কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Tuesday, December 12, 2017

| শেষের দু এক লাইন........ |

| শেষের দু এক লাইন........ |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

চেক-ইন ব্যাগেজ এ অনেকটা কাজ করার তাগিদ নিয়ে এসেছিলাম, বুক পকেটে অল্প দুঃসাহস আর জেদ। বাদ বাকি যা লাগে এই শহর শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছিল।

এই শহর কথা বলে মাঝরাতে সমুদ্রের পাশে বসলে। খুব মনখারাপ হলে ম্যাজিক দেখায়। ম্যাজিক এ বিশ্বাস রাখা ভালো।

একটা থোকে যাওয়া কলজে আর হেজে যাওয়া কাজের তাগিদ নিয়ে বোম্বে এসেছিলাম। এক বছর সাত মাস আগে। আর ৪৮ ঘন্টা পরে চলে যাওয়ার পালা। এ শহর ছেড়ে। প্লেন আকাশ দিয়ে ওই চোখা চোখা বাড়ির ওপর দিয়ে যাবে, আরবসাগর ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকবে। উইন্ডো সিট নেওয়া ঠিক না। ঝাপ্পা হতে পারে যখন তখন। চোখ।

একটা ভাডা পাও, দুটো কলা খেয়ে কি করে কাজ করত হয় এ শহর শিখিয়েছে। স্বপ্ন দেখা চালিয়ে যেতে হবে। আধ খাওয়া পেট মনে করাতে থাকে শিকড় নিজের। এই শহরে এসেই তো প্রথম শিখলাম রান্না করা, বাসন মাজা, ঘর মোছা, ঝাড় দেওয়া কোন রকেট সাইন্স বা ঘেন্না ঘাটি নয়। আর পাঁচটা কাজ।

এ শহরে এসেই তো দেখলাম থামার কোন দাগ নেই। দৌড়ে যাওয়া, একে অপর কে নিয়ে। একা হয়েছো কি ঝাঁপ দিয়েছো দমবন্ধ প্রেশারকুকার হয়ে।

কলকাতা যদি জানে আমার প্রথম সব কিছু, এ শহর জানবে আমার গোপন সবকিছু। সব গোপন কথা রাতে বলা যায় সমুদ্রপারে। তখন চারপাশে সব্বাই না শোনার ভান করে।

ম্যাজিকে বিশ্বাস রাখা ভালো। এ শহর দুম করে আকাশ ছুঁইয়ে দিতে পারে। তারপর সেখানে টিকে থাকা নিজের ওপর। ছোটবেলা থেকে একটা মনের মত মাস্টারদা খুঁজতাম। ভাবিনি একটা শহর পদে পদে আমাকে জীবন শেখাবে, পোড় খাওয়াবে, ভেউ ভেউ করে কাঁদার পরে মুচকি হেসে দিন শুরু করাবে, আমি ও যে কিছু পারি, তা পীঠে হাত রেখে বোঝাবে।

ছবিটা টাইম ওফ ইন্ডিয়া গেস্ট হাউসের। মেরিন ড্রাইভ এলাকা। আমার ঘরের বিশাল জানালা থেকে তোলা। এই অচেনা শহরে প্রথম এক মাস আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই।

আমার কিন্তু ম্যাজিক দেখতে আজও ভালো লাগে। একটা দারুন আগামীকাল, একটা ঝলমলে, আশাবাদী রোদ্দুর- আসবে জানি।

প্রেমে পড়ে যাওয়া এই শহর ও জানে। চুম্বকটা ওই সমুদ্রের আনাকে কানাচে কোথাও আছে বোধহয়। তাই যাওয়ার সময়টা এগিয়ে আসলে গলার কাছে কি যেন শক্ত হয়ে আসে।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| ফেসবুকে সন্দেহভাজন কি করে চিনবেন? |

| ফেসবুকে সন্দেহভাজন কি করে চিনবেন? |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

১). যারা ফেসবুকে নিজের ছবি,নিজের পোষ্ট নিজেই লাইক করে।

২). যারা কেবল গুড মর্নিং আর গুড নাইট উইশ করে যায়, আর অন্য কথা বলতে গেলেই অফলাইন হয়ে যায়।

৩). যারা সারাদিন ঘাপটি মেরে সব্বার পোষ্ট দেখে কিন্তু কোন লাইক বা কমেন্ট করে না।

৪). যারা whatsapp এর ব্লু ডবল টিক আর লাস্ট সিন অফ করে রাখে।

৫). যারা ফোনের জিপিএস অফ রাখে যাতে ইচ্ছেমত হাইফাই জায়গার নাম দিয়ে চেক ইন করতে পারে।

৬). যারা পাঁচটা লাইক পেতে পঞ্চাশজনকে ট্যাগ করে।

৭). যারা তিনটে ফেসবুক একাউন্ট রাখে, দুটো নিজের নামে আর একটা কোন মহিলার নামে।

৮). যারা প্রোফাইল পিকচার রাখে বিদেশী ফুল হাতে এঞ্জেল, মোবাইল ওয়ালপেপার, এঞ্জেলিনা জোলি বা সালমান খান।

৯). যারা অন্যের লেখা কবিতা, গল্প, ব্লগ শেয়ার করার সময় কিছুতেই লেখকের নাম দেয় না, লেখে কপিইড বা সংগৃহীত।

১০). যারা বেছে বেছে opposite sex এর পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টই কেবল একসেপ্ট করে আর কথায় কথায় Dear ইউজ করে কমেন্ট বা ইনবাক্সে।

তারা জটায়ুর ভাষায় হাইলি সাসপিশিয়াসসসস!!!!

এদের ভার্চুয়ালি সন্দেহের চোখে দেখতে অভ্যেস করুন।

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

|জিডি বিড়লা,রক্তমাখা বাড়ি ও এক নিহত শৈশব |

|জিডি বিড়লা,রক্তমাখা বাড়ি ও এক নিহত শৈশব |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এভাবেই খুন হয় কত শত শৈশবকাল/ আমরা শোকসভা করি। লোন করে ডোনেশন দিয়ে নামী স্কুল জিডি বিড়লাতে ভর্তি করিয়েছিলেন বাড়ির মেয়েকে। কিন্তু স্কুলেই যে ৪ বছরের ছাত্রীর `যৌন নির্যাতন` করা হবে,অভিযুক্ত হবে পিটি টিচার, একটি ও সিসিটিভি থাকবে না। ভাবেন নি।

এটাও তো অকল্পনীয়, কি ভাবে স্কুলের প্রিন্সিপাল শর্মিলা নাগ ঠান্ডা গলায় সাফাই গান স্কুলের। অন্য শিক্ষক অবলিলায় বলবেন পিটি শিক্ষকের `দুষ্টুমি`!

যে স্কুলে সামান্য নিরাপত্তা নেই, অথচ আকাশছোঁয়া মাইনে, সেই স্কুলেরই প্রিন্সিপাল বলতে পারেন বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে। কিন্তু সেই স্কুলই অভিভাবকদের বললে তারা ডোনেশন হোক বা ক্রাফট পেপার একদিনের মধ্যে হাজারো ফরমাইশ পূরণ করে দেয়।

পিটি টিচার প্রথমে স্কুলের বাথরুমে নিয়ে যায় বাচ্চাটিকে। তারপর অন্তর্বাস খুলে গোপনাঙ্গে হাত দেয় ওই শিক্ষক`।`বাথরুমের মধ্যেই শিশুর গোপনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়'। বুকের কাছে দলা পাকানো কি যেন একটা হবে। তারপর রাগ হবে। অনেকটা রাগ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে: পিটি শিক্ষকের `দুষ্টুমি`! বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে।

এভাবেই খুন হয় কত শত শৈশবকাল। কত হাজার অভিনেতা, ক্রিকেটার, শিল্পী মরে যায় ইস্কুলের টয়লেটে। আমরা শোকসভা করি বছর চল্লিশ হলে child abuse সেমিনারে।

এই শিশু সুস্থ হলে আগলে রাখুন। এই শিশুই আর একটু বড় হলে স্ট্রেস বাস্টার হিসেবে ব্লু ওয়েল চ্যালেঞ্জ নেবে। মা বাবা বাড়ি না থাকলে ছোট ভাইকে পাখার সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে শাস্তি শাস্তি খেলা খেলবে। খোলা গলায় গান গাইতে লজ্জা পাবে, কোন প্রশ্ন করতে ভয় পাবে। কেউ ছুঁলে কুঁকড়ে যাবে। সারাজীবন। প্রিন্সিপাল তখনো নতুন কোন দুষ্টুমিকে জাস্টিফাই করবেন।

জিডি বিড়লা আমাদের শৈশবস্মৃতি। যে স্যার কান মুলে না দিলে আমাদের বাংলাটা শেখাই হত না টাইপ না। স্যাডিস্ট, পারভার্টেড টাইপ ছিল যারা।

অকারণ থাবড়ে দিত যারা, জামা খুলে কান ধরে উঠবোস করাতো আর পাছায় সপাটে লাথি মারতো যারা। যে আয়ামাসি স্কুল প্যান্টে হাগু করে ফেললে সবাই কে ডেকে ডেকে দেখাতো আমাদের কীর্তি আর হাগু করা প্যান্টটা শুঁকতে বলতো তারা। যে দারোয়ান কাকু ইয়ার্কি মেরে কাঠ পিঁপড়ে ঢুকিয়ে দিতো ফ্রকের ভিতর, যে স্যার উত্তর ভুল হলেই কোমর, পিছন, থাইতে চিমটি কেটে দিত আর মা মা বলে পীঠে হাত বোলাতো। হ্যা তারা।

আমাদের সব্বার জীবনে একটা করে টফি কাকু বা মিষ্টি কাকি এসেছে কোন না কোন সময়। যারা আমাদের কোলে বসিয়ে টফি খাওয়াতো, পিছনে শক্ত কি যেন ঠেকতো, যারা আমাদের স্নান করাতে পারলে বেশি খুশি হত, যারা আমাদের "ওসব" চটকাই মটকাই করে দিত আর অনেক দিন হয়ে গেলে ওনাদের ওই সব জায়গায় হাত বুলিয়ে দেওয়ায় অদ্ভুত খেলা খেলতো। না বললে বুক জোর সে চিপে দিত। মেয়েটির দুদিন ব্যাথা থাকতো। মা কেও কি আর এসব বলা যায়?

আন্টি পড়াতে এসে চিমটি কাটলে বা পেন্সিল দিয়ে চামড়ায় ফুটিয়ে দিলেও তো কিছু বলা যায় না। স্যার গোপনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেও চুপ করে থাকতে হবে।কারণ আন্টি বা স্যার সব সময় ঠিক হয়। আর আমরা ভুল, বেয়াদপ, শয়তান।

জিডি বিড়লার সমস্ত টিচার বাড়ি ফিরবেন। নিজের মেয়েকে জড়িয়ে ধরবেন। ড্রেস বদলে দেবেন। তারপর আবার পরের দিন টিচার্স রুমে আসবেন। গোটা মেঝেতে রক্ত মাখা একটা ঘর। বই এর মাঝে, দেওয়ালে, আলমারিতে, নোটবুকে, প্রিন্সিপালের হাতে। সাউন্ড বক্স থেকে ক্রমাগত শোনা যাবে: বললেই তো একদিনে সিসিটিভি লাগানো যায় না। টাইম লাগে। যদি কেউ দুষ্টুমি করে, তাকে কি আটকানো যায়?

ফেলুদা,তোপসে, ক্যাপ্টেন স্পার্ক, হ্যাডক, মিতিন মাসি, মাঞ্জা দেওয়া, ভোকাট্টা, ন্যাঁড়াপোঁড়া, আম পাড়া শেখানোর লোক গুলো সব অনেক দূরে এখন। হয়তো বা মৃত। থেকে গেল টিচার্স, ডিসিপ্লিন, একটা স্কুলবাড়ি যেখানে শৈশব খুন হয় আর দগদগে একটা দাগ, স্কুলের ব্যাগের চেয়েও ভারী যা সারাজীবন বহন করে যেতে হবে।

বাচ্চাগুলোকে বাঁচাই আসুন, অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| বিরাট একটা শাদি,অজানা তথ্য,বেশ ভয় আর শেষে টুইস্ট |

| বিরাট একটা শাদি,অজানা তথ্য,বেশ ভয় আর শেষে টুইস্ট |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এ যেন রূপকথার বিয়ে। স্বপ্নের নায়ক আর রাজকন্যার বিলেতের রাজবাড়িতে বিয়ে।

বিয়ের ছবিটা বড্ড মিষ্টি। যেমন দারুণ বরকে লাগছে তেমন সুন্দর বউকে। ঝকঝকে এক নবদম্পতি। দেখলেই মন ভালো হয়ে যাওয়া। আসুন কিছু অজানা তথ্য দিই এই বিয়ে নিয়ে। শেষে ভয়ের কারন।

১). এলব্যামের সব ছবি তুলেছেন পৃথিবী বিখ্যাত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার জোসেফ রাধিক। প্রতিদিনের শ্যুটে সাধারণত পাঁচ লাখ করে হাঁকেন দিল্লি বা বম্বে হলে, বাইরে হলে ডবল। এইক্ষেত্রে বিয়ে হল টাসকানি ইটালিতে, প্রায় দুকোটি খরচা হয়েছে কেবল ছবি ও ভিডিওফিল্মিং এ। 'ফিল্ম'ই বটে।

২). অনুষ্কা ও বিরাটের বিয়ে ও বউভাতের সব ছবির এক্সক্লুসিভ রাইট বেচে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট ম্যাগাজিন ও বিনোদন চ্যানেলকে। দুকোটির অনেকটা উঠে আসবে ওখান থেকে।

৩). বিয়ের পর বউভাত হবে দিল্লির তাজ ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ এ। রিসেপশনের নিমন্ত্রণপত্র ছাড়াও একটা মস্ত মিষ্টির বাক্স ও ড্রাই ফ্রুটসের ঝুড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে। নিমন্ত্রণপত্রতে একটা ইউনিক QR Code আছে। সেটি স্ক্যান করা আবশ্যিক। নচেৎ নয়।

৪). সব্যসাচী মুখার্জী অনুষ্কার পোষাক ও গয়নার দ্বায়িত্বে ছিলেন। সব্যসাচী হেরিটেজ জুয়েলারি কালেকশন থেকে কেনা দশ লাখি হিরের নেকলেস পড়েছিল নায়িকা। আনকাট ডায়মন্ড, মাঝে চুনি ও নিচে মুক্তো বসানো। সাথে একই রকম ঝুমকো।

৫). বিয়ের পোষাক ছিল গুলকন্দ বারগেন্ডি রঙের। কলকাতার শ্রেষ্ঠ কারিগর দ্বারা হাতে বোঁনা জরদৌসি ও মারোরি লহেংগা, মাঝে মুক্তোদানা বসানো।

৬). বিরাট দিল্লির পাঞ্জাবি ছেলে। তার জন্য ছিল হাতে বোঁনা বেনারসি কাজের নকশী করা শেরওয়ানি যাতে গোলাপ কাঠের বোতাম লাগানো। সাথে গোলাপি রঙের কোটা সিল্কের পাগড়ী। বুকে পিতলের ব্রোচ। একটিও মান্যবর থেকে কেনা নয়।

৭). পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল শাদিস্কোয়াড নামক সংস্থা। চার মাস ধরে প্ল্যানিং চলেছে। টপ বস ছাড়া বাকি সদস্যরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। সবাই জানতো বড়লোক কোন ক্লায়েন্ট এর বিয়ে হবে বিদেশে। সেই মতো সেট ডিজাইন, লজিস্টিক সাজানো হয়।

৮). হানিমুনে ভিরুষ্কা যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।দুজনের কেউ কাজে যোগ দেবে না।

এ তো গেল বিয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। পাঠক গোগ্রাসে গিললো। এবার ভয় পাচ্ছি যা নিয়ে তা শুনুন নাকি?

ভয়টা অনুষ্কার মত ওই অসম্ভব সুন্দর মেয়েটা আর বিরাটের মত চঞ্চল একরোখা ছেলেটাকে নিয়ে। হাজার ওয়াটের আলো, নিউজপ্রিন্ট, বাইট, জয়ধ্বনি, ফ্যানক্লাব, স্টেডিয়াম এর আওয়াজ এর মাঝে টিকিয়ে রাখা একটা দাম্পত্য নিয়ে। কারন

আজ থেকে রোজ, প্রতিবার, প্রতি ম্যাচে, প্রত্যেকটা টুর্নামেন্ট এ বিরাট একটা বোঝা নিয়ে মাঠে নামবে। ওকে ভালো রান করতেই হবে। জিততেই হবে। অন্তত বিয়ের এক বছর। নয়তো নববধূকে "ডাইনি" "অপয়া" "পানৌতি" "কালমুহি" সহ একাধিক নামে ডাকা হবে। বলা হবে যবে থেকে বিয়ে হল, বিরাটের ফর্ম নেই।

অন্যদিকে অনুষ্কা যে ছবিই করুক, বলা হবে কেরিয়ার শেষ, জরিপ করা হবে কতো কেজি ওজন বাড়লো। ঠোঁটে চর্বি জমলো?ছবি ফ্লপ হলে তো কথাই নেই। এবার বাচ্চা টাচ্চা করে বাড়িতে থাকুক না বাপ!

ডবল সেঞ্চুরি, রেকর্ড ভাঙা ইনিংস খেলেছে বিরাট। এবার আসল ইনিংস। সমাজের সাথে লড়াই করে, ঘরেবাইরে মানিয়ে চলে, অনেক খারাপ লাগা আপোষ করে ভীরুষ্কার সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষারত দেশ। শুভাকাঙ্ক্ষী।

দুজনেই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা, মধ্যবিত্ত ভালোলাগা, পাড়ার ছেলে, পাশের বাড়ির মেয়ে থেকে একদিন রাজপুত্তুর আর রাজকন্যা হওয়া। অনেক অল্প বয়েসে অনেক কিছু পাওয়া। যত্নে থাকুক এই ভালোবাসা। হাজার পাপারাজ্জি আর গুজব আর মশলামাখা নিউজপ্রিন্টের মুখে ঝামা ঘোঁষে।

এত গেল বিয়ের তথ্য, খুঁটিনাটি, ভয়। এবার শেষ পাতের টুইস্ট টা হল, মান্যবর ওয়েডিং কালেকশনের বিজ্ঞাপণী ছবিটা মনে আছে নিশ্চই? বিয়ের পর কি কি করবে তার প্রতিজ্ঞা নিচ্ছে দুজন? এবার মান্যবর দ্বিতীয় একটা ভিডিও নাকি বের করছে যেখানে দুজনের সাতপাক ও অগ্নিসাক্ষী রাখার দৃশ্য দেখা যাবে। বিয়ে করার দৃশ্য তখনই শুটিং করে নেওয়া। তুখোড় বিপণনী বুদ্ধি দিন গুনছিল বিয়ের। এবার সেই ভিডিও গাঁক গাঁক করে চলবে। খুনের খবরের মাঝে, ধর্ষণের খবরের মাঝে, খারাপ খবরের মাঝে।

রূপকথা দেখতে কার না ভালো লাগে? সবকিছু ঝকঝকে, গ্লানি নেই, দারিদ্র নেই, ক্ষোভ নেই। থাকার মধ্যে আছে একটা বাজার নির্ধারিত গুড লাইফ। অনেকটা বড় পকেট আর এক আকাশ ভোগবাদ।

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Tuesday, November 28, 2017

| গেঁয়ো যোগী বঙ্গে ভিক পায়না, পায় একরাশ বিস্মৃতি |

| গেঁয়ো যোগী বঙ্গে ভিক পায়না, পায় একরাশ বিস্মৃতি |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

যোগীর আগে নিদেনপক্ষে একটা আদিত্যনাথ বা ভৌগলিক দূরত্ব সৃষ্টি হলে তবে তার দাম বাড়ে বঙ্গে। যেরকম বিদেশী পুরস্কার আনলে সত্যজিৎ ভালো ছবিকরিয়ে।

দূরত্ব সম্ভ্রম জন্ম দেয়। আপনার আমার চারপাশে ফ্যা ফ্যা ঘুরলে আপনি আবাল কোটা। বিলেতফেরত হলে আপনি সাহেব। বাঙালি ভাবে। ভাবাতে ভালোবাসে।

কমরেড পল্টু বা কমরেড বিশু গোছের সম্ভাষণ শুনলেই হ্যাটাযুক্ত হাসি পায়। শ্লেষ ও থাকে তাতে। কিন্তু গলায় বাড়তি ব্যারিটোন এনে কমরেড নামুদ্রিপাদ বা নিদেনপক্ষে কমরেড কারাত বললেই যার পর নাই তুষ্টি পাই। কমরেড লেনিন বা স্ত্যালিন হয়, সন্তু বা সিরাজ হয় না।

তেনজিং, হিলারি পাঠ্যবিষয় হয়। রাধানাথ শিকদার নাম বললে চোখ কপালে তুলি। অথচ গোটা এভারেস্ট এর মাপ-জোক থেকে ত্রিকোণমিতিক গণনা করে এই বান্দাই সর্বপ্রথম নির্ণয় করেন যে, এই শৃঙ্গ বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। তবে নামাঙ্কনের সময় নাম দেওয়া হয় তার সাহেব জর্জ এভারেস্টের নামে।

যদিও জর্জ স্বয়ং তাঁর নিজের নাম ব্যবহারের বিরোধী ছিলেন কারন এভারেস্ট নামটি হিন্দিতে লেখা যায় না ও ভারতীয়রা উচ্চারণ করতে পারেন না। এরপরেও বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাঁর নামানুসারে রাখা হয় মাউন্ট এভারেস্ট। মাউন্ট রাধানাথ বা মাউন্ট শিকদার হলে আমাদের নাক শিঁটকোতে হত।

রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কোথায় যেন পড়েছেন তাই না? মহেঞ্জোদারোর নাম শুনেছেন।উনি মহেঞ্জোদাড়ো পুনরাবিষ্কার করেন। অথচ কাজপাগল এই মানুষটির সারাজীবনে জুটেছিল নানাবিধ দুর্ভোগ। জওহরলাল নেহরু অব্দি তাঁর  ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া বইতে মহেঞ্জোদরো-র দুনিয়া কাঁপানো প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের কৃতিত্ব পুরোটাই দিয়েছেন জন মার্শালকে। অথচ এ ক্ষেত্রে রাখালদাসের কাজকেই আজ মান্যতা দেওয়া হচ্ছে সারা বিশ্বে। মৃত্যুর একশো বছর বাদে।

পৃথিবীর দ্বিতীয় ও ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবী তৈরি করে এক বাঙ্গালী ডাক্তারকে আত্মহত্যা করতে হয়। ড. সুভাষ মুখোপাধ্যায়। পৃথিবীর জানতে ৫০ বছর লেগে যায় চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর অবদান। সার্দান অ্যাভিনিউর ছোট ফ্ল্যাটে সামান্য কিছু উপকরণ আর একটা ছোট ফ্রিজ ব্যবহার করে আইভিএফ-ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে তৈরি করলেন দুর্গা।

বদলে প্রথমে তাকে বদলী করে দেওয়া হলো কলকাতা থেকে বাঁকুড়ার একটি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে। যাতে তিনি পরবর্তীতে তার গবেষণা চালিয়ে যেতে না পারেন। এরপর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তবু চারতলার সিঁড়ি বেয়ে তাকে রোজ কাজ করতে যেতে হতো। জাপান থেকে তার কাজের উপর একটা সেমিনারে বক্তৃতা করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। চুড়ান্ত অপমান সহ্য করার পর ১৯৮২ সালে ১৯ শে জুন আত্মহত্যা করেন। বাঙালির ভাগ্যিস তখন স্টার জলসা ছিল না। তাই এক হপ্তা তবু আলোচনা হয়েছিল তারপর ফের ভিনদেশি মুগ্ধতা।

এরা ও বাংলার হ্যালোজেন হতে পারতো। এরা খুন হয়েছিল অবহেলায়। রোজ ট্রামে বাসে ধর্মতলার মোড়ে যে ভাবে অজস্র প্রতিভা লাশ হয়ে ঘরে ফেরে। মাসকাবারি বাজার, ফ্ল্যাটের ইএমআই, মেয়ের নতুন জামা কেনার চাপে দম আটকে বাঁচে।

দূরত্ব সম্ভ্রম জন্ম দেয়। পাত্তা কম দিলে নাকি গুরুত্ব বাড়ে। আধা লেখা বুঝলে নাকি সে লেখা কালজয়ী। পাঁচতারা হোটেলে বাঙালির ধারকবাহক সেজে একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিলেই তা অভূতপূর্ব সিনেমা, অকল্পনীয় কবিতা।

জ্যোতি বাবু বলতেন, মানুষ ও নেতার মধ্যে সামান্য হলেও দূরত্ব থাকা দরকারি। নেতা যদি প্রজার মত বারবার ভুল করে, ক্ষমা চায়, দিকভ্রান্ত হয়, তবে তার প্রতি সম্ভ্রম কমে।

কি জানি তাই হয়তো বাঙালিকে কসমোপলিটান  প্রমাণ করতে বাংলাভাষা, সংস্কৃতি নিয়ে খিল্লি করতে হয়। উদার প্রমাণ করতে নিজভূমে হিন্দিতে কথা চালাতে হয়, রেগে গেলে বা শিক্ষিত জাহির করতে ইংলিশ আউড়াতে হয়।

গাঁড় মেরেছে বলাতে কোন সফিস্টিকেশন নেই। ফাক শব্দতে আছে। যেরকম শতাব্দী প্রাচীন তৃপ্তি বারে পুরনো কাঠের চেয়ারে বসে রাম, কাতলা মাছভাজা, ফালি ফালি ভিনিগারে চোবানো আদা, নুন, সেদ্ধ ছোলা শেষ করাতে কোন আভিজাত্য নেই। ওহ! ক্যালকাটা বা মোক্যাম্বোতে আছে। সম্ভ্রম, পচে যাওয়া বাঙালিয়ানাকে ফর্মালিন মাখিয়ে পরিবেশন করতে ফাইন ডাইনিং শেফ লাগে। পাইস হোটেলের রাঁধুনে ঠাকুর কবেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Sunday, October 15, 2017

এখন নয়তো কখন?

| এখন নয়তো কখন? |

---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

গোটা রাজ্য জুরে মাংসপোঁড়া গন্ধ। জমে থাকা রাগের উষ্ণতা খেটে খাওয়া ঘামের সাথে দড় দড় করে পরছে আমার আপনার গায়। আপনি স্টার জলসা আর ঘন্টাখানেক এর মাঝে টের পাচ্ছেন না। এখন যদি দারুন রাগে যুদ্ধ না হয়, তবে কখন হবে?

গোটা রাজ্যে বিগত এক দশকে একটাও নতুন ভারী শিল্প আসেনি। কোন উল্লেখযোগ্য বহুজাতিক সংস্থা অফিস খোলেনি, সেক্টর ফাইভেই আইটি স্বপ্ন শেষ। কোন চাকরী নেই, ফোট। এখন যদি রগ না চটে তবে কখন?

একটা বিশাল বৃদ্ধাশ্রম। নাম কলকাতা। প্রবাসের বহু ছেলেমেয়ে এই বৃদ্ধাশ্রমকে নিজের ঘর বলে মনে  করে। বাড়ি বানায়ে দিল্লী,বম্বে,লন্ডন।

কলকাতায় রমরমা বাড়ে আয়া সার্ভিস, ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার এর হোম ডেলিভারি, একাকিত্ব দূর করতে স্কাইপ শেখানো, ফিজিওথেরাপি, ডিলাক্স বৃদ্ধাশ্রম এর। এগুলোই রমরমা শিল্প। এখন অভিমান নয়তো কখন?

অন্য রাজ্যে টাটা বিদায় নিলে শোক পালন হয়, এখানে দেবীর জন্ম হয়। দেবী উদযাপনেই খুশি। বদল এখন নয় তো কখন?

কিছু লুম্পেন ধর্মের নামে ঘর জ্বালাবে, পুলিশ মারবে, হেলমেট না পড়ে বাইক চালাবে, অস্ত্র মিছিল করবে আর তাদের মাথা মেরে গুঁড়িয়ে দেবো না? তাদের তোষন করতে হবে? এখন?

বিএ পাশ, এমএ পাশ করছে ছেলেমেয়েরা। পুরুষতান্ত্রিক বাংলায় প্রেমিকের হাতে রুমাল ধরিয়ে মেয়েগুলো বিয়ে করে মুম্বাই, দিল্লী, লন্ডন চলে যাচ্ছে আর ছেলেগুলো সিন্ডিকেট বা ওলা উবের এর লাইসেন্স নিচ্ছে। খুব বেশী হলে পৌরসভায় কাজ। অন্য রাজ্যে এই শিক্ষাগত যোগ্যতায় ম্যানেজার হয় লোকে। ফি বছর ১৫% ইনক্রিমেন্ট নিয়ে।

কোন নতুন চ্যানেল নেই, খবরের কাগজ নেই, আপিস, স্টার্টআপ,স্বপ্নঘোর বৃদ্ধি নেই। থাকার মধ্যে হতাশা চায়ের দোকানে, ক্যারাম আর তাস পেটানোয়।

এখন রাগ হবে না তো কখন হবে? বাদুরিয়ার আগুন আমার বাংলা নয়। আমার বাংলা বিসমিল্লার সানাই এ শুভ দৃষ্টি, ব্রাহ্মণ দলিত মুসলিম নির্বিশেষে বিরিয়ানিপ্রেম, টপ শটে হাওড়া ব্রিজ।

আসুন না, যেটা যার ভুল সেটা বলি। যদি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয় আসুন ঘেন্না করি একসাথে, যদি মন্দিরে গরুর মাংস ছুড়ে দেওয়া হয় সেটার ও নিন্দা করি।

আসুন না দুই ধর্ম থেকেই হাত ধরি শপথ নিতে। কেউ যদি বেশী পায়, পাওয়ার হিসেব নাও কেন না অনেক লোক ভালো সব পায়না। লড়াইটা চাকরি পেতে, দু বেলা খেতে, পড়তে পাওয়ার জন্য হোক। মন্দির, মসজিদ তৈরি করলে শিল্প আসেনা। আগুন জ্বালালেও আসেনা।

উন্নয়ন এর রথ যাত্রা কবে হবে এই পোড়া দেশে? কবে দাঙ্গা বাঁধবে বিশ্বমানের কারখানা, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প পেতে নিজের মাটিতে। দেখবেন প্রত্যেক কারখানা তখন মন্দির, মাজার হবে। ধর্ম হবে উন্নয়নের গতি।

যারা অস্ত্র মিছিল করছে, ঘর জ্বালাচ্ছে, রথ পোঁড়াচ্ছে, মাজারে ঢিল ছুঁড়ছে, তাদের চাকরিজীবন দিন। ব্যাবসা দিন। ব্রোকার, ডিলার, রিটেইলার হতে দিন। মতাদর্শ দরজা খুলুন। শিল্প বৃদ্ধি আনুন। ধন্দা সে বড়া কোই ধরম নেহি হোতা!

এবার কাজ দিন। অনেক অনেক কাজ। নয়তো অলস মস্তিষ্কজাত পিটিয়ে মারা, দাঙ্গা বাধানো, গুজব ছড়ানো চলতেই থাকবে আমার বাংলায়। ভিক্টোরিয়া, দার্জিলিং, খোয়াই, লালমাটির বাংলায়।

© ---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

গুজব

| গুজব |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

গুজব বলতে ছোটবেলায় ভাবতাম আনন্দলোক আর নবকল্লোল এর প্রচ্ছদ কাহিনী। রসালো, ধারনানির্ভর, দুপুরবেলা বালিশ চেপে বা সন্ধের ক্যারাম ঠেকের মাখোমাখো খোরাক। গ্লসি ছাপার অক্ষরগুলো কখন যেন আমার বাড়ি, মায়ের শাড়ী, ভাতের থালা, বাবার পিটিয়ে মারা লাশের সাথে জ্বলতে থাকলো। গুজবে।

গুজবেই তো যুদ্ধ লাগে। গোল্লাছুটের মাঠ, প্রিয় শহর, পোষা বেড়ালছাড়া হতে হয় লেখককে। পরে থাকে না পাওয়া স্বীকৃতি, অপমান, এক ডক্টর কি মউত!

গুজবকে ইদানীং আঙুলে ছোঁয়া যায়, মোবাইল থেকে মোবাইল ছিটিয়ে দেওয়া যায়। সরকার নাকি এবার ৫০টাকার নোট বাতিল করবে, গণেশ ফের দুধ খাবে, ফেসবুক দাম দিয়ে ব্যাবহার করতে হবে, জিএসটির জন্য পোস্ট আপিসে সুদের হার ৪% হবে ইত্যাদি।

গুজবের গরু তুলসী গাছে ওঠে, মুসলিম ছেলের পাশে বসে করুণভাবে, মায়ের রুপ নেওয়া মাত্র তাকে নিধন করা হয় চাপাতি দিয়ে, তারপর ট্রেনে ধরা পরে নির্ঘাত কোন বীর হিন্দু পরিত্রাতার হাতে।

গুজবেই তো রক্ত গরম হয়। ভোজপুরি ছবির বলাতকার দৃশ্য বেমালুম চালিয়ে দেওয়া হয় হিন্দু নারীকে প্রকাশ্য রাস্তায় নগ্ন করা হয়েছে বলে। পাল্টা লোক জড়ো হয়, নবীর ছবিতে বিকৃতি করা হয়েছে মাইকে প্রচার করে। মন্দিরে গরু ছোঁড়া হয়েছিল, পবিত্র গ্রন্থকে কি সাংঘাতিক সব....

গুজবেই তো ১৮৫৭ এর সেপাই বিদ্রোহ। দাঁতে কাঁটতে হবে গরু ও শুয়োর। গুজবেই তো সংবাদ শিরোনাম দাদরি। মুর্শিদাবাদ এ শিশুচোর সন্দেহে মহিলাকে পিটিয়ে মারা। বাদুরিয়ায় ঘৃণায় ঘৃতাহুতি।

গুজবের মিউজিয়াম হয়? সাজিয়ে রাখা যায় রাজ্যের যত গুজব দেওয়াল এ দেওয়ালে? নন্দীগ্রামে সরকার সব জমি কেঁড়ে নেবে জোর করে, সোনারপুরে বিদ্যুৎ প্রকল্প হলে ভেরীর মাছ মরে যাবে, পোলিওর টিকা নিলে শিশু বিকলাঙ্গ হবে, বহুজাতিক শিল্প এলেই পুঁজিবাদী কালো হাত পিছু পিছু আসবে আর আমরা সংশোধনবাদী হয়ে যাবো।

গুজবে আমার শাঁখ আর আজানের সন্ধেবেলা, কাওয়ালির তালি শেষে কীর্তনের খোল, মেহতাব আর দীপেন্দুর ফুটবলমাঠ, বিসমিল্লার সানাই, ড্রাইভার চাচার পুজোর ভোগ চেটেপুটে খাওয়া, আয়াত আর লালন সাঁই এর শপথ চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমার সামনে। আমি তখন পৈতে কানে প্যাঁচাচ্ছি, আমি তখন ফেজ টুপি মাথায় পড়ে তৈরি। ঘর ভাঙবো।

গুজব নিয়ে অনেকদিন আগে একটা ছোট ছবি দেখেছিলাম। এক হিন্দু নাপিতের দোকানে এক মুসলিম খদ্দের, বন্ধু ও বটে সে, দাড়ি কাটতে এসেছে। টিভিতে খবরের চ্যানেল চলছে, সিয়াচেন মে জওয়ান মরছে, কেউ কেউ পাক পতাকা ওড়াচ্ছে, বাকি জায়গায় না কামানো দীর্ঘ দাড়িতে সন্দেহ।

নাপিত তার খদ্দের বন্ধুর সাথে হাজার গল্পে মশগুল ক্ষুর চালানোর আগে। চুটিয়ে আড্ডা ক্রীম মাখাতে মাখাতে, তোয়ালে চাপিয়ে, চেয়ারে হেলান দিয়ে।

আচমকা সামনের রাস্তায় কয়েকজন ফেজ টুপি পড়া ছেলে তলোয়ার হাতে এক গেরুয়া ধুতি পড়া লোককে মারতে শুরু করলো। এক সময় তরোয়াল ও ঢুকিয়ে দেওয়া হল।

সেলুনে নাপিত ক্ষুর হাতে, বন্ধু খদ্দের চোখ বন্ধ করে। নিশ্চিন্ত ক্রীম মাখানো গাল। গলার কাছ থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পরছে। টিভিতে তখনো খবরের চ্যানেল চলছে, সিয়াচেন মে জওয়ান মরছে, কেউ কেউ পাক পতাকা ওড়াচ্ছে, বাকি জায়গায় না কামানো দীর্ঘ দাড়িতে সন্দেহ।

সবাইকে চমকে দিয়ে এক বাজখাঁই চিৎকার- কাটটটট, যে গেরুয়া ধুতির লোকটাকে ফেজ টুপির ছেলেগুলো কোপাচ্ছিল, সে উঠে বসলো। বুকে টমেটো সস লাগা। ছবির শুটিং ছিল।গুজব।

সব ঘটনা শুটিং হয়না। আসুন সময় থাকতে শুধরে নিই নিজেদের। গুজবে কান না দিয়ে হাতে হাত ধরে রুখে দিই দাঙ্গাবাজদের। আয়াত বা মন্ত্রোচ্চারণ হোক মানবতার। খেটে খাওয়ার। গুজবের না।

---© ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ