কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Sunday, October 15, 2017

স্যার

| স্যার |

জীবন থেকে রোজ শিক্ষা নিই। আমার করা ভুল থেকেও। ঠেকে ও শিখি, বম্বে ও শেখায় রোজ। কিন্তু সে তো এখন।

শিক্ষক বলতে যে নামটা সবার প্রথম মাথায় আসে সে আমাকে কখনো ইঁদুর দৌড়তে বলেনি, নম্বর বেশী পাওয়ার টোটকা দেয়নি, ভালো ছাত্র না হওয়া স্বত্তেও সালামী আর পাঁউরুটি খাইয়ে গেছে দীর্ঘদিন আর বিনিপয়সার রাম। হ্যা, কাঁচের কাপে লালচে তরল, নাটকের রিহার্সাল শেষ হলে। বরাদ্দ ছিল ৪ পেয়ালা। তারপর না।

আমার শিক্ষক আমাকে বামন হয়ে চাঁদ ছোঁয়ার স্পর্ধা শিখিয়েছে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জমে যাওয়া প্রতিভা ঝড়াতে সাহায্য করেছে, কথা বলতে, মেপে হাসতে, শব্দ নিয়ে খেলতে শিখিয়েছে। পিঠ চাপড়ে দিয়েছে দারুণ ধ্যারালেও।

ওটাই বোধহয় প্রয়োজন ছিল। একজন অসমবয়সী বন্ধু, মাথা খাওয়া খুড়ো, ব্লু হোয়েল থেকে আগলে রাখা কাঁধ।

নয়তো কবেই দশটা পাঁচটার নিরাপত্তায় সেঁধিয়ে যেতাম আর শেষ রাতে এপাশ ওপাশ করতাম না হতে পারা অনেক কিছুর গ্লানি বয়ে।

আমার খিদ্দা ছিল না, ফুংসুক ওয়াংরু বা নিকুম্ভ স্যার ছিল না। একটা Mrinal Chakraborty ছিল।

ওই টেঁকো বুড়োকে একটা নেভি কাটের বড় প্যাকেট আর এক লিটার রামের বোতল ছাড়া আর কি বা দিই? গুরুদক্ষিণা!

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

দিদির স্ট্রেস আর পোষা রাজ্য কর্মচারি

| দিদির স্ট্রেস আর পোষা রাজ্য কর্মচারি |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ভয় হচ্ছে দিদির শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে। অসম্ভব কাজের চাপ, অপদার্থ পারিষদবৃন্দ, ঘুষখোর সাংসদ, তোলাবাজ বিধায়ক, দাঙ্গাবাজ ধর্মনেতাদের আগলে রাখতে গিয়ে নিজের মানসিক স্থিতি না হারিয়ে যায় ওনার।

নয়তো দীর্ঘদিন বকেয়া ডিএ না পাওয়া সরকারি কর্মচারিদের আন্দোলনকে কেউ ঘেউ ঘেউ বলে?

দিদি ভয়ংকর বিচ্ছিরি কবিতা লেখেন মানছি, অসংলগ্ন কথা সহজাত সেটাও মানছি কিন্তু জননেত্রীর এটা ভাষা হবে? তাও ভোটারদের প্রতি? যিনি ভোটের তাগিদে বাঘের পিঠেও চড়ে বসেন তিনি এসব বলছেন মানে স্ট্রেস বাড়ছে।

দিদি কার্ডিও করেন, লম্বা হাঁটেন ও কিন্তু এবার একটু যত্ন নিন নিজের। নয়তো বড্ড রাগ হবে। ঘৃণা ও।

অবশ্য সরকারি কর্মচারিরাও তো ফি মাসে নানা মোচ্ছবে ছুটিযাপন আর বিশ্ব বাংলার কর্ম সংস্কৃতির মাঝে পোষ্যই ছিলেন। যে ভাত কাপড় দেয়, তার গাল ও মেনে নিতে হয়। দ্রোহকালে যদিও পোষ্য কুকুরও কাঁমড়ায়।

ওই যে পার্থ চাটুজ্জে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বশাসনে হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে বলেছিলেন না, ‘‘একশো বার স্বাধিকারে হাত দেব। মাইনেটা তো আমিই দিই।’’

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

দুগ্গা ঠাকুর বধ করুক বদ সাম্প্রদায়িকাসুর

| দুগ্গা ঠাকুর বধ করুক বদ সাম্প্রদায়িকাসুর |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

জাবেদ হাবিবের দুর্গা পুজার বিজ্ঞাপন নিয়ে লেখার প্রয়োজন মনে করিনি। ভিন রাজ্যে ওনার নামে অভিযোগ দায়ের হওয়া ও কেটে দেবো, মেরে দেবো বলার পর এখন করছি। দোকান ভাংচুর হওয়ার লিখছি। ভাবছি ক্ষমা ও চাইবো। জাবেদ, হাবিব, ওয়াশীর, ইশাক, মুস্তাফার মত নাম আছে যাদের, তাদের কাছে। বাংলার হয়ে। বাঙালির হয়ে।

বাংলাভাষায় কুরান শরীফের অনুবাদ করেছিলেন গিরীশচন্দ্র সেন। একজন হিন্দু।

যেভাবে বাঙালি হিন্দু বিয়েতে বিসমিল্লার সানাই জরিয়ে থাকে। নহবতে আসে খান সাহেবেরা। আদর করে পান সাজে বিলাল চাচা। সিঁথিতে তখন সিঁদুর লেগেছে হিন্দু মতে।

অবাঙালি নবরাত্রি শুরু হলে নিরামিষ খায়। মদ ছোঁয় না, পুজো যে কার্নিভাল হতে পারে মানে না।

বাঙালিরা দুর্গা পুজোয় বাজার থেকে সেরা ইলিশ আর পাবদাটা কিনে আনে। পাঁঠার লাইন দেয় লুচি আর সাদা আলু জিরের তরকারি খেয়ে। অঞ্জলি শেষে সশ্রদ্ধ বিয়ার খাওয়া হয় মন্ডপে বসে, কুচো মাছ ভাজা, সেদ্ধ ছোলা, লেবু লবন সহ।

দুর্গা উমা গৌরী কবেই বা ঐশ্বরিক ছিল? আনন্দমেলা পুজা বার্ষিকীর প্রচ্ছদ, থিম পুজো, তামাম নাম করা শিল্পীর প্রতিমায় তো সে ঘরের মেয়ে। হলুদমাখা আঁচলের মা, আধুনিকা নারী।

পুজোর কোলকাতা ওয়াজিদ আলি শাহের। লাল কাপড় মোড়া বিরিয়ানির। বিরিয়ানির নরম আলুর। কাঠি রোলের। এখানে চাড্ডি, চাড্ডির অতি দেশভক্তি আর নিরামিষাশী হিন্দি হিন্দু, হিন্দুস্থানের জায়গা হলো কবে?

বাঙালির সব গেছে। বাঙালিয়ানাটা যেতে দেবেন না। ওটা গেলে নবরাত্রির গরবা থাকবে, বুন্দি কা লাড্ডু, করওয়াচৌথ থাকবে কিন্তু বিজয়ার মিষ্টিমুখ আর দশমীর সিঁদুরখেলার ঐতিহ্য থাকবে না।

দুগ্গা ও তার ছেলেপুলে বাঙালির। জগরাতা যারা বাংলার সংস্কৃতিতে ঢোকাতে চাইছেন তাদের আসুন কীর্তন শোনাই, লালনগীতি গাই। অনাদি খুঁড়ো আর গফুর চাচার গল্প শোনাই। নকশী কাঁথার মাঠে নিয়ে যাই।

প্রতিবার পুজো কমিটিগুলোতে মিটিং চলে এবছর জ্বালাময় প্রাসঙ্গিক কোন অসুর টাইপকাস্ট করা যায়। এই শারদোৎসবে সাম্প্রদায়িক অসুরগুলোকে  বধ করা যায় না?

এই ঘৃণার বিসর্জন হয় না? এই ঘৃণাতে যারা মদত দিচ্ছে তাদের বধ করা যায় না?

সব ঘৃণা বিনাশ হলে, আলো ফুটুক কাঞ্চনজঙ্ঘার ফাঁকে, মিঠে রোদ বাংলার গ্রামে গ্রামে আসুক। আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠুক আলোকমঞ্জীর। ধরণীর বহিরাকাশে অন্তর্হিত হোক মেঘমালা।

মেঘের মধ্যে থেকে অনেকদূর অবধি শোনা যাক:

ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা/
নমস্তস্যই নমস্তস্যই নমস্তস্যই নমো নমঃ।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

রেল দুর্ঘটনার কারন জানুন, লজ্জা পান

| রেল দুর্ঘটনার কারন জানুন, লজ্জা পান |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

কত হাজার মরলে তবে মানবে তুমি শেষে?
বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে।

নতুন রেল মন্ত্রী এত হাজার রেল দুর্ঘটনা ও এত গন্ডা মানুষের প্রাণ যাওয়ার পর আবিষ্কার করেছেন যে দেশের রেল লাইনগুলো ম্যানুয়ালি পরিক্ষা করা হয়। একজন লাইনম্যান একটা লোহার রড লাইনে ঠুকে ঠুকে সেই শব্দ শুনে ঠিক করেন কোন লাইন বদলাতে হবে আর কোন লাইন ট্রেন চলার সক্ষম। কোন ট্রেন স্ক্যানিং বা এক্সরে কোচ নেই, কোন অত্যাধুনিক যন্ত্র নেই।

ঠিক কতগুলো রেল দুর্ঘটনা দরকারি কতৃপক্ষের টনক নড়ার জন্য। ঠিক কতগুলো দলা পাকানো লাশে বোধোদয় হয় ভগ্ন রেল লাইন সারানোর? উত্তর আসবেনা। নতুন রেলমমন্ত্রী আসবে আমি জানি! 

বিগত এক বছরে ১৯৩ জন যাত্রী মারা গেছে রেল দুর্ঘটনাবশত। দশ বছরে সবচেয়ে বেশি। দশ বছরে প্রায় পাঁচশো জন মানুষ মরেছে। নিজেদের কোন দোষ বা গাফিলতি না থাকা স্বত্তেও।

এদের কেউ হয়তো ছেলেকে জড়িয়ে লোয়ার বার্থে শুয়ে ছিল। কেউ হয়তো বাড়িতে সবে ফোন করে কোন স্টেশন আসছে তা জানাচ্ছিল, কারোর হয়তো মধুচন্দ্রিমা যাওয়ার কথা ছিল, কেউ হয়তো ঘরে ফিরছিল। কেউ হয়তো সাইড বার্থে বসে বউকে নিয়ে টিফিন বাক্সজাত খুশবুদার খাওয়ার খাচ্ছিল। দুম করে ট্রেন উল্টে গিয়ে মারা গেল। বাড়ির লোক অনেক পরে পেল দু লাখ আর রাষ্ট্রীয় সহানুভূতি। ব্যাস!

লজ্জা হচ্ছে। আমরা বুলেট ট্রেন আনছি দেশে। আমরা আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছি শক্তিশালী মিশাইল। আমরা যুদ্ধবিমান কিনছি বিদেশ থেকে। আর ট্রেন লাইন পরিক্ষা করছি ঠুকে ঠুকে।

রাগ হচ্ছে। দারুন রাগ হচ্ছে। আমার ট্যাক্স এর টাকায় রেলের মন্ত্রী সন্ত্রীর মোটা মাইনে বাড়ছে, তেনারা যাচ্ছেন হাওয়াই জাহাজ চেপে আর আমাদের রেল পরে থাকছে ব্রিটিশ জমানায়। অথচ এটাই দেশের লাইফলাইন। এর উপর ভরসা করে ৮০% ভোটার। হ্যা, মন্ত্রীকে নির্বাচিত করে যারা।

কে বলেছে এত বছর প্রযুক্তির প্রয়োগ না করতে? দাম বাড়ান, কিন্তু যাত্রী সুরক্ষা দিন। বুলেট ট্রেনের ফুটানি পরে হবে, আগে রেল লাইন ঠিক করুন। যদি বিমুদ্রাকরনে, জিএসটি লাগুতে আমাদের না জিগ্যেস করে করতে পারেন, তবে এটাও করুন। এখন প্রযুক্তি না ব্যাবহারের অজুহাত কেন?

এই ভিডিও ও তার বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া ও দেশের শোনাটা দরকারি।

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

পার্টিজান

| পার্টিজান |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

সিপিআই(এম) দলটা না সেলিম না ঋতব্রতর। সিপিআই(এম)টা ক্ষ্যাপাটে একবগ্গা পার্টিজানদের।

সিপিআই(এম) টা সেই একগুঁয়ে মধ্যবয়সী রিফিউজিটার যার হাত,পা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও ল্যাংড়াতে ল্যাংড়াতে কোনক্রমে ইভিএমে কাস্তে হাতুড়ি বোতাম টিপে আসে।

সিপিআই(এম) সেই অযথা সবকিছুতে পার্টিকে ডিফেন্ড করে যাওয়া লোকটার যাকে মেরে রাষ্ট্র চোখ ফাটিয়ে দেয়।

সিপিআই(এম) সেই দু দশক ধরে স্রেফ দেওয়াল লিখে যাওয়া ভোলা দার। যে আজ ও মনে করে দোরগোড়ায় সমাজতন্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। এক ধক্কা ঔর দিলে, বিপ্লব আসবে পাড়ায়।

সিপিআই(এম) সেই যুবকদের যাদের আজ ও জানকবুল সব খোয়া যাওয়া দলের জন্য। দল হাজার কিল চড় মারলেও তারা পরে থাকে।

ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের মালিক যেরকম বিজয় মাল্য ছিল না, দুর্গা ঠাকুরের বা সব হিন্দুদের ঠেকা নিতে যেরকম আরএসএস কে বলা হয়নি, সেরকম সিপিআই(এম) দলটা না সেলিম না ঋতব্রতর।

সিপিআই(এম) রাগে অভিমানে দূরে চলে যাওয়া গ্রাম কে গ্রামের। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকা আঞ্চলিক নেতার, দলের প্রতিটা ভুল সিদ্ধান্তে রেগে যাওয়া, গালি দেওয়া সমর্থকের।

এরাই হেরে যাওয়া ডার্বি ম্যাচের পাতলা হতে থাকা গ্যালারিতে বা বুক চিতিয়ে মিছিলে স্লোগান দিতে দিতে দলটা করে। বাকিরা কেবল ৯০ মিনিট খেলে বা সংসদীয় ভাষণ ঝাড়ে।

পিছিয়ে পরা, খেটে খাওয়া, প্রলেতারিয়েত দলের ও পিছিয়ে থাকা, দেওয়াল লেখা,মার খাওয়া একটা অংশ থাকে।

এরাই পার্টিজান। এরাই ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। লালঝান্ডার উত্তরাধিকার।

অজয় দার মত। বিগত ২০ বছর ধরে যে কোন আত্মপ্রচার, কোন স্বাদ আহ্লাদ, দাবী দেওয়া বিক্ষোভ ছাড়াই চুপচাপ নিজের ভাঙা সাইকেল চেপে রোজ সকালে পাঠকদের বাড়ি বাড়ি গণশক্তি বিলি করে নিজের মুদির দোকান খুলে বসে, টিভিতে নেতায় নেতায় তর্জা দেখে কষ্ট পায়।

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

অন্যায় যে করে আর যে পচা আপেলের ফরে

| অন্যায় যে করে আর যে পচা আপেলের ফরে |

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বিপ্লবীকূল কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, অমুক মন্ত্রী, তমুক মন্ত্রীর পদত্যাগ চান।

ঝুমরিতালাইয়া হোক বা টিম্বাক্টু, রেল দুর্ঘটনা হলেই রেল মন্ত্রীর পদত্যাগ চান। তাহলে সেই একই লজিকে, যারা কাকের ঘরে কোকিল লালন করলো, পালন করলো, সংসদীয় তোল্লা দিল, আয়েশ করার দোলনা দিল, তারা পদত্যাগ করবে না কেন?

বিদ্যেসাগর মশায়ের বর্ণপরিচয়ে একটা গল্প ছিল, রাখাল তার মাসির কান কামড়ে নিয়েছিলো!মাসি কোনোদিন বলেনি তার বোনপোকে যে ,'বাবা রাখাল ,চুরি করা মহা পাপ, ওকাজ করলে পরকালে কি হবে তো জানি না, কিন্তু ইহকালের যমরাজা তোমাকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে পারেন।'

অর্জুন ভিস্মকে শরশয্যায় পাঠিয়ে দিল সবে। এখন থাকার মধ্যে কিছু লজ্জিত দাদার কাছে হাফসোল খাওয়া ক্যাডার যারা কাল অবধি ও জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ করছিল আর কঠিন কঠিন শব্দবন্ধ ব্যবহার করছিল।

কনফিউজড টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি, তার উপর স্থবির আর মিনিটে মিনিটে স্বীকার করেন নিজেদের ভুল।

দেওয়াল লিখন পরিস্কার!রাখাল চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো। মায়োপিয়া থাকলে চশমা পাল্টান আর পারলে ধারনা। দুনিয়া বদলেছে, আদানীর কালো হাত এখন অনেক ক্ষমতাশালী, আপনি রিপ ভ্যান উইংকিল। বাঁশি বাজাচ্ছেন যাচ্ছেতাই আর তাতেই ইদুঁরের দল পিল পিল করে গা এ গা ধা এ ধা মেলাচ্ছে। কেউ মাথা খাটাচ্ছেন না। কেউ অন্য সুর এ কথা বলছেন না।

অন্যায় যে করে আর যে অন্যায়ের ফরে, দুজনই সমান দায়ী। ওনাদের ও শাস্তি চাই।

আলিমুদ্দিনের দোতলায় কোনার ঘরে উনি কবিতা লেখা থামিয়ে দিয়েছেন। বড্ড অসহায়। রাজা লিয়ার যেরকম হন আরকি। লাইন খুঁজছেন।

পুনশ্চ: আমি শ্রেণিশত্রু, পাতিবুর্জোয়া, তিনোমূলি বা চাড্ডী নই। আরো খারাপ। আপনারা অযাচিত ভালো। হবেন না। প্লিজ।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বিশ্বকর্মা ভূত

| বিশ্বকর্মা ভূত |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বিশ্বকর্মা পুজোর দিন-ভোকাট্টা,মাচা গান, আকাশ  জোড়া ঘুড়ি, চাইনিজ মাঞ্জা, মন্ডপের সামনে কর্মঠ মাতাল ছাড়াও কিছু ভূত দেখতে পাওয়া যায়। বিশ্বকর্মা ভূত।

সাধারণ মানুষ যারা সেদিন রিক্সাওয়ালা চারগুন ভাড়া চাইছে বলে খিস্তী করে, শপিং মলে মিনারেল ওয়াটারে রাম ফুচকা খেয়ে বমি করে, বিকট জোরে গানওলা ডিস্কে যায় গলা অব্দি মদ খেতে, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভাসানের নাচ নাচতে, তারা ওই ভূত দেখতে পারেনা।

এই ভূত গুলো ঘুরে বেড়ায় ঊষা কারখানার সাইরেনের চারপাশে। এখন যে জমিতে সাউথ সিটির সবচেয়ে উঁচু ফ্ল্যাট বাড়িটার সবচেয়ে উঁচু ছাদ উঠেছে। কিংবা বাটা কারখানার গেটে। যেখানে এখন বহুতল আবাসন। ভূত বসত করে হাওড়া, হুগলি, নৈহাটি, ব্যারাকপুর চত্বরে। চটকলে, মেটালিকে, ইঞ্জিনিয়ারিং নাম শুনলেই।

ঝুপ করে ঢুকে পরে জয় ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টাফ কোয়াটারে। দয়াল বিশ্বকর্মা যে ঘরটায় গলায় দড়ি দিয়েছিল। কিংবা নর্থব্রুকের ওই অফিস ঘরটার সামনে যেখানে পিটিয়ে মারা হয়েছিল ম্যানেজার হরেকৃষ্ণ মাহেশ্বরীকে। অথবা ডুয়ার্স চা বাগানে। হাড় গিলগিলে, গা ছমছমে। একটু সাদা ভাত নুন দিয়ে পেলে কাঁমড়া কাঁমড়ি করে খাবে।

প্রতি দুর্গা পুজোর আগে লকআউট হয়ে যেত  কারখানা, একদিন তালা মেরে দিল সাহেব। কেউ চাকরি করে না, কেউ না। বাড়িতে ২৩ বছরের মেয়েটা একদিন বোম্বে পালালো এক দালালকে বিয়ে করে। টাকা পাঠাতো প্রথম প্রথম, তারপর বন্ধ। বিশ্বকর্মা ভূত হতে গেলে প্রথমে হতে হয় টিবি। তাই হল। তারপর চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা, অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য না করতে না পেরে একদিন অপঘাতে মৃত্যু।

বিশ্বকর্মা সৌখিন বাঙালির অরুচি। তার ওপর আবার ভূত। কোন ইতিহাস বই, নিষিদ্ধ ইস্তেহার, সরকারি গেজেটে এদের উল্লেখ নেই। থাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ, চপ শিল্প, শ্রমিক অসন্তোষ, ভিনদেশে কাজের খোঁজে পাড়ি।

বিশ্বকর্মা ভূতেরা অতৃপ্ত আত্মা হয়ে ন্যানো কারখানা, জুটমিল, ভারি শিল্প ছিল যা কিছু তার আশেপাশে খালি পায়চারী করছে। কোন বৃদ্ধি নেই, কোন বৃদ্ধি নেই ফিসফিস করছে। বাল শুনছে কেউ। রাজারহাটের আইটি শিল্প ব্যস্ত গণেশ পুজো নিয়ে, সরকার ব্যস্ত মাটি উৎসবে। বন্ধ কারখানায় নজর দেবে কখন?

গোটা রাস্তা তে আজ ঢেকুর এর আওয়াজ। সাথে পেঁয়াজ রসুন গন্ধ। শেফালি দি খদ্দের পেতে আজ লেট অব্দি ডিউটি দিচ্ছে। কড়া ফুসফুস দেয় বোগল, নেকলেস এর আশেপাশে। ওই গন্ধটাও মিশে গেছে উৎসব এ। বিশ্বকর্মা আর ওসির বোতল নিয়ে বান্টু সেল্ফি নিচ্ছে। দারুণ হ্যাপি উইথ ৪৯ আদার।

এখন লাচ হবে রাস্তা জুরে। মাঝে কম্পালসারি ফেটে যেতে হবে থানার মেজো বাবু চক্কর মারতে এলে। গোটা রাস্তাজুরে ঝলমল করছে বিশ্বকর্মা বর্তমানের। ভূত হয়ে যাবার আগে।

©------- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আশ্বিনের আরবসাগরে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর

|আশ্বিনের আরবসাগরে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আর এক ঘণ্টায় আলো ফুটবে। বারান্দা তে রেডিও রাখা হবে, ইজি চেয়ার এ চা, সকাল নামলো বলে কলকাতায়। রাজপথে ইতিউতি দুধওয়ালা, খবরের কাগজ গাড়ি ও কিছু উশখুশ জটলা।

বালিশের তলায় শুকিয়ে যাওয়া জল আর চেপে থাকা মনখারাপের মাত্রা কম হলে বম্বেতেও মহালয়া ফুটবে। অমাবস্যার সীমানা ডিঙিয়ে আলোকময় দেবীপক্ষের আগমনকে প্রত্যক্ষ করা হবে, দেবীর মহান আশ্রয়, উত্তরণের লগ্ন তখন আমার ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ি।

এপাশ ওপাশ জেগে থাকা কাঁহাতক ভালো হয়? বেড়িয়ে পরতেই হয়। দূর থেকে একটা ট্রেনের শব্দ বান্দ্রার দিক থেকে, কয়েকটা কাশ ফুলের ছবি মনে মনে আঁকা, সামনে বিশাল সমুদ্র। অনেক নৌকো। সব নৌকো করে ঢাকি আসছে।

অনেকক্ষন ফাঁকা ট্রেনে সওয়ার শেষে এবার হাঁটা। ঠিক যেখানে বোল্ডার দাঁড়িয়ে অনেক। এখানে আকাশবাণী নেই। বাবার ডেকে দেওয়া নেই, মায়ের তারস্বরে দূরদর্শন চালিয়ে সবাইকে তুলে দেওয়া নেই।

থাকার মধ্যে ফোরজি ডেটা আর ব্লুটুথ স্পিকার। অন করে সমুদ্রজল দেখা, অতল। গভীরতম মনখারাপ এর শেষে। অপেক্ষা নতুন সকালের। ৩.৫০ এর অপেক্ষা, অশ্বিনের শারদপ্রাতে যখন জেগে উঠবে আলো।

ধরণীর বহিরাকাশে অন্তর্হিত মেঘমালা। প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমনবার্তা। আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীমছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নবভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।

বেঁচে থাকার, লড়াই করার, উঁচু উঁচু ফ্ল্যাটবাড়ি গুলোর চাপে দমবন্ধ না হয়ে মাঝরাত আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল ফ্যালফ্যাল চেয়ে থাকার সঞ্জীবন।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আমার বাংলা আমাদের দুর্গা পুজো

| আমার বাংলা আমাদের দুর্গা পুজো |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বাঙালি ৮০ বছর ধরে যার চণ্ডীপাঠ শুনে শিহরিত হচ্ছে প্রতি মহালয়া, সেই বীরেন ভদ্র একজন অব্রাহ্মণ।

বাংলাভাষায় কুরান শরীফের অনুবাদ করেছিলেন যিনি তিনি গিরীশচন্দ্র সেন। একজন হিন্দু।

বীরেন ভদ্র গঙ্গাস্নান করে শুদ্ধ বসনে আকাশবাণী স্টুডিও তে যখন ঢুকতেন, ওনার হেডফোন ও মাইক ঠিক করে দিতেন এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী এক কৌশলী।

সর্বকালের সেরা শ্যামা সংগীত যার কলম থেকে বেড়িয়েছে,তার নাম কাজি নজরুল ইসলাম।

বাংলার সবচেয়ে বড় পুজো আয়োজকদের মধ্যে যিনি অন্যতম তিনি একজন মুসলিম - ফিরহাদ হাকিম।

যেরকম দুর্গা পুজোর থিম সং জনপ্রিয় করলেন যিনি তিনি উস্তাদ রশিদ খান। বাড়িতে নিষ্টাভরে সরস্বতী পুজো করেন।

দেবীর আরাধনা হয় যেখানে, রীতিমত সন্ধারতি হয় যে মন্ডপে বিপুল রোশনাই এ, সে জায়গার নাম মহম্মদ আলি পার্ক।

এদের বাদ দিয়ে, আরসালানের বিরিয়ানি বাদ দিয়ে, বাবুঘাটে তর্পণ সেরে, খিদিরপুরের ধুমায়িত নল্লি নিহারি আর পরোটা বাদ দিয়ে দুর্গা পুজো করি কি করে?

অন্ধকার সময়। আসুন বেঁধে বেঁধে থাকি।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ভাসলো রে ভুবন

| ভাসলো রে ভুবন |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বারো ঘন্টা ধরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি বম্বে জুড়ে । ২৯ আগষ্টের মত মারাত্মক না হলেও বিমানবন্দর, ট্রেন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ, একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। বুধবার ছুটি ঘোষণা হয়েছে।

অশ্বিনের শারদপ্রাত থেকে ভাসছে রে আরবসাগর লাগোয়া ভুবন। দারুণ বৃষ্টি, অসহ্য ট্রাফিক জ্যাম, সি লিংকে জলের ঝাপটার মাঝে দুর্গা ঠাকুর আসছে। পলিথিনে ঢাকা।

শুনছি কোলকাতাতেও ভারী বৃষ্টি। মনখারাপের মেঘ বুঝি সব শহরেই সমান? যে পরবাসী ছেলে মেয়ে গুলো এবার পুজোয় ঘরে ফিরতে পারলো না, তাদের সব্বার জমানো আড্ডা, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে রাতজাগা জমাট বাঁধুক মেঘে। এক কিলোমিটার লম্বা আলপনা বা ম্যাডক্স মাঠে ঝড়ে পরুক।

বৃষ্টি থেমে যাবে এখানে। রোদ উঠবে সমুদ্র ঘেঁষে, সাথে মোলায়েম অশ্বিনী  হাওয়া দেবে। এসব সন্ধ্যায় একলা হাঁটলে কিরকম শীত শীত করে, ছাতিম এর গন্ধ নাকে আসে আর সাথে সন্ধি পুজোর ধুপের তিব্রতা। সিগনাল এ কি ঢাকের আওয়াজ শুনলাম? কাঁসর ঘন্টাও যেন।

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ছবি: সংগৃহীত

শান্তনু ভৌমিক, গৌরী লঙ্কেশ ও চুপকথারা

| শান্তনু ভৌমিক, গৌরী লঙ্কেশ ও চুপকথারা |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এ এমন এক সময় যখন গোটা দেশ ছিছিকার করছে, খিল্লি ওড়াচ্ছে এক বিপুল জনপ্রিয় মুম্বাই নিবাসী, দেশপ্রেমী সাংবাদিকের গুজরাট দাঙ্গার কভারেজ সংক্রান্ত ঢপবাজি নিয়ে।

ঠিক সেই সময় অখ্যাত, নাম না জানা চ্যানেলে কর্মরত, ভারতের ভরকেন্দ্র থেকে অনেকটা দূরে, ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাতে এক ২৮ বছর বয়সী সাংবাদিক মৃত। রাজনৈতিক দাঙ্গা কভার করতে গিয়ে খুন হতে হয়েছে। কারন ব্লগার, সাংবাদিক কোপানো , ওবি ভ্যান জ্বালানো, হর্তাকর্তার নাম করে সাংবাদিক চমকানো ও কথায় কথায় চাকরী খেয়ে নেওয়ার সুড়সুড়ি দেওয়াতে এক নির্মল আনন্দ আছে। যে যায় লঙ্কায়, সে বোঝে।

শান্তনুরা ছোট্ট ক্যামেরা নিয়ে ফিল্ডে পরে থাকে, স্টুডিওর চড়া আলো থেকে অনেক মাইল দূরে, চামড়া তুলে নেওয়া গ্রামের বোমাপ্রেমীদের কাছাকাছি। দ্রোহের উষ্ণতা কম তাই, মোমবাতি ও দেরীতে জ্বলে।

আমার দেশে একের পর এক কালবুর্গি, পানসারে, ডাভোলকর আর গৌরি লঙ্কেশদের খুন হতে হয়। প্রতিস্পর্ধা দেখায় বলে। বাকিরা মরে না। চুপকথা আয়ত্ত করেছে বলে রাষ্ট্রগত, প্রাতিষ্ঠানিক।

এরা ফুলের মালা পাঠাবে, লেটারহেডে শোকজ্ঞাপন করবে, কষ্ট পাবে, আঙুল তুলবে বিরোধীর দিকে তারপর ফের মিথ্যে মামলায় এক এক করে ফাঁসাও শালা কলমচিদের।

স্টুডিওর আস্তরণে আছে যারা তারা তখন বিজ্ঞাপনী বিরতিতে যুদ্ধং হেবি! শত্রু চেনা হয়ে গেছে। এবার নেশনকে জানানো শুধু বাকি।

যারা এই ছকে নিজের রোজনামচা লিখবে না তাদের ঠান্ডা গলায় জানাতে হয়, কোন প্রশ্ন নয় কোন প্রশ্ন নয়।

আমার দেশের রাজধানী স্বাধীনতার ৭০ বছর বাদেও ধর্ষণ শহর হিসেবে পরিচিত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মেয়েটির কাছে।

আমার দেশে গো-মৃত্যু হলে সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞ হয় আর তারা ফোঁস করলে জেহাদি।

আমার দেশে শিশু মরলে বলা হয় বিরোধীদের চক্রান্ত। আর প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রদ্রোহী।

আমার দেশেই অবস্থিত কাশ্মীরের মানুষকে দেশ সবক শেখায় পেলেট গানে অন্ধ করে, দ্রোহ বুকে বাঁচছে বলে।

আমার দেশের মানুষ নিজের জমানো টাকা নিজের ব্যাংক থেকে তুলবে বলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষে মৃত্যু হলে তাকে শহীদ তকমা দিতে হিড়িক লাগে।

আমার দেশেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, আধুনিক শিল্পতালুক, উৎকৃষ্ট শিক্ষাকেন্দ্র বা মারণ রোগের চিকিৎসার সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল গড়ার জেদের চেয়ে বড় জেদ পোষা হয় একটি মন্দির বানাবো বলে।

আমার দেশেই রাম রহিম একর একর জমি নিয়ে আশ্রম বানায়, নাথুরামের মূর্তি বসে, গণেশ দুধ খায় আর দাঙ্গা বাঁধে মন্দিরে পাওয়া মাংস পিন্ড নিয়ে।

আমাদের প্রশ্ন করতে হয় সৌখিনতার, ফুলদানিতে রাখা গোলাপের মত। আধো আধো, সোনামণি প্রশ্ন। সে প্রশ্ন মনে ধরলে উদ্বাহ নৃত্য হয়। বিষম খেলে একপেশে, কুচক্রী।

আমার দেশ রোজ একধাপ করে অন্ধকূপের দিকে পা বাড়ায় আর আমরা নতুন এক সকালের জন্য অপেক্ষা করি কালবুর্গি, ডাভোলকর, লঙ্কেশ বা ভৌমিকের অগোছালো স্টাডি টেবিলে,যুক্তিবাদী  পথসভা বা ফেসবুক পোষ্টে।

আমরা তো সীমান্তে বন্দুক হাতে যুদ্ধ করতে অক্ষম, বেয়ারা প্রশ্ন করে বিপদে ফেলি হোমড়া চোমড়াদের, তাই চুপ থাকি, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, সামাজিক, মধ্যবিত্ততায়।

ধামা ধরতে হয়। চুপ থাকতে হয়, নয়তো চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। চাপাতি বা ত্রিশূল জানে। মনের কথা লেখার পর ও ডিলিট করে দেওয়ার অসহায়তা জানে, ক্যামেরা আছড়ে ভেঙে ফেলে, কলম, মাইক কেড়ে নিয়ে শান্ত গলায়- আপনি কিচ্ছু দেখেন নি স্যার।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ