায় আত্মহত্যা করেছিল। ময়নাতদন্ত হলে পরে একটা বিশাল বস্তাতে মুরে আনা হয়েছিল। শীতের ভোরবেলা।

হারমোনিয়ামটার কাপড় ইঁদুর খেয়ে নিয়েছিল, সব রিড ভাঙা। ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরির সময় কোন এক প্রবল শীতের রাতে আগুন জ্বালানো জরুরী ছিল।

যে শ্রমিকজন রাতে থাকতো তারা হারমোনিয়ামটা  আবিষ্কার করেছিল। ইতস্তত করেছিল কিন্তু বড্ড কষ্ট পাচ্ছিল সে রাতে। দা দিয়ে এক এক করে ছোট ছোট তক্তা বানানো হয়েছিল হারমোনিয়াম কেটে। তারপর আগুন দেওয়া হয়েছিল কেরোসিন ছিটিয়ে। ওদিন সারারাত ওরা গান গেয়েছিল আনন্দে, আরামে। হারমোনিয়ামের আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে। গ্রামীণ শব্দ, প্রচলিত সুর আবেশ এনেছিল।

অনেক রাত অবধি হারমোনিয়ামটা জ্বলেছিল।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| ভগবান শ্রী শ্রী আল্লা রক্ষা রহমান |

| ভগবান শ্রী শ্রী আল্লা রক্ষা রহমান  |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আমার খোদা পিয়ানো বাজায়। আমার প্রফেট, পয়গম্বর, ভগবান ধর্মসূত্রে একজন মুসলমান। তবে নিজের ধর্ম, ব্রাদারহুড আছে। যেরকম লেননের ছিল, সুমনের আছে, ফেলিনি, গদার, কামুর আছে। এদের শেষাংশ অবধি থেকে যাবে চ্যালা চামুণ্ডা হয়ে, যতদিন সুর আছে, শব্দ আছে, মনের কোনে শিল্প আছে, বোধ আছে। যুদ্ধের বদলে গোলাপফুল আছে কুচকাওয়াজ এ। দ্রোহের হাতিয়ার আছে সুর। ক্রিসেন্ডো।

ছোটবেলায় মাথাটা বিগড়ে দিয়েছিল রোজা। তারপর বম্বে,রঙ্গীলা, হামসে হ্যায় মুকাবলা, দিল সে, তাল...... রোমহর্ষক ছেলেবেলা। রহমানি মূর্ছনা।

আমি ৯০ দশকের ছেলে। ৯০ দশকের ভেতো  কলকাতার ছেলে। আর পাঁচটা বাঙালি বাড়ির মত আমার ও রাবীন্দ্রিক পৈতে পরানোর পালা চলেছিল। ভগবান তুমি যুগে যুগে আবৃতি করতে হত প্রতি গেট টুগেদার। জোর করে মা দুটো গান আর তিনটে কবিতা মুখস্থ করিয়ে রেখেছিল। যেখানেই হোক, আউড়ে দিতাম। এতে শুনেছি মায়ের শান্তিতে ঘুম হতো।

এভাবে জোর করতে করতে একদিন কিছু কথার মানে বুঝতে শুরু করি। মানে বুঝে মন দিয়ে গেয়ে ফেললাম কিন্তু ঠাকুরের স্বঘোষিত স্তাবক-চ্যালার দল আমাদের ধমকালো। " বাবা, রবি ঠাকুরের গান রবিন্দ্রসঙ্গীত এর মতো গাও, এটা লাড়ে লাপ্পা নয়। একটু সিরিয়াস হও!!!!

কিভাবে গাই। আমার তো WALKMan প্রজন্মে জন্ম। রুকুমনি রুকুমনি আর মুক্কালা মুকাবিলা গাইতে বেশি আনন্দ। এ আর রহমান ভগবান। আমার শৈশব শিবামনি আর হরিহরনের।

মনে পরছে রহমানের কন্সার্ট? ডিডি মেট্রোতে টেলিকাস্ট হত রবিবার রাত ৮টা। পরে সনিতে। দুবাই বা লন্ডন থেকে। পিয়ানোতে রহমান, ড্রামে শিবামনি, বাঁশিতে নভীন, অর্কেস্ট্রশনে শ্রীধর, গানে উদিত, শুকবিন্দর, আলকা, হরিহরন, সাধনা সরগম, বালাসুব্রামিন্যায়াম। পরিচালনায় উইজক্রাফট। সব নাম মুখস্থ ছিল।অষ্টশতনামের মত।

আমার খোদা পিয়ানো বাজায়, বন্দে মাতরম আর মসজিদি গান গায়। আমার খোদা বম্বে থিম বেঁধেছে, ভারত হাম কো জান সে প্যারা হে বেঁধেছে। আমার রসুল খালি পায়ে "কুন ফায়া কুন" গায়। কুন ফায়া কুন- এই তিনটি শব্দের উচ্চারণে শূন্য থেকে মহাবিশ্ব বানাতে সক্ষম আল্লা। শোনা যায়। আবার আমার ভগবানই "ও পালনহারে নির্গুণ আউর ন্যারে, তুমরে বিন হামরা কৌন নেহি" তে সুর দেয়। আদিপুরুষ বন্দনা করে।

যে ভগবান, যে পয়গম্বর মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করেন, যে দেবতার সন্তান বিধর্মীকে মারার যজ্ঞ করেন, মন্দির ভাঙে মসজিদ ভাঙে স্রেফ ধর্মের নামে। সেটা আমার ধর্ম কেন হবে?

অশান্ত সময়ে রাম কে নাম যখন একের পর এক ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে, আমি না হয় রহমান কে নাম প্রেমের জন্ম দিই। খোদার নামে যখন ঘৃণা আর রক্ষণশীলতা পোষা হচ্ছে অন্তরে অন্তরে আমরা না হয় এক আকাশ ইচ্ছেডানা পুষি। হাতে হাত রাখলে শুনেছি অনেক ঝড় থেমে যায়। বিশাল মানবদেওয়াল রুখে দেয় সাম্প্রতিক দুশমন। মাঝে চেম্বার অর্কেস্ট্রা, ভারতীয় তালবাদ্য আর একটা পিয়ানো। ভগবান পিয়ানো বাজান। আমরা আয়াত আর মন্ত্রোচ্চারণ করি একসাথে।

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| "অজানা জ্বর" হয় "অনামিকা" মশার কামড়ে |

|  "অজানা জ্বর" হয় "অনামিকা" মশার কামড়ে |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

শুনছি পশ্চিমবঙ্গে মহামারীর আকার ধারন করেছে ডেঙ্গুরোগ। কিন্তু সরকার বলছে অজানা জ্বর। মানে মঙ্গলগ্রহ থেকে সংক্রমিত বা পুজোর সময় ইয়েতির সাথে শহরে ছড়িয়েছে বা কোন দুর্ধর্ষ দুশমনের সরকার ফেলার কারসাজি।

বিজ্ঞান বলে স্ত্রী এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু গোটা ভারতে হয়। এতে কোন সরকারেরই কোন ভূমিকা নেই। কারন সরকার ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ নয়। এর কামড়ে রক্ত বের করে নেওয়ার শক্তি নেই, এক চাপড়ে শহীদ হওয়ার মুরোদ নেই। মশাদের জনসভায় ডেকে পাগলু ডান্স দেখালে বা ঝিংকু মামনিদের সেল্ফি তোলালেই তারা তৃণমূলী মশা হয়ে যায় না।

কিন্তু কোন "অজানা" কারনে বাংলার সরকার নিজেকে এক ঝটকায় মশা বলে ভেবে ফেলছে। হয়তো ৩৪ বছরকার বুনিপকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে বলে। বা ডিলিউসনে। ডিলিউসন এটা ভাবার যে গোটা রাজ্যে যা কিছু সবই জোড়া ফুলে ফুলে ঢলছে। তাই হয়তো মশাকে ও তৃনমূলী ভেবে চেপে যাওয়া হয় রোগ কিংবা সব ধর্ষণকারীকেই আড়াল করতে বলতে হয় "সাজানো ঘটনা"। পাছে কেউ বিরুদ্ধাচার করে, কেউ কাগজ নিয়ে আসে নিষিদ্ধ আদানপ্রদানের, কেউ গান গায় সমস্বরে- রাজা ধিক ধিক। 

তাই হয়তো অভিধান বদলে দেওয়া হয়, ১০৮টা পুজো আর সংখ্যালঘু পরবে গিয়ে ভোঁ ভোঁ করতে হয়। রামধনু কে বদলে দিতে হয় রংধনুতে।

সব্বাইকে চুপ করিয়ে দেওয়ার এক অসম লড়াই চলে, গোটা শহরটা রাঙিয়ে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট রঙ দিয়ে। রাস্তাঘাট, পেচ্ছাপখানা, মাঠ, ময়দান, ক্রীড়াঙ্গন সব জায়গায় ভোঁ ভোঁ করতে হয়। নিজের নামের জানান দিতে হয়। পাছে অজানা দ্রোহ বাসা বাঁধে জেলায় জেলায়।  রক্তপাত শুরু হয় শাসকের, কাঁপুনি দিয়ে গদি হারানোর জ্বর, সাথে ব্রেন হেমারেজ জমে থাকা দুর্নীতির কারনে।

বিশ্বজুরে ডেঙ্গুজ্বর স্ত্রী এডিস মশা কামড়ালে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে "অজানাজ্বর" হয় "অনামিকা" মশা কামড়ালে।

যেভাবে শিল্প বলতে চপ শিল্প বোঝায়, চাকরি বলতে ১০০দিনের কাজ আর উন্নয়ন বলতে শহুরে সৌন্দর্যবর্ধন। কে দোহাই দিয়েছে পৃথিবী যে দিকে চলছে সেদিকেই চলতে হবে? পেছনের দিকেও তো এগোনো যায়। সব্বাই অগ্রগতি করলে অধোগতি হবে কাদের?

©------- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

#Dengue_Kolkata

| ব্যর্থতা |

| ব্যর্থতা |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

খুব সাধারণ কিছু গল্প লিখতে চেয়েছিলাম ।পেটরোগা কেরানি, লাথখাওয়া ভলেন্টারি রিটায়ার্ড, হেগো রুগীর। কিন্তু কিছুতেই মধ্যবিত্ত ডায়েরি লেখা হয় না। রাগ হয়। মন ভালো করতে করন জোহারের ফিলিম দেখি। চিকনা সবকিছু। গু ও। এরমধ্যে আমাদের ঘামের গন্ধ নেই। লেখাও কিছু নেই। কিন্তু দেখে যাই। গোগ্রাসে গিলে যাই।

একদিন সব বদলে যাবে। যাবেই। হাই ড্রেনের সামনে বমি করতে করতে কবি আবার লিখবে, সেলুলয়েড এর রিল মাথায় দিয়ে ঘুমাবে সিনেমাওয়ালা। সকাল হলে সব বদলে যাবে।  একটা সূর্য উঠবে খুব সাধারণ। সারাদিন সাধারণ কিছু মানুষ সুপারহিরো সাজবে প্যান্টের ওপর জাঙিয়া না পড়ে। ম্যাজিক হবে সেই রাতে। তখন সব্বাই ঘুমিয়ে। আমি ছাদ থেকে সবটা দেখবো।

নবারুণ ও আমার শ্রেষ্ঠ গল্পকার। ঋত্বিক বখাটে ছবিকার। বিক্ষুব্ধ সময় মুজরো করতে হবে কিনা জিগ্যেস করতো ওরা। আমরা তো দাবীদাওয়াও জিগ্যেস করতে চমকাই।  যদি রাষ্ট্র ঘুম থেকে উঠে জেলে পুরে দেয়।

নবারুণ ফ্যাতারু বা বোকাচোদা কোন টাই হওয়া হল না। মানিব্যাগে বাবা লোকনাথ, বউ এর ছবি ও অনুশোচনা নিয়ে শোকসভা যাই আসুন।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| ২৬/১১র নিষিদ্ধ দশ প্রশ্ন যার জবাব চাইতে নেই |

| ২৬/১১র নিষিদ্ধ দশ প্রশ্ন যার জবাব চাইতে নেই |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

৯/১১র যারা ফন্দি এঁটেছিল তারা এখন সবাই মৃত। বিন লাদেনের ঘরে ঢুকে মার্কিনী সেনা তাকে শেষ করে দিয়ে এসেছে। ফ্রান্স এর বিস্ফারণ, সন্ত্রাস হানা যারা সংগঠিত করেছিল, তারা ও নিহত। সিরিয়া তে ঢুকে বোমা মেরে এসেছে ফ্রান্স। কিন্তু আমাদের  ২৬/১১র মূল চক্রী হাফিস সইদ রাজার বেশে জেল থেকে বেড়িয়ে সমাবেশ করছে, লখভী সুস্থ জীবনযাপন করছে, ডেভিড কোলেম্যান হেডলি আমেরিকার জেলে বার্গার চেবোচ্ছে। আর আমরা ফি বছর মোম জ্বালাছি। রাগ কে শান্তনা দিচ্ছি, সামনের বছর সরকার ঠিক এদের ধরতে পারবে। ঠিক ফাঁসি হবে। আসলে কি সদিচ্ছার অভাব? এমন কিছু আছে কি যা আড়াল করতে হয়? না হলে রাষ্ট্র নগ্ন হয়ে যেতে পারে?

বই, দস্তাবেজ, খবরের কাগজ, নিউজ রিপোর্ট আর সম্প্রতি আনন্দবাজারে নাট্যকার সংগ্রাম গুহের কিছু জরুরি প্রশ্ন এখানে লিখছি। এর উত্তর কেউ দেয়নি। দিতে গিয়েও কি একটা আটকে দিয়েছে। কেউ বিষয় বদল করে দিয়েছে, কেউ ঠান্ডা গলায় বলেছে: রেহেনে দো না সাহাব। কিউ খুজলা রহে হো মুরদে কো।

১). এক জন পুরুষ এবং সালোয়ার কামিজের ওপর বোরখা ঢাকা এক মহিলা কামা হাসপাতাল আক্রমণ করে। কিন্তু খাবাদ হাউসে জঙ্গি আক্রমণ প্রতিহত করার পর এনএসজি কমান্ডোরা যে দেহগুলিকে বার করে আনে, তার মধ্যে রাব্বি হোলজৎবারগের স্ত্রী রিভকা ছাড়া কোনও মহিলার দেহ ছিল না।রহস্যময়ী মহিলাটি কোথায়? কেন আরটিআই করেও তার কোন উত্তর পাওয়া যায় না?

২). হেমন্ত কারকারের উদ্ধার করা স্বামী দয়ানন্দের ল্যাপটপ টা কই? যেখানে মালেগাঁও আক্রমনের অনেক তথ্য মজুদ ছিল, ছবি ছিল, অডিও টেপ ছিল, নেতাদের নাম ছিল। কোন আলমারিতে সংরক্ষিত ওই ল্যাপটপ?

৩). তাজ-ট্রাইডেন্ট–এর পাশাপাশি হেমন্ত কারকারেও কি অন্যতম টার্গেট ছিল?না সন্ত্রাসবাদী হামলার মাঝে অন্য একটা প্যারালাল থ্রিলার চলেছিল? একটা মর্মান্তিক গল্প?বলে রাখা ভালো, ময়নাতদন্তে কারকারের গায়ে যে বুলেট পাওয়া যায় তা ৯ এমএম বুলেট, যা ভারতীয় পুলিশ ব্যবহার করে।

৪). এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারেকে কে ডেকেছিল? আক্রমণের দিন যখন হেমন্ত কারকারে পুলিশের সদর দফতরে, একটার পর একটা আক্রমণের খবর আসছে, সে সময় ওই রকম অভিজ্ঞ এক জন পুলিশ অফিসার কীসের জন্য একটা নির্দিষ্ট ফোন পেয়ে কামা হাসপাতালের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন ? যখন কামা হাসপাতালে আক্রমণ হয়েছে, এ রকম কোনও খবরই কিন্তু মুম্বই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে আসেনি।

৫). কাসাব রা এসেছিল একটা ছোট নৌকো করে। ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার পেড়িয়ে প্রায় এক রাত নৌকা চালিয়ে। কোন ভারতীয় নৌসেনার টহলদারি ছিল না সে রাতেই? না ছিল কিন্তু বলা ছিল ছাড় দিতে?

৬). যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এনএসজি-র ২৯৫ জন মেরিন কমান্ডোর একটানা ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগেছিল চারজন  জঙ্গিকে কব্জা করতে। মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১০০ বছরের পুরনো তাজ হোটেলের যাবতীয় ম্যাপ, যেটা সঠিক ভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ সেই ম্যাপ জঙ্গিদের কাছে (যা ল্যাপটপে সেভ করা ছিল) পৌঁছে গেল কী ভাবে? যার জন্য তারা প্রতিটি লুকনো করিডর-দরজার হদিশ আগে থেকেই জেনে গিয়েছিল?

৭). ধরে নিলাম ছ'জন মোট জঙ্গি ছিল। কিন্তু এত কিলো বিস্ফোরক, কার্তুজ, শেল, ম্যাগাজিন, বন্দুক, ব্যারেটা কয়েকটা পিঠের ব্যাগে এঁটে গেল? না আগেই ৯৩' বিস্ফারণের মত ভীতর থেকেই ব্যাবস্থা করা ছিল। কোন ভাই ব্যাবস্থা করেছিল?

৮). শোনা যায় কাছাকাছি সময় মুম্বাই পুলিশ আর একটা এনকাউন্টার চালিয়েছিল। তার পাঞ্চনামা কোথায়? কতজন মারা গেছিল তার হিসেব কোথায়?

৯). প্রত্যক্ষদর্শীদের আড়াল করতে এত ব্যস্ততা কেন ছিল? প্রত্যক্ষদর্শী অনিতা উদ্দাইয়াকে তড়িঘড়ি আমেরিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেন? সে এখন কোথায়? কোন প্রোগ্রামে তাকে দেখা যায় না কেন? মোসের’ ন্যানি সান্দ্রা স্যামুয়েল ও আর মুখ খোলেনা কেন?

১০). সে রাতে কার কার কাছে এসেছিল +৯২৩০২ আইএসডি কোডের পাকিস্তানি নম্বর থেকে কল? কেন তড়িঘড়ি কিছু লোককে নম্বর চেঞ্জ করতে হয়? পুলিশ কে কেন নির্দিষ্ট কিছু অডিও টেপ সরিয়ে রাখতে হয়?

ইজরায়েলী গুপ্তচর সংস্থা মোজাদ একটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল ভারতকে। তাতে কি ছিল তা সামনে আনা যায়? সেই রিপোর্ট নিয়ে কোন নেতা কথা বলে না কেন?

উত্তর আসবে না। আর একটা ২৬/১১ আসবে। মোম জ্বলবে। হাফিস সইদ হুংকার দেবে। রাষ্ট্র প্রধান আশ্বাস দেবে বদলা নেওয়ার, আরো অস্ত্র বিক্রিবাটা হবে আরবসাগরপারে। ফেলুদা ভ্রু কুঁচকে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলবে: পুলিশকর্তা কার ফোন পেয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট না পড়ে দৌড়লো? চারজন অত কিলো বিস্ফোরক আর অস্ত্র নিয়ে এতটা পথ এল কি করে? মগনলাল মেঘরাজরা কি দেশের বাইরে থেকে ফন্দি আঁটছে না তার কোন চ্যালা দেশের মধ্যেও আছে?      "ভালো লাগছে না রে তোপসে। ভালো লাগছে না”।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতাস্বীকার: সংগ্রাম গুহ, আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস নাও, হুসেন জায়েদি,ক্যাথি স্কট ক্লার্ক, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

| আয় নাক কাটতে, মমতার পাশে গোটা বাংলা আছে |

| আয় নাক কাটতে, মমতার পাশে গোটা বাংলা আছে |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

'পদ্মাবতী’কে সমর্থন করায় এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাক কাটার হুমকি দিয়েছে হরিয়ানার বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমু।

এর আগে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মুণ্ডুচ্ছেদ করতে পারলে এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আরএসএস। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। সব বিপ্লব ফেলে এদের পাশে থাকা, এদের আগলে রাখাটা এখন সবচেয়ে বেশী দরকার।

আমু ও ভারতীয় হনুমান পার্টির জানা উচিৎ যে বাংলা মমতাকে বা মানিককে বা বিজয়নকে লাখো লোকের মানবপ্রাচীর গড়ে রক্ষা করবে। সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেস, ক্যাডার, হারমাদ, জল্লাদ, হিন্দু, মুসলমান, দলিত, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে রাত জেগে পাহারা দেবে ওনার বাড়ির চারপাশে। যেভাবে ইন্দিরা গান্ধী নিধনের পর ৮৪'তে পঞ্জাবী বাসিন্দাদের বাড়ির সামনে টহল দেওয়া হত বা বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ৯২' এ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের বাড়ির সামনে রাত জাগা হত।  ওনার গায়ে আঁচড় দিতে গেলেও বাংলার হাজার হাজার ছেলে জওয়ানের বডির ওপর দিয়ে যেতে হবে।

এটা রামকৃষ্ণদেব, স্বামীজি, অরবিন্দ ঘোষ, এন্টোনি ফিরিঙ্গি, রামমোহন আর নিবেদিতা, টেরেসার বাংলা। সুতরাং হিন্দুত্ব নিয়ে বাপু এখানে কিছু কপচাবেন না। এখানকার আগুনখেকো ছাত্র, এলাকার তৃণমূলী আদী কংগ্রেসি লোকজন, মরচে পরা লোকাল কমিটি, এমনকি অলস দোকানীরাও কিরকম চাড্ডি মিছিল দেখলে খিঁচিয়ে ওঠে এখানে। জলে আর্সেনিক না থাকলেও তিব্র চাড্ডি বিরোধী এলার্জিন আছে। সামনে থাকলেই ক্যালাতে ইচ্ছে করে। সে মানে লাপোটে সাপোটে আর কি। যতক্ষন না হনুমানের মত এ রেলিং ও গার্ড রেল ধরে চম্পট না দিচ্ছে। রাম কে নাম। নো পাসারান।

আমি হিন্দু। আমার মুসলমান-খ্রিস্টানী বন্ধু ও আছে। আমার পাড়ার মন্দিরের সিন্নি ও আসমার গোস্ত দুই ভালো লাগে। আমি ভোরবেলার বীরেন ভদ্র নিয়ে যতটা উত্তেজিত ঠিক ততটাই ঈদের বিরিয়ানি নিয়ে। আমার মসজিদ ভাঙলে খারাপ লাগে, মন্দিরে মাংস ছুড়ে দিলেও। আমাকে এটা আমার ধর্ম শিখিয়েছে। আমার ধর্ম মানুষসেবা, সমাজসাহায্য।

যে মানুষেরা আমি কি খাবো,ওর ফ্রিজে কি থাকবে, তার হাঁড়িতে কি রান্না হবে তা দেখতে আসে না, তাদের পাশে থাকাটা এই সময় এ বেশি দরকারি। তাদের একসাথে রাজপথ কাঁপানোটা আপৎকালীন।

চোরেদের ও পাশে লাগে বর্গী এলে দেশে। লড়াই টা চাপাতি-ত্রিশূল বনাম হাতে হাত রেখে ব্যারিকেড গড়ার। আগে বর্গী আর বর্গীয়দের ভাগাই তারপর না হয় চোর জোচ্চোরদের জেলে পুরবো।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| দশটি উপায়ে বাঙালি ডিটেকশন |

| দশটি উপায়ে বাঙালি ডিটেকশন |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

১). যে সমস্ত মানুষ ঝাল নুন মাখা কুসুম সমেত ফালি ফালি তিনটে ডিম সেদ্ধ খায় না,

২). হাত দিয়ে মেখে মাংস ভাত খায় না ও খাওয়ার পর হাত চেটে ঝোল সাফ করে না,

৩). মুরগির ঠ্যাং কুচি কুচি করে চিবিয়ে, বোন ম্যারো সুরুৎ করে চুষে নেয় না,

৪). যারা কাঁটাওয়ালা মাছ খেয়ে, বীরের মত থালার সাইডে কাঁটা সাজিয়ে রাখেনা,

৫). যারা বিরিয়ানি সাবার করে শেষে আলু ও ডিমটা খায় না, থামস আপ খেয়ে আওয়াজ করে রাম ঢেকুর তোলে না,

৬). যারা ওল্ড মংক, সেদ্ধ ছোলা, ভেজা আদা, ডিমের পকোড়া দেখে নাক সিঁটকোয় আর বিনি পয়সাতে ফ্লেবারড ভটকা দেখে হাবাতের মত বার কাউন্টার এ লাইন দেয়,

৭). যারা বাসা ফিশকে ভেটকি ভাবে আর খয়রা মাছকে খোকা ইলিশ,

৮). যারা হরিপালের দই, মালবাজারের রসগোল্লা, বীরভূমের ল্যাংচা, মুর্শিদাবাদের ছানাপোড়া, নলেনগুড়ের পায়েসের জায়গায় কাজু কি বরফি, স্ট্রবেরি মেওয়া, পেঠা, বেসান কা লাড্ডু বেশী পছন্দ করে,

৯). যারা আরসালানে গিয়ে চাউমিন অর্ডার দেয়, ভেজ নাকি বিরিয়ানি হয় ভাবে আর মিষ্টি পানের জায়গায় গুটখা ঠাঁসে ঠোঁটে,

১০). যারা নেমন্তন্ন করে লোক খাওয়ায় ৫০০ কিন্তু পাতে পড়ে প্রচুর শেজওয়ান, সোয়া সস দেওয়া ফ্রায়েড রাইস, পুরু কোটিং সহ চিলি চিকেন, পোনা মাছের ঝিনচ্যাক গ্রিল, গুচ্ছের সেন্ট দেওয়া অমুক রাইস, তমুক ওরলি, হ্যান কি বেগমবাহার, ত্যান কি ইটালিয়ান ভিন্ডালু,

তারা বাঙালির নামে কলঙ্ক। ঢেকুরের নামে, অম্বল বদহজমের নামে, ভাতঘুমের নামে।

এরা জাহান্নম বা নরক যেখানেই যাক, এদের পেঁয়াজ, কাঁচা লংকা,আদা, রসুন, ডিমের গোলা, বেসন মাখিয়ে ছাঁকা তেল এ ডিপ ফ্রাই করা উচিত।

ট্যাঁস গরু ফ্রাই এর স্বাদই আলাদা।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ