কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Tuesday, December 12, 2017

| ২৬/১১র নিষিদ্ধ দশ প্রশ্ন যার জবাব চাইতে নেই |

| ২৬/১১র নিষিদ্ধ দশ প্রশ্ন যার জবাব চাইতে নেই |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

৯/১১র যারা ফন্দি এঁটেছিল তারা এখন সবাই মৃত। বিন লাদেনের ঘরে ঢুকে মার্কিনী সেনা তাকে শেষ করে দিয়ে এসেছে। ফ্রান্স এর বিস্ফারণ, সন্ত্রাস হানা যারা সংগঠিত করেছিল, তারা ও নিহত। সিরিয়া তে ঢুকে বোমা মেরে এসেছে ফ্রান্স। কিন্তু আমাদের  ২৬/১১র মূল চক্রী হাফিস সইদ রাজার বেশে জেল থেকে বেড়িয়ে সমাবেশ করছে, লখভী সুস্থ জীবনযাপন করছে, ডেভিড কোলেম্যান হেডলি আমেরিকার জেলে বার্গার চেবোচ্ছে। আর আমরা ফি বছর মোম জ্বালাছি। রাগ কে শান্তনা দিচ্ছি, সামনের বছর সরকার ঠিক এদের ধরতে পারবে। ঠিক ফাঁসি হবে। আসলে কি সদিচ্ছার অভাব? এমন কিছু আছে কি যা আড়াল করতে হয়? না হলে রাষ্ট্র নগ্ন হয়ে যেতে পারে?

বই, দস্তাবেজ, খবরের কাগজ, নিউজ রিপোর্ট আর সম্প্রতি আনন্দবাজারে নাট্যকার সংগ্রাম গুহের কিছু জরুরি প্রশ্ন এখানে লিখছি। এর উত্তর কেউ দেয়নি। দিতে গিয়েও কি একটা আটকে দিয়েছে। কেউ বিষয় বদল করে দিয়েছে, কেউ ঠান্ডা গলায় বলেছে: রেহেনে দো না সাহাব। কিউ খুজলা রহে হো মুরদে কো।

১). এক জন পুরুষ এবং সালোয়ার কামিজের ওপর বোরখা ঢাকা এক মহিলা কামা হাসপাতাল আক্রমণ করে। কিন্তু খাবাদ হাউসে জঙ্গি আক্রমণ প্রতিহত করার পর এনএসজি কমান্ডোরা যে দেহগুলিকে বার করে আনে, তার মধ্যে রাব্বি হোলজৎবারগের স্ত্রী রিভকা ছাড়া কোনও মহিলার দেহ ছিল না।রহস্যময়ী মহিলাটি কোথায়? কেন আরটিআই করেও তার কোন উত্তর পাওয়া যায় না?

২). হেমন্ত কারকারের উদ্ধার করা স্বামী দয়ানন্দের ল্যাপটপ টা কই? যেখানে মালেগাঁও আক্রমনের অনেক তথ্য মজুদ ছিল, ছবি ছিল, অডিও টেপ ছিল, নেতাদের নাম ছিল। কোন আলমারিতে সংরক্ষিত ওই ল্যাপটপ?

৩). তাজ-ট্রাইডেন্ট–এর পাশাপাশি হেমন্ত কারকারেও কি অন্যতম টার্গেট ছিল?না সন্ত্রাসবাদী হামলার মাঝে অন্য একটা প্যারালাল থ্রিলার চলেছিল? একটা মর্মান্তিক গল্প?বলে রাখা ভালো, ময়নাতদন্তে কারকারের গায়ে যে বুলেট পাওয়া যায় তা ৯ এমএম বুলেট, যা ভারতীয় পুলিশ ব্যবহার করে।

৪). এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারেকে কে ডেকেছিল? আক্রমণের দিন যখন হেমন্ত কারকারে পুলিশের সদর দফতরে, একটার পর একটা আক্রমণের খবর আসছে, সে সময় ওই রকম অভিজ্ঞ এক জন পুলিশ অফিসার কীসের জন্য একটা নির্দিষ্ট ফোন পেয়ে কামা হাসপাতালের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন ? যখন কামা হাসপাতালে আক্রমণ হয়েছে, এ রকম কোনও খবরই কিন্তু মুম্বই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে আসেনি।

৫). কাসাব রা এসেছিল একটা ছোট নৌকো করে। ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার পেড়িয়ে প্রায় এক রাত নৌকা চালিয়ে। কোন ভারতীয় নৌসেনার টহলদারি ছিল না সে রাতেই? না ছিল কিন্তু বলা ছিল ছাড় দিতে?

৬). যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এনএসজি-র ২৯৫ জন মেরিন কমান্ডোর একটানা ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগেছিল চারজন  জঙ্গিকে কব্জা করতে। মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১০০ বছরের পুরনো তাজ হোটেলের যাবতীয় ম্যাপ, যেটা সঠিক ভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ সেই ম্যাপ জঙ্গিদের কাছে (যা ল্যাপটপে সেভ করা ছিল) পৌঁছে গেল কী ভাবে? যার জন্য তারা প্রতিটি লুকনো করিডর-দরজার হদিশ আগে থেকেই জেনে গিয়েছিল?

৭). ধরে নিলাম ছ'জন মোট জঙ্গি ছিল। কিন্তু এত কিলো বিস্ফোরক, কার্তুজ, শেল, ম্যাগাজিন, বন্দুক, ব্যারেটা কয়েকটা পিঠের ব্যাগে এঁটে গেল? না আগেই ৯৩' বিস্ফারণের মত ভীতর থেকেই ব্যাবস্থা করা ছিল। কোন ভাই ব্যাবস্থা করেছিল?

৮). শোনা যায় কাছাকাছি সময় মুম্বাই পুলিশ আর একটা এনকাউন্টার চালিয়েছিল। তার পাঞ্চনামা কোথায়? কতজন মারা গেছিল তার হিসেব কোথায়?

৯). প্রত্যক্ষদর্শীদের আড়াল করতে এত ব্যস্ততা কেন ছিল? প্রত্যক্ষদর্শী অনিতা উদ্দাইয়াকে তড়িঘড়ি আমেরিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেন? সে এখন কোথায়? কোন প্রোগ্রামে তাকে দেখা যায় না কেন? মোসের’ ন্যানি সান্দ্রা স্যামুয়েল ও আর মুখ খোলেনা কেন?

১০). সে রাতে কার কার কাছে এসেছিল +৯২৩০২ আইএসডি কোডের পাকিস্তানি নম্বর থেকে কল? কেন তড়িঘড়ি কিছু লোককে নম্বর চেঞ্জ করতে হয়? পুলিশ কে কেন নির্দিষ্ট কিছু অডিও টেপ সরিয়ে রাখতে হয়?

ইজরায়েলী গুপ্তচর সংস্থা মোজাদ একটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল ভারতকে। তাতে কি ছিল তা সামনে আনা যায়? সেই রিপোর্ট নিয়ে কোন নেতা কথা বলে না কেন?

উত্তর আসবে না। আর একটা ২৬/১১ আসবে। মোম জ্বলবে। হাফিস সইদ হুংকার দেবে। রাষ্ট্র প্রধান আশ্বাস দেবে বদলা নেওয়ার, আরো অস্ত্র বিক্রিবাটা হবে আরবসাগরপারে। ফেলুদা ভ্রু কুঁচকে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলবে: পুলিশকর্তা কার ফোন পেয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট না পড়ে দৌড়লো? চারজন অত কিলো বিস্ফোরক আর অস্ত্র নিয়ে এতটা পথ এল কি করে? মগনলাল মেঘরাজরা কি দেশের বাইরে থেকে ফন্দি আঁটছে না তার কোন চ্যালা দেশের মধ্যেও আছে?      "ভালো লাগছে না রে তোপসে। ভালো লাগছে না”।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতাস্বীকার: সংগ্রাম গুহ, আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস নাও, হুসেন জায়েদি,ক্যাথি স্কট ক্লার্ক, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

| আয় নাক কাটতে, মমতার পাশে গোটা বাংলা আছে |

| আয় নাক কাটতে, মমতার পাশে গোটা বাংলা আছে |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

'পদ্মাবতী’কে সমর্থন করায় এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাক কাটার হুমকি দিয়েছে হরিয়ানার বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমু।

এর আগে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মুণ্ডুচ্ছেদ করতে পারলে এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আরএসএস। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। সব বিপ্লব ফেলে এদের পাশে থাকা, এদের আগলে রাখাটা এখন সবচেয়ে বেশী দরকার।

আমু ও ভারতীয় হনুমান পার্টির জানা উচিৎ যে বাংলা মমতাকে বা মানিককে বা বিজয়নকে লাখো লোকের মানবপ্রাচীর গড়ে রক্ষা করবে। সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেস, ক্যাডার, হারমাদ, জল্লাদ, হিন্দু, মুসলমান, দলিত, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে রাত জেগে পাহারা দেবে ওনার বাড়ির চারপাশে। যেভাবে ইন্দিরা গান্ধী নিধনের পর ৮৪'তে পঞ্জাবী বাসিন্দাদের বাড়ির সামনে টহল দেওয়া হত বা বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ৯২' এ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের বাড়ির সামনে রাত জাগা হত।  ওনার গায়ে আঁচড় দিতে গেলেও বাংলার হাজার হাজার ছেলে জওয়ানের বডির ওপর দিয়ে যেতে হবে।

এটা রামকৃষ্ণদেব, স্বামীজি, অরবিন্দ ঘোষ, এন্টোনি ফিরিঙ্গি, রামমোহন আর নিবেদিতা, টেরেসার বাংলা। সুতরাং হিন্দুত্ব নিয়ে বাপু এখানে কিছু কপচাবেন না। এখানকার আগুনখেকো ছাত্র, এলাকার তৃণমূলী আদী কংগ্রেসি লোকজন, মরচে পরা লোকাল কমিটি, এমনকি অলস দোকানীরাও কিরকম চাড্ডি মিছিল দেখলে খিঁচিয়ে ওঠে এখানে। জলে আর্সেনিক না থাকলেও তিব্র চাড্ডি বিরোধী এলার্জিন আছে। সামনে থাকলেই ক্যালাতে ইচ্ছে করে। সে মানে লাপোটে সাপোটে আর কি। যতক্ষন না হনুমানের মত এ রেলিং ও গার্ড রেল ধরে চম্পট না দিচ্ছে। রাম কে নাম। নো পাসারান।

আমি হিন্দু। আমার মুসলমান-খ্রিস্টানী বন্ধু ও আছে। আমার পাড়ার মন্দিরের সিন্নি ও আসমার গোস্ত দুই ভালো লাগে। আমি ভোরবেলার বীরেন ভদ্র নিয়ে যতটা উত্তেজিত ঠিক ততটাই ঈদের বিরিয়ানি নিয়ে। আমার মসজিদ ভাঙলে খারাপ লাগে, মন্দিরে মাংস ছুড়ে দিলেও। আমাকে এটা আমার ধর্ম শিখিয়েছে। আমার ধর্ম মানুষসেবা, সমাজসাহায্য।

যে মানুষেরা আমি কি খাবো,ওর ফ্রিজে কি থাকবে, তার হাঁড়িতে কি রান্না হবে তা দেখতে আসে না, তাদের পাশে থাকাটা এই সময় এ বেশি দরকারি। তাদের একসাথে রাজপথ কাঁপানোটা আপৎকালীন।

চোরেদের ও পাশে লাগে বর্গী এলে দেশে। লড়াই টা চাপাতি-ত্রিশূল বনাম হাতে হাত রেখে ব্যারিকেড গড়ার। আগে বর্গী আর বর্গীয়দের ভাগাই তারপর না হয় চোর জোচ্চোরদের জেলে পুরবো।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| দশটি উপায়ে বাঙালি ডিটেকশন |

| দশটি উপায়ে বাঙালি ডিটেকশন |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

১). যে সমস্ত মানুষ ঝাল নুন মাখা কুসুম সমেত ফালি ফালি তিনটে ডিম সেদ্ধ খায় না,

২). হাত দিয়ে মেখে মাংস ভাত খায় না ও খাওয়ার পর হাত চেটে ঝোল সাফ করে না,

৩). মুরগির ঠ্যাং কুচি কুচি করে চিবিয়ে, বোন ম্যারো সুরুৎ করে চুষে নেয় না,

৪). যারা কাঁটাওয়ালা মাছ খেয়ে, বীরের মত থালার সাইডে কাঁটা সাজিয়ে রাখেনা,

৫). যারা বিরিয়ানি সাবার করে শেষে আলু ও ডিমটা খায় না, থামস আপ খেয়ে আওয়াজ করে রাম ঢেকুর তোলে না,

৬). যারা ওল্ড মংক, সেদ্ধ ছোলা, ভেজা আদা, ডিমের পকোড়া দেখে নাক সিঁটকোয় আর বিনি পয়সাতে ফ্লেবারড ভটকা দেখে হাবাতের মত বার কাউন্টার এ লাইন দেয়,

৭). যারা বাসা ফিশকে ভেটকি ভাবে আর খয়রা মাছকে খোকা ইলিশ,

৮). যারা হরিপালের দই, মালবাজারের রসগোল্লা, বীরভূমের ল্যাংচা, মুর্শিদাবাদের ছানাপোড়া, নলেনগুড়ের পায়েসের জায়গায় কাজু কি বরফি, স্ট্রবেরি মেওয়া, পেঠা, বেসান কা লাড্ডু বেশী পছন্দ করে,

৯). যারা আরসালানে গিয়ে চাউমিন অর্ডার দেয়, ভেজ নাকি বিরিয়ানি হয় ভাবে আর মিষ্টি পানের জায়গায় গুটখা ঠাঁসে ঠোঁটে,

১০). যারা নেমন্তন্ন করে লোক খাওয়ায় ৫০০ কিন্তু পাতে পড়ে প্রচুর শেজওয়ান, সোয়া সস দেওয়া ফ্রায়েড রাইস, পুরু কোটিং সহ চিলি চিকেন, পোনা মাছের ঝিনচ্যাক গ্রিল, গুচ্ছের সেন্ট দেওয়া অমুক রাইস, তমুক ওরলি, হ্যান কি বেগমবাহার, ত্যান কি ইটালিয়ান ভিন্ডালু,

তারা বাঙালির নামে কলঙ্ক। ঢেকুরের নামে, অম্বল বদহজমের নামে, ভাতঘুমের নামে।

এরা জাহান্নম বা নরক যেখানেই যাক, এদের পেঁয়াজ, কাঁচা লংকা,আদা, রসুন, ডিমের গোলা, বেসন মাখিয়ে ছাঁকা তেল এ ডিপ ফ্রাই করা উচিত।

ট্যাঁস গরু ফ্রাই এর স্বাদই আলাদা।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| শেষের দু এক লাইন........ |

| শেষের দু এক লাইন........ |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

চেক-ইন ব্যাগেজ এ অনেকটা কাজ করার তাগিদ নিয়ে এসেছিলাম, বুক পকেটে অল্প দুঃসাহস আর জেদ। বাদ বাকি যা লাগে এই শহর শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছিল।

এই শহর কথা বলে মাঝরাতে সমুদ্রের পাশে বসলে। খুব মনখারাপ হলে ম্যাজিক দেখায়। ম্যাজিক এ বিশ্বাস রাখা ভালো।

একটা থোকে যাওয়া কলজে আর হেজে যাওয়া কাজের তাগিদ নিয়ে বোম্বে এসেছিলাম। এক বছর সাত মাস আগে। আর ৪৮ ঘন্টা পরে চলে যাওয়ার পালা। এ শহর ছেড়ে। প্লেন আকাশ দিয়ে ওই চোখা চোখা বাড়ির ওপর দিয়ে যাবে, আরবসাগর ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকবে। উইন্ডো সিট নেওয়া ঠিক না। ঝাপ্পা হতে পারে যখন তখন। চোখ।

একটা ভাডা পাও, দুটো কলা খেয়ে কি করে কাজ করত হয় এ শহর শিখিয়েছে। স্বপ্ন দেখা চালিয়ে যেতে হবে। আধ খাওয়া পেট মনে করাতে থাকে শিকড় নিজের। এই শহরে এসেই তো প্রথম শিখলাম রান্না করা, বাসন মাজা, ঘর মোছা, ঝাড় দেওয়া কোন রকেট সাইন্স বা ঘেন্না ঘাটি নয়। আর পাঁচটা কাজ।

এ শহরে এসেই তো দেখলাম থামার কোন দাগ নেই। দৌড়ে যাওয়া, একে অপর কে নিয়ে। একা হয়েছো কি ঝাঁপ দিয়েছো দমবন্ধ প্রেশারকুকার হয়ে।

কলকাতা যদি জানে আমার প্রথম সব কিছু, এ শহর জানবে আমার গোপন সবকিছু। সব গোপন কথা রাতে বলা যায় সমুদ্রপারে। তখন চারপাশে সব্বাই না শোনার ভান করে।

ম্যাজিকে বিশ্বাস রাখা ভালো। এ শহর দুম করে আকাশ ছুঁইয়ে দিতে পারে। তারপর সেখানে টিকে থাকা নিজের ওপর। ছোটবেলা থেকে একটা মনের মত মাস্টারদা খুঁজতাম। ভাবিনি একটা শহর পদে পদে আমাকে জীবন শেখাবে, পোড় খাওয়াবে, ভেউ ভেউ করে কাঁদার পরে মুচকি হেসে দিন শুরু করাবে, আমি ও যে কিছু পারি, তা পীঠে হাত রেখে বোঝাবে।

ছবিটা টাইম ওফ ইন্ডিয়া গেস্ট হাউসের। মেরিন ড্রাইভ এলাকা। আমার ঘরের বিশাল জানালা থেকে তোলা। এই অচেনা শহরে প্রথম এক মাস আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই।

আমার কিন্তু ম্যাজিক দেখতে আজও ভালো লাগে। একটা দারুন আগামীকাল, একটা ঝলমলে, আশাবাদী রোদ্দুর- আসবে জানি।

প্রেমে পড়ে যাওয়া এই শহর ও জানে। চুম্বকটা ওই সমুদ্রের আনাকে কানাচে কোথাও আছে বোধহয়। তাই যাওয়ার সময়টা এগিয়ে আসলে গলার কাছে কি যেন শক্ত হয়ে আসে।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| ফেসবুকে সন্দেহভাজন কি করে চিনবেন? |

| ফেসবুকে সন্দেহভাজন কি করে চিনবেন? |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

১). যারা ফেসবুকে নিজের ছবি,নিজের পোষ্ট নিজেই লাইক করে।

২). যারা কেবল গুড মর্নিং আর গুড নাইট উইশ করে যায়, আর অন্য কথা বলতে গেলেই অফলাইন হয়ে যায়।

৩). যারা সারাদিন ঘাপটি মেরে সব্বার পোষ্ট দেখে কিন্তু কোন লাইক বা কমেন্ট করে না।

৪). যারা whatsapp এর ব্লু ডবল টিক আর লাস্ট সিন অফ করে রাখে।

৫). যারা ফোনের জিপিএস অফ রাখে যাতে ইচ্ছেমত হাইফাই জায়গার নাম দিয়ে চেক ইন করতে পারে।

৬). যারা পাঁচটা লাইক পেতে পঞ্চাশজনকে ট্যাগ করে।

৭). যারা তিনটে ফেসবুক একাউন্ট রাখে, দুটো নিজের নামে আর একটা কোন মহিলার নামে।

৮). যারা প্রোফাইল পিকচার রাখে বিদেশী ফুল হাতে এঞ্জেল, মোবাইল ওয়ালপেপার, এঞ্জেলিনা জোলি বা সালমান খান।

৯). যারা অন্যের লেখা কবিতা, গল্প, ব্লগ শেয়ার করার সময় কিছুতেই লেখকের নাম দেয় না, লেখে কপিইড বা সংগৃহীত।

১০). যারা বেছে বেছে opposite sex এর পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টই কেবল একসেপ্ট করে আর কথায় কথায় Dear ইউজ করে কমেন্ট বা ইনবাক্সে।

তারা জটায়ুর ভাষায় হাইলি সাসপিশিয়াসসসস!!!!

এদের ভার্চুয়ালি সন্দেহের চোখে দেখতে অভ্যেস করুন।

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

|জিডি বিড়লা,রক্তমাখা বাড়ি ও এক নিহত শৈশব |

|জিডি বিড়লা,রক্তমাখা বাড়ি ও এক নিহত শৈশব |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এভাবেই খুন হয় কত শত শৈশবকাল/ আমরা শোকসভা করি। লোন করে ডোনেশন দিয়ে নামী স্কুল জিডি বিড়লাতে ভর্তি করিয়েছিলেন বাড়ির মেয়েকে। কিন্তু স্কুলেই যে ৪ বছরের ছাত্রীর `যৌন নির্যাতন` করা হবে,অভিযুক্ত হবে পিটি টিচার, একটি ও সিসিটিভি থাকবে না। ভাবেন নি।

এটাও তো অকল্পনীয়, কি ভাবে স্কুলের প্রিন্সিপাল শর্মিলা নাগ ঠান্ডা গলায় সাফাই গান স্কুলের। অন্য শিক্ষক অবলিলায় বলবেন পিটি শিক্ষকের `দুষ্টুমি`!

যে স্কুলে সামান্য নিরাপত্তা নেই, অথচ আকাশছোঁয়া মাইনে, সেই স্কুলেরই প্রিন্সিপাল বলতে পারেন বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে। কিন্তু সেই স্কুলই অভিভাবকদের বললে তারা ডোনেশন হোক বা ক্রাফট পেপার একদিনের মধ্যে হাজারো ফরমাইশ পূরণ করে দেয়।

পিটি টিচার প্রথমে স্কুলের বাথরুমে নিয়ে যায় বাচ্চাটিকে। তারপর অন্তর্বাস খুলে গোপনাঙ্গে হাত দেয় ওই শিক্ষক`।`বাথরুমের মধ্যেই শিশুর গোপনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়'। বুকের কাছে দলা পাকানো কি যেন একটা হবে। তারপর রাগ হবে। অনেকটা রাগ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে: পিটি শিক্ষকের `দুষ্টুমি`! বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে।

এভাবেই খুন হয় কত শত শৈশবকাল। কত হাজার অভিনেতা, ক্রিকেটার, শিল্পী মরে যায় ইস্কুলের টয়লেটে। আমরা শোকসভা করি বছর চল্লিশ হলে child abuse সেমিনারে।

এই শিশু সুস্থ হলে আগলে রাখুন। এই শিশুই আর একটু বড় হলে স্ট্রেস বাস্টার হিসেবে ব্লু ওয়েল চ্যালেঞ্জ নেবে। মা বাবা বাড়ি না থাকলে ছোট ভাইকে পাখার সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে শাস্তি শাস্তি খেলা খেলবে। খোলা গলায় গান গাইতে লজ্জা পাবে, কোন প্রশ্ন করতে ভয় পাবে। কেউ ছুঁলে কুঁকড়ে যাবে। সারাজীবন। প্রিন্সিপাল তখনো নতুন কোন দুষ্টুমিকে জাস্টিফাই করবেন।

জিডি বিড়লা আমাদের শৈশবস্মৃতি। যে স্যার কান মুলে না দিলে আমাদের বাংলাটা শেখাই হত না টাইপ না। স্যাডিস্ট, পারভার্টেড টাইপ ছিল যারা।

অকারণ থাবড়ে দিত যারা, জামা খুলে কান ধরে উঠবোস করাতো আর পাছায় সপাটে লাথি মারতো যারা। যে আয়ামাসি স্কুল প্যান্টে হাগু করে ফেললে সবাই কে ডেকে ডেকে দেখাতো আমাদের কীর্তি আর হাগু করা প্যান্টটা শুঁকতে বলতো তারা। যে দারোয়ান কাকু ইয়ার্কি মেরে কাঠ পিঁপড়ে ঢুকিয়ে দিতো ফ্রকের ভিতর, যে স্যার উত্তর ভুল হলেই কোমর, পিছন, থাইতে চিমটি কেটে দিত আর মা মা বলে পীঠে হাত বোলাতো। হ্যা তারা।

আমাদের সব্বার জীবনে একটা করে টফি কাকু বা মিষ্টি কাকি এসেছে কোন না কোন সময়। যারা আমাদের কোলে বসিয়ে টফি খাওয়াতো, পিছনে শক্ত কি যেন ঠেকতো, যারা আমাদের স্নান করাতে পারলে বেশি খুশি হত, যারা আমাদের "ওসব" চটকাই মটকাই করে দিত আর অনেক দিন হয়ে গেলে ওনাদের ওই সব জায়গায় হাত বুলিয়ে দেওয়ায় অদ্ভুত খেলা খেলতো। না বললে বুক জোর সে চিপে দিত। মেয়েটির দুদিন ব্যাথা থাকতো। মা কেও কি আর এসব বলা যায়?

আন্টি পড়াতে এসে চিমটি কাটলে বা পেন্সিল দিয়ে চামড়ায় ফুটিয়ে দিলেও তো কিছু বলা যায় না। স্যার গোপনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেও চুপ করে থাকতে হবে।কারণ আন্টি বা স্যার সব সময় ঠিক হয়। আর আমরা ভুল, বেয়াদপ, শয়তান।

জিডি বিড়লার সমস্ত টিচার বাড়ি ফিরবেন। নিজের মেয়েকে জড়িয়ে ধরবেন। ড্রেস বদলে দেবেন। তারপর আবার পরের দিন টিচার্স রুমে আসবেন। গোটা মেঝেতে রক্ত মাখা একটা ঘর। বই এর মাঝে, দেওয়ালে, আলমারিতে, নোটবুকে, প্রিন্সিপালের হাতে। সাউন্ড বক্স থেকে ক্রমাগত শোনা যাবে: বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে। যদি কেউ দুষ্টুমি করে, তাকে কি আটকানো যায়?

ফেলুদা,তোপসে, ক্যাপ্টেন স্পার্ক, হ্যাডক, মিতিন মাসি, মাঞ্জা দেওয়া, ভোকাট্টা, ন্যাঁড়াপোঁড়া, আম পাড়া শেখানোর লোক গুলো সব অনেক দূরে এখন। হয়তো বা মৃত। থেকে গেল টিচার্স, ডিসিপ্লিন, একটা স্কুলবাড়ি যেখানে শৈশব খুন হয় আর দগদগে একটা দাগ, স্কুলের ব্যাগের চেয়েও ভারী যা সারাজীবন বহন করে যেতে হবে।

বাচ্চাগুলোকে বাঁচাই আসুন, অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| বিরাট একটা শাদি,অজানা তথ্য,বেশ ভয় আর শেষে টুইস্ট |

| বিরাট একটা শাদি,অজানা তথ্য,বেশ ভয় আর শেষে টুইস্ট |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এ যেন রূপকথার বিয়ে। স্বপ্নের নায়ক আর রাজকন্যার বিলেতের রাজবাড়িতে বিয়ে।

বিয়ের ছবিটা বড্ড মিষ্টি। যেমন দারুণ বরকে লাগছে তেমন সুন্দর বউকে। ঝকঝকে এক নবদম্পতি। দেখলেই মন ভালো হয়ে যাওয়া। আসুন কিছু অজানা তথ্য দিই এই বিয়ে নিয়ে। শেষে ভয়ের কারন।

১). এলব্যামের সব ছবি তুলেছেন পৃথিবী বিখ্যাত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার জোসেফ রাধিক। প্রতিদিনের শ্যুটে সাধারণত পাঁচ লাখ করে হাঁকেন দিল্লি বা বম্বে হলে, বাইরে হলে ডবল। এইক্ষেত্রে বিয়ে হল টাসকানি ইটালিতে, প্রায় দুকোটি খরচা হয়েছে কেবল ছবি ও ভিডিওফিল্মিং এ। 'ফিল্ম'ই বটে।

২). অনুষ্কা ও বিরাটের বিয়ে ও বউভাতের সব ছবির এক্সক্লুসিভ রাইট বেচে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট ম্যাগাজিন ও বিনোদন চ্যানেলকে। দুকোটির অনেকটা উঠে আসবে ওখান থেকে।

৩). বিয়ের পর বউভাত হবে দিল্লির তাজ ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ এ। রিসেপশনের নিমন্ত্রণপত্র ছাড়াও একটা মস্ত মিষ্টির বাক্স ও ড্রাই ফ্রুটসের ঝুড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে। নিমন্ত্রণপত্রতে একটা ইউনিক QR Code আছে। সেটি স্ক্যান করা আবশ্যিক। নচেৎ নয়।

৪). সব্যসাচী মুখার্জী অনুষ্কার পোষাক ও গয়নার দ্বায়িত্বে ছিলেন। সব্যসাচী হেরিটেজ জুয়েলারি কালেকশন থেকে কেনা দশ লাখি হিরের নেকলেস পড়েছিল নায়িকা। আনকাট ডায়মন্ড, মাঝে চুনি ও নিচে মুক্তো বসানো। সাথে একই রকম ঝুমকো।

৫). বিয়ের পোষাক ছিল গুলকন্দ বারগেন্ডি রঙের। কলকাতার শ্রেষ্ঠ কারিগর দ্বারা হাতে বোঁনা জরদৌসি ও মারোরি লহেংগা, মাঝে মুক্তোদানা বসানো।

৬). বিরাট দিল্লির পাঞ্জাবি ছেলে। তার জন্য ছিল হাতে বোঁনা বেনারসি কাজের নকশী করা শেরওয়ানি যাতে গোলাপ কাঠের বোতাম লাগানো। সাথে গোলাপি রঙের কোটা সিল্কের পাগড়ী। বুকে পিতলের ব্রোচ। একটিও মান্যবর থেকে কেনা নয়।

৭). পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল শাদিস্কোয়াড নামক সংস্থা। চার মাস ধরে প্ল্যানিং চলেছে। টপ বস ছাড়া বাকি সদস্যরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। সবাই জানতো বড়লোক কোন ক্লায়েন্ট এর বিয়ে হবে বিদেশে। সেই মতো সেট ডিজাইন, লজিস্টিক সাজানো হয়।

৮). হানিমুনে ভিরুষ্কা যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।দুজনের কেউ কাজে যোগ দেবে না।

এ তো গেল বিয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। পাঠক গোগ্রাসে গিললো। এবার ভয় পাচ্ছি যা নিয়ে তা শুনুন নাকি?

ভয়টা অনুষ্কার মত ওই অসম্ভব সুন্দর মেয়েটা আর বিরাটের মত চঞ্চল একরোখা ছেলেটাকে নিয়ে। হাজার ওয়াটের আলো, নিউজপ্রিন্ট, বাইট, জয়ধ্বনি, ফ্যানক্লাব, স্টেডিয়াম এর আওয়াজ এর মাঝে টিকিয়ে রাখা একটা দাম্পত্য নিয়ে। কারন

আজ থেকে রোজ, প্রতিবার, প্রতি ম্যাচে, প্রত্যেকটা টুর্নামেন্ট এ বিরাট একটা বোঝা নিয়ে মাঠে নামবে। ওকে ভালো রান করতেই হবে। জিততেই হবে। অন্তত বিয়ের এক বছর। নয়তো নববধূকে "ডাইনি" "অপয়া" "পানৌতি" "কালমুহি" সহ একাধিক নামে ডাকা হবে। বলা হবে যবে থেকে বিয়ে হল, বিরাটের ফর্ম নেই।

অন্যদিকে অনুষ্কা যে ছবিই করুক, বলা হবে কেরিয়ার শেষ, জরিপ করা হবে কতো কেজি ওজন বাড়লো। ঠোঁটে চর্বি জমলো?ছবি ফ্লপ হলে তো কথাই নেই। এবার বাচ্চা টাচ্চা করে বাড়িতে থাকুক না বাপ!

ডবল সেঞ্চুরি, রেকর্ড ভাঙা ইনিংস খেলেছে বিরাট। এবার আসল ইনিংস। সমাজের সাথে লড়াই করে, ঘরেবাইরে মানিয়ে চলে, অনেক খারাপ লাগা আপোষ করে ভীরুষ্কার সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষারত দেশ। শুভাকাঙ্ক্ষী।

দুজনেই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা, মধ্যবিত্ত ভালোলাগা, পাড়ার ছেলে, পাশের বাড়ির মেয়ে থেকে একদিন রাজপুত্তুর আর রাজকন্যা হওয়া। অনেক অল্প বয়েসে অনেক কিছু পাওয়া। যত্নে থাকুক এই ভালোবাসা। হাজার পাপারাজ্জি আর গুজব আর মশলামাখা নিউজপ্রিন্টের মুখে ঝামা ঘোঁষে।

এত গেল বিয়ের তথ্য, খুঁটিনাটি, ভয়। এবার শেষ পাতের টুইস্ট টা হল, মান্যবর ওয়েডিং কালেকশনের বিজ্ঞাপণী ছবিটা মনে আছে নিশ্চই? বিয়ের পর কি কি করবে তার প্রতিজ্ঞা নিচ্ছে দুজন? এবার মান্যবর দ্বিতীয় একটা ভিডিও নাকি বের করছে যেখানে দুজনের সাতপাক ও অগ্নিসাক্ষী রাখার দৃশ্য দেখা যাবে। বিয়ে করার দৃশ্য তখনই শুটিং করে নেওয়া। তুখোড় বিপণনী বুদ্ধি দিন গুনছিল বিয়ের। এবার সেই ভিডিও গাঁক গাঁক করে চলবে। খুনের খবরের মাঝে, ধর্ষণের খবরের মাঝে, খারাপ খবরের মাঝে।

রূপকথা দেখতে কার না ভালো লাগে? সবকিছু ঝকঝকে, গ্লানি নেই, দারিদ্র নেই, ক্ষোভ নেই। থাকার মধ্যে আছে একটা বাজার নির্ধারিত গুড লাইফ। অনেকটা বড় পকেট আর এক আকাশ ভোগবাদ।

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ