কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Sunday, October 15, 2017

শান্তনু ভৌমিক, গৌরী লঙ্কেশ ও চুপকথারা

| শান্তনু ভৌমিক, গৌরী লঙ্কেশ ও চুপকথারা |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এ এমন এক সময় যখন গোটা দেশ ছিছিকার করছে, খিল্লি ওড়াচ্ছে এক বিপুল জনপ্রিয় মুম্বাই নিবাসী, দেশপ্রেমী সাংবাদিকের গুজরাট দাঙ্গার কভারেজ সংক্রান্ত ঢপবাজি নিয়ে।

ঠিক সেই সময় অখ্যাত, নাম না জানা চ্যানেলে কর্মরত, ভারতের ভরকেন্দ্র থেকে অনেকটা দূরে, ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাতে এক ২৮ বছর বয়সী সাংবাদিক মৃত। রাজনৈতিক দাঙ্গা কভার করতে গিয়ে খুন হতে হয়েছে। কারন ব্লগার, সাংবাদিক কোপানো , ওবি ভ্যান জ্বালানো, হর্তাকর্তার নাম করে সাংবাদিক চমকানো ও কথায় কথায় চাকরী খেয়ে নেওয়ার সুড়সুড়ি দেওয়াতে এক নির্মল আনন্দ আছে। যে যায় লঙ্কায়, সে বোঝে।

শান্তনুরা ছোট্ট ক্যামেরা নিয়ে ফিল্ডে পরে থাকে, স্টুডিওর চড়া আলো থেকে অনেক মাইল দূরে, চামড়া তুলে নেওয়া গ্রামের বোমাপ্রেমীদের কাছাকাছি। দ্রোহের উষ্ণতা কম তাই, মোমবাতি ও দেরীতে জ্বলে।

আমার দেশে একের পর এক কালবুর্গি, পানসারে, ডাভোলকর আর গৌরি লঙ্কেশদের খুন হতে হয়। প্রতিস্পর্ধা দেখায় বলে। বাকিরা মরে না। চুপকথা আয়ত্ত করেছে বলে রাষ্ট্রগত, প্রাতিষ্ঠানিক।

এরা ফুলের মালা পাঠাবে, লেটারহেডে শোকজ্ঞাপন করবে, কষ্ট পাবে, আঙুল তুলবে বিরোধীর দিকে তারপর ফের মিথ্যে মামলায় এক এক করে ফাঁসাও শালা কলমচিদের।

স্টুডিওর আস্তরণে আছে যারা তারা তখন বিজ্ঞাপনী বিরতিতে যুদ্ধং হেবি! শত্রু চেনা হয়ে গেছে। এবার নেশনকে জানানো শুধু বাকি।

যারা এই ছকে নিজের রোজনামচা লিখবে না তাদের ঠান্ডা গলায় জানাতে হয়, কোন প্রশ্ন নয় কোন প্রশ্ন নয়।

আমার দেশের রাজধানী স্বাধীনতার ৭০ বছর বাদেও ধর্ষণ শহর হিসেবে পরিচিত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মেয়েটির কাছে।

আমার দেশে গো-মৃত্যু হলে সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞ হয় আর তারা ফোঁস করলে জেহাদি।

আমার দেশে শিশু মরলে বলা হয় বিরোধীদের চক্রান্ত। আর প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রদ্রোহী।

আমার দেশেই অবস্থিত কাশ্মীরের মানুষকে দেশ সবক শেখায় পেলেট গানে অন্ধ করে, দ্রোহ বুকে বাঁচছে বলে।

আমার দেশের মানুষ নিজের জমানো টাকা নিজের ব্যাংক থেকে তুলবে বলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষে মৃত্যু হলে তাকে শহীদ তকমা দিতে হিড়িক লাগে।

আমার দেশেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, আধুনিক শিল্পতালুক, উৎকৃষ্ট শিক্ষাকেন্দ্র বা মারণ রোগের চিকিৎসার সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল গড়ার জেদের চেয়ে বড় জেদ পোষা হয় একটি মন্দির বানাবো বলে।

আমার দেশেই রাম রহিম একর একর জমি নিয়ে আশ্রম বানায়, নাথুরামের মূর্তি বসে, গণেশ দুধ খায় আর দাঙ্গা বাঁধে মন্দিরে পাওয়া মাংস পিন্ড নিয়ে।

আমাদের প্রশ্ন করতে হয় সৌখিনতার, ফুলদানিতে রাখা গোলাপের মত। আধো আধো, সোনামণি প্রশ্ন। সে প্রশ্ন মনে ধরলে উদ্বাহ নৃত্য হয়। বিষম খেলে একপেশে, কুচক্রী।

আমার দেশ রোজ একধাপ করে অন্ধকূপের দিকে পা বাড়ায় আর আমরা নতুন এক সকালের জন্য অপেক্ষা করি কালবুর্গি, ডাভোলকর, লঙ্কেশ বা ভৌমিকের অগোছালো স্টাডি টেবিলে,যুক্তিবাদী  পথসভা বা ফেসবুক পোষ্টে।

আমরা তো সীমান্তে বন্দুক হাতে যুদ্ধ করতে অক্ষম, বেয়ারা প্রশ্ন করে বিপদে ফেলি হোমড়া চোমড়াদের, তাই চুপ থাকি, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, সামাজিক, মধ্যবিত্ততায়।

ধামা ধরতে হয়। চুপ থাকতে হয়, নয়তো চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। চাপাতি বা ত্রিশূল জানে। মনের কথা লেখার পর ও ডিলিট করে দেওয়ার অসহায়তা জানে, ক্যামেরা আছড়ে ভেঙে ফেলে, কলম, মাইক কেড়ে নিয়ে শান্ত গলায়- আপনি কিচ্ছু দেখেন নি স্যার।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ডাক্তার অসুর হলে মন্ডপে ভীড় বাড়ে

| ডাক্তার অসুর হলে মন্ডপে ভীড় বাড়ে |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মহম্মদ আলী পার্ক মনে করেছে ডাক্তারই অসুর  হোক এবার থিম পুজোর। কথায় কথায় ডাক্তার পেটানো পাব্লিক হেব্বি খাবে। যেভাবে সরকার মনে করেছিল বিমুদ্রাকরণই দেশের সব সমস্যার সমাধান।

ভাবুন তো, সমস্ত ডাক্তার মৃত। আপনার শিরা, উপশিরা, ধমনীতে জমতে থাকা রাগ, দারুণ রাগ ফেটে পরেছে ডাক্তারদের উপর। আর একটাও ডাক্তার পরে নেই। ডাক্তারদের ডেথ সার্টিফিকেট লেখার ডাক্তার নেই। মৃত ঘোষনা করবার ডাক্তার নেই। রক্ত লাগা স্টেথোস্কোপ এদিক ওদিক, একটা দুটো ফ্রিতে পাওয়া কলম আর দলা পাকানো রাগ ছড়িয়ে আছে। হাসপাতালে পিকনিক করার ডাক্তার নেই, রোগী মৃত্যুতে বেদম ক্যালানো ডাক্তার বেঁচে নেই। থাকার মধ্যে স্টেথোস্কোপ। কম্পন অনুভূত হচ্ছেনা। গন শত্রু মৃত।

সময় আছে এখনো। আসুন মহম্মদ আলী পার্ক এবছর বয়কট করি।

আমার মা বাবা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক। সরকারি হাসপাতালের জিপি। রোজ ৬০০ রোগী আসে, টিকিট কেটে ওপিডি-তে রোগ নিয়ে লাইনে দাঁড়ায়। কখনো রাগে ফেটে পরে। কখনো বাড়ির সব্জি নিয়ে আসে ভালোবেসে। ভগবান তবে মাটির কাছাকাছি।

আমি ছোটবেলায় এসব দেখেছি। ছোটবেলার অনেকটা সময় আমি সোনারপুর হাসপাতাল কোয়ার্টার এ কাটিয়েছি। নার্স, আয়া মাসিমাদের মাঝে।

ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুরা ভাবতো ও বলাবলি করতো যে আমাদের নাকি বহু গাড়ি, সাত মহলা বাংলো বাড়ি, ৭৭ ডজন মায়ের শাড়ি ও আমার এক আলমারি খেলনা আছে। কারন আমার মা বাবা দুজন ডাক্তার। ডাক্তার দের এসব থাকে। তারা ওষুধ এর কাটমানি নেয়, অপারেশন করে কিডনি বের করে নেয় তবে তারা ভগবান। আমার লজ্জা লাগতো আর রাগ ও। বাস্তব এ এর একটা ও দেখিনি। থাকার মধ্যে সাকুল্যে একটা অল্টো গাড়ি, ভালো ভাবে থাকার জন্য জরুরি মধ্যবিত্ত যা কিছু। উচ্চাশা ছিল।

উচ্চাশা থাকা কি অপরাধযোগ্য? একজন ডাক্তার যে ১০ বছরভর মাথা গুজে শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, তার উপর আরো দক্ষ হওয়ার শিক্ষা, ক্লিনিক এ রোগী দেখা শেখে, তার কি শখ থাকতে পারেনা রোগী দেখে একটি টয়োটা কেনার?

একটি ফটকায় ব্যাবসা করা দালাল, ড্রেন তৈরির টাকা থেকে কাটমানি খাওয়া কাউন্সিলর ও স্কোরপিও চড়ে। আর ডাক্তার জ্যান্ত লোকের কল কব্জার ভার নিয়েছে।

এরপর এক দক্ষ এমবিএ পাশ কিছু ওষুধ কোম্পানি তাকে মার্সিডিজ এর স্বপ্ন দেখায়। কিচ্ছুটি করতে হবেনা। স্রেফ বিশেষ ট্যাবলেটটা লিখে যেতে হবে বা রোগীকে ভয় পাইয়ে টেস্ট করতে পাঠাতে হবে। নিদেনপক্ষে একটা আইসিইউ বেড এ পাঠানো। ডাক্তার এর কথায় সব হয়। ডাক্তার ভগবান।

কিন্তু ভগবানকে যেরকম মানুষ এর মত হাগু করতে দেখলে, চুমু খেতে দেখলে প্রবল আশাহত হয় ভক্ত, সেভাবেই হাসপাতালের কাঁচগুলোতে আঁচড়ে পরে রাগ। জমি বেচে, ফিক্সড ডিপোজিট বন্ধক রেখে চিকিৎসা করা মানুষ এর রাগ।

রাতের ঘুম এ মৃত রোগীর মুখ, হাত ক্রমাগত ধুলেও রক্ত, ঘেমো পেশেন্ট পার্টির কান্না, কোলে বাচ্চা নিয়ে বউ এর অশিক্ষা ভরা অভিশাপ। ডাক্তার বাবুরা নিশ্চিত এ সব দেখেন। আসলে নিজেরাও স্বীকার করেন না।

তাই হয়তো মদের দোকান এর ব্যাবসা থেকে কিছুটা আলাদা চিকিৎসা ব্যাবসা আর যে চিকিৎসক এই ব্যবসা তে সিদ্ধহস্ত তিনি চিকিৎসক নন চিকিৎসা শিল্পপতি। মৃত মানুষ কে ঠিক কতটা দোজ দিলে নড়ে চড়ে উঠবে ভিজিটিং আওয়ার এ, কতদিনের প্যাকেজ এ কাকে রাখা যাবে এরা সব জানে। জানতে শিখিয়েছে ব্যাবস্থা।

আসলে গলদটা বোধহয় এদের না। চিকিৎসক বা চিকিৎসা শিল্পপতি না হতে পারা লোকেদের। আমাদের। আমরাই কাঠামো তৈরি করেছি এমন যেখানে বিচারক আসে এম্বাসেডর চড়ে আর উকিল আসে মার্সিডিজ এ। মুহুরির নিদেনপক্ষে একটি বোলেরো। এবার এই বিচারক বিবাহিত,  বউ প্রতিরাতে আদর করার সময় উদাহরণ দেয় কোন উকিল কি কিনলো তার, বিচার ধুয়ে জজ সাহেব কে টেবিল এর তলায় গাড়ি কেনার টাকা টা নিতেই হয়।

যে মানুষ সারা জীবন প্র‍্যাক্টিস না করে মেডিকাল কলেজ এর প্রফেসর হয়ে থেকে গেলেন, তার মাইনে ছাত্রের গাড়ির তেল এর খরচা। গুটখা কোম্পানি কে হাসপাতাল তৈরি করার সুযোগ রাষ্ট্র দিয়েছে। আমরা সুবিধা করে দিচ্ছি। আর ডাক্তার দের মাইনে করা একজিকিউটিভ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বার এ। যেখানে পান এ পিক ফুলের টব এ ফেলে মালিক বাহাদুর বলে:
"কি ছিড়ছো? হচ্চে না ডাক্তার। কয়েকটা ভেন্টিলেটর দাও।"

মা বাবা চিকিৎসা শিল্পপতি হতে পারেনি। রোজ বাড়ি এসে মা রান্না করে। আমরা ডাল ভাত পাতলা মাছ খাই। আমার পেটের অসুখ, আলসার, অম্বল। মা ডায়াবেটিক, বাবার প্রেসার। যেরকম অন্যান্য বাড়িতে হয় আরকি। চিকিৎসা শিল্পপতি দের ও পেটের অসুখ, আলসার, অম্বল হয়। ডাল ভাত, পাতলা ঝোল খায়। কিন্তু বিভ্রম এ কখনো ডাল এ বাজে ওষুধ, কিডনি সেদ্ধ, পাতলা ঝোলে রক্ত দেখতে পায় যদি? সে বড় কঠিন অসুখ।

যে সমস্ত চিকিৎসক আজ ও জীবিত আর রোজ রোগ সারিয়ে তোলার তাগিদে হাসপাতালে ছোটেন, তারা শহরে রোগীদের কাছ থেকে খুশি মনে পারিশ্রমিক ও শ্রদ্ধা পান, গ্রাম এর সরকারি হাসপাতালে শ্রদ্ধা, অন্ধ বিশ্বাস আর বাড়ির সব্জি।

এদের দেখে আজ ও অনেকের গলার কাছে দলা পাকানো কি যেন হয়।

আমরা কেউ সৎ নই। যতটা থাকা যায় বিবেক এর কাছে আরকি।তবে কেউ যদি লাশ নিয়ে ব্যবসা বা বিশ্বাস নিয়ে মুরগি বানানোর পচা খেলায় মেতে ওঠে, হাসপাতালের বোর্ড পাল্টে "ক্যাওড়াতলা" লিখতে হয় বইকি। জনগনতান্ত্রিক বিপ্লব এটাই কিন্তু ডাক্তারকে যে সমাজ অসুর বানায়? সেখানে অশ্বিনের শারদপ্রাতে শুভবুদ্ধি উদয় করাবে কে?

©---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

২৯ সেপ্টেম্বর, ২২টা লাশ, এলফিন্সটন স্টেশন |

| ২৯ সেপ্টেম্বর, ২২টা লাশ, এলফিন্সটন স্টেশন |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মানুষ বড় সস্তা। বুলেট ট্রেন পিষে দিলে পারতো।

এলফিন্সটন স্টেশনে স্রেফ পদপৃষ্ঠ হয়ে ২২ জন যাত্রী মারা গেল। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, অফিস যেতে দেরী, ট্রেন সামান্য লেট, পিছল সিঁড়ি, সংকীর্ণ ফুটব্রিজ, প্যানিক।

আমিও অন্যান্য দিন ওই একই ফুটব্রিজ ধরে অফিস যাই। এটা ভেবে যত না আঁতকে উঠছি তার দ্বিগুণ এই ভেবে যে যদি এলফিন্সটনের জায়গায় তুমুল ব্যাস্ত দাদর, ব্রান্দ্রা বা অন্ধেরিতে এটা ঘটতো তবে কি হত?

আমার মুম্বাই আসার পর থেকেই এলফিন্সটন জড়িয়ে আছে রন্ধ্র। প্রথম মেসবাড়ি এলফিন্সটনে, ট্রেন ধরতে এলফিন্সটন, অফিস যেতে এলফিন্সটন, দারুন পুরি সবজি খেতে এলফিন্সটন, এখন যেখানে ফ্ল্যাট সেখান থেকে ট্রেনে চেপে এলফিন্সটন, তারপর হাঁটা। বম্বের লাট সাহেব এলফিন্সটন সাহেব সব জানেন।

এলফিন্সটন অফিসপাড়া। আশেপাশে বিশ্বমানের সব উঁচু উঁচু অফিসবাড়ি। যে ২২টা লাশ পরে আছে, তাদের সব্বাই হয়তো কোন না কোন কর্পোরেট ঠান্ডাঘরে আইডি পাঞ্চ করে ঢুকতো, নবমী উইশ করতো, কাজে মাথা গুঁজতো তারপর ফের এলফিন্সটন স্টেশন থেকে ঘর। তারবদলে আজ যাবে লাশকাঁটা ঘর।

নবমী ছুটি নেবো ঠিকই ছিল। লুচিমাংস,ঠাকুর দেখবো। পুজোর অন্যদিন অফিস। আজ যাই নি।   গেলে হয়তো পরে থাকা মৃত দেহ, চপ্পল, ব্যাগ, চশমা পেড়িয়ে যেতে হত।

গোটা দেশের ৪০% রেল ট্রাফিক ও রেলজনসংখ্যা মুম্বাই এ। রেলের ৫০% রোজগারও মুম্বাই থেকেই তবু ভারতের সবচেয়ে কসমোপলিটান শহর এসব রক্তের দাগ বয়ে নিয়ে চলে।

এই এলফিন্সটনেই মুম্বাই বন্যার দিন এক বিখ্যাত ডাক্তার ম্যানহোলে পড়ে তলিয়ে গেছিল। লাশ উদ্ধার হয়েছিল আরবসাগর লাগোয়া সি ফেস থেকে। আজ ২২টা "সস্তা" জীবন প্রাণ দিল। মানুষ সত্যি বড্ড সস্তা। বুলেট ট্রেন দামী। গুজরাট থেকে মুম্বাই আসবে শীগগির।

পুনশ্চ: এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। দৌড়ানো চালু। কাল আমার ও অফিস। একই ফুটব্রিজ দিয়ে নামবো, একই ভাবে। নেতা মন্ত্রী, অমিতাভ বচ্চন বাদে সস্তা সাধারণ মানুষ যেরকম যাতায়াত করে আরকি।

সময় এসেছে ত্যাগিয়ে সোনার গদি, রাজা,উজির, মন্ত্রীকে অফিস টাইমে লোকাল ট্রেন চড়ানোর।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

#বংযাত্রীরবম্বেডাইরি  #Elphinston #MumbaiStampede

নামের নম্বর লাশের সংখ্যা

| নামের নম্বর লাশের সংখ্যা |

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আজ সকাল ১০.৪০ অব্দি এদের নাম ছিল। ধর্ম ছিল, জাত ছিল, গোত্র ছিল। এলফিন্সটন থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল। পদপিষ্ট হওয়ার পর থেকে এদের পরিচয় সংখ্যা দিয়ে।
১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪,১৫,১৬,১৭,১৮,১৯,২০,২১,২২।

বাইশটা সংখ্যা। বাইশজন লাশ চিহ্নিতকরণের জন্য। আর্থিক সাহায্য করার জন্য। বাড়ির লোকের চেনার জন্য। রাজনীতি করার জন্য। খবরের গুরুত্ব বোঝার জন্য। শোকসভা করার জন্য।

অপঘাতে মৃত্যু হলে সংখ্যাই চেনায় গাম্ভীর্য ।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

এই তো জীবন মুম্বাইয়া!

আমরা ২৬/১১ তে ছিলাম না।
৯৩ সিরিয়াল ব্লাস্ট এ ছিলাম না।
ট্রেন বিস্ফোরণে ছিলাম না।
বন্যাতে ভেসে যাইনি।
এলফিন্সটনে মৃত নই।

আমরা আজও আজকে হাসছি।
আমরা আজও ঠাকুর দেখছি, ভালোবাসছি।

জীবিত, অক্ষত।
ক্যা পাতা কাল হো না হো!

এই তো বেঁচে আছি। হাসছি, খাচ্ছি, ঢেকুর তুলছি, দারুন রকম সেল্ফি তুলছি এই শারদোৎসবে।

এই তো জীবন মুম্বাইয়া!

জরা হটকে, জরা বঁচকে, ইয়ে হ্যে মুম্বাই মেরি জান।

আসছি

| আসছি |

বোম্বাই যখন শুতে যাবে, আমি তখন কেটে পরলাম। আর ভালো লাগছে না। পাড়ার মোড়ে ফুচকা নেই, আড্ডা নেই, লেড়ো বিস্কুট এর বয়াম নেই, চায়ের কাপে তুফান নেই, আকণ্ঠ খেয়ে ভাসান নেই, ডবল ডিমের রোল নেই, পাতলা মাছের ঝোল নেই, ঘটি গরমের শব্দ নেই। কল্প নেই। দ্রুম নেই।

কাকভোরের জেট । সিটবেল্ট টাইট করে বেঁধে নিতে হবে।

শেষবার যখন কলকাতা ছেড়ে গেছিলাম, তখন 'বঙ্গ' তে 'পশ্চিম' ছিল, বাঙালির স্বপ্ন ছিল রাজ্যেই।
ঋতব্রত ক্যাডার ছিল, মুকুল ছিল দিদির ভাই।
কুনাল ও মদন বাবু জেল এ ছিল, আনন্দবাজার এর শেষ পাতার নিচে অভীক বাবুর নাম ছিল।

আমার মশারি জুড়ে ছিল কলকাতার শ্বাস প্রশ্বাস আর প্রবাসী মনখারাপ।

কলকাতাগামী বিমান রানওয়ে ছাড়লেই বোম্বে ভুলে ঘরে আয় ঘরে আয় গুণগুণ হয় চারপাশে। এ প্লেন মিস করা যাবে না।

কলকাতায় কিছু মানুষ তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে। করেই যাচ্ছে।

হুগলি নদীর এপার বসি উৎকণ্ঠা বাড়ে/
বম্বের মন ভালো করা প্লেন ছেড়েছে ওপারে ।

এক হপ্তা !

অ লক্ষ্মী

| অ লক্ষ্মী |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আজও লক্ষ্মী মেয়ের পায়ের মাপ হয় ছোট, নতজানু থাকে সমাজে, শ্রীরূপা, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বালঙ্কারভূষিতা। এর বাইরে হলেই অলক্ষ্মী।

বড় সিগারেট খায়, আঁচল বুকে থাকেনা, কালচে বর্ণা হয়, নাভিতে নথ থাকে, চুলের আংশিক হাইলাইটেড।

এছাড়া ডাকিনী যোগিনী দেখা যায়। এসিডদগ্ধ, ওড়নায় কিছুটা মুখ ঢাকা, না বলার বেয়াদবি করেছিল বলে লক্ষ্মী হওয়া হইনি।

লক্ষ্মী তো মর্গ এ দেখা যায়। ওই যে মেয়েটি সর্বালঙ্কারভূষিতা হওয়া স্বত্তেও আরো পণের টাকা দিতে না পারায় কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শ্বশুরবাড়িতে।

লক্ষ্মী কি আর ডিভোর্সি হতে পারে? শ্রীরূপা, পতিপরিতক্তা, স্বাবলম্বী মেয়েকে খারাপ মেয়ে বলে ডাকে লোকে। লক্ষ্মী ওদের কাজের লোকের নাম। রোজ লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে আসে। সন্ধে হলে ভাত রাঁধতে আর মার খেতে দৌড়ে বাড়ি ফেরে।

অলক্ষ্মী মেয়েদের জন্যই ছেলেরা মেয়েদের খারাপ বলে, টিজ করে। অনেক লক্ষ্মীমেয়ের ভাবনা। যেরকম ভাবনা সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। রমণী না ছাই। সংসার সুখী হয় কম্প্রমাইজের গুনে। কে কতটা করবে তার ওপর। বাকিটা পুরুষত্ব ফলানো।অফিসে, লোকাল বাসে, বিছানায়, পুরুষত্ব ও কম্প্রমাইজ ফলাতে পারলেই কেল্লা ফতে।  কথা মতো চললে লক্ষ্মীটি, না হলে বেশ্যাটি।

যাইহোক, লক্ষ্মীপুজোর দিনে খিচুরি, আলু, বেগুন ভাজা, নাবড়া, চাটনি রান্না হয়েছিল আজ বাড়িতে। রেহানা মাকে সাহায্য করে রান্নাঘরে।

রেহানা মুর্শিদাবাদের মেয়ে। কষা করে মাংস রান্না করতে ভালোবাসে। করেও। সাথে পুজোর থালা সাজানো, ধুপ জ্বালিয়ে দেওয়া, আলপনা আঁকার সরঞ্জাম এগিয়ে দেওয়ার কাজটুকুও করে।

সব লক্ষ্মীর পা ছোট হয় না। হিন্দু ধর্ম হয় না। রাত হলে যখন লক্ষ্মীর কাপড় খুলতে চায় কয়েকটা জানোয়ার, কেউ তারপর থেকে আর তাকে লক্ষ্মী বলে না। প্যাঁচা সব দেখেছিল সে রাতে। রাতেই সে দেখে। লক্ষ্মী থেকে অলক্ষ্মী হওয়া অব্দি।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মিসপ্লেস্ট প্রায়োরিটি আর শহুরে দীর্ঘশ্বাস

| মিসপ্লেস্ট প্রায়োরিটি আর শহুরে দীর্ঘশ্বাস |

মর্মস্পর্শী একটা ঘটনা। এই সময় পত্রিকার ১০এর পাতায়। কি জানি কেন দলা পাকানো কি একটা হচ্ছে খবরটা পড়ে। অবাক হলাম খবরটা দশের পাতায় জায়গা হল বলে। প্রথম পাতার anchor এ কাজুও ইশিগুরোর নোবেলে ভূষিত হওয়ার খবর।

১০এর পাতার খবরটা সংক্ষেপে হল, দু বছরের অরুন্ধতী বিবাহবিচ্ছিন্ন মা বাবার সন্তান। মা বাবা দুজনেই ডাক্তার, সম্ভ্রান্ত। মায়ের কাছে থাকতো পুচকে মেয়েটা। একদিন ভাত খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে কোমাতে চলে যায়। তারপর দীর্ঘ লড়াই চলে। অনেক টাকা খরচা হয়। কে কত টাকা দেবে, কোথায় দেবে বাবা মায়ের তা নিয়ে লড়াই। লড়াই ভেন্টিলেটর এর নল খোলা নিয়ে। কারন বাবা মনে করেছিল, বেসরকারি হাসপাতাল টাকা শুষে নিচ্ছে। শেষমেশ অরুন্ধতী মারা গেছে। দু বছরের মেয়ে। এর পর ও লড়াই চলছে লাশের উপর। ময়নাতদন্ত হবে না হবেনা।

এই খবর প্রথম পাতায় পাঠক হয়ে পড়তে চাইবো না? এবাবের নোবেলজয়ী আমার দেশের নয়। অনেকে নাম ও জানতো না। কিন্তু ওই একরত্তি মেয়েটি, ওই টানাপোড়েন এর গল্প, ওই মা বাবার ভাঙা সংসারের গল্প আমাদের দেশের। চারপাশের।

ইশিগুরো তো কালের কথা লেখে। রোজনামচা আর তার না পাওয়া ইচ্ছাসুখ এর কথা লেখে।

আমরা আর একটু এই খবর গুলো লিখতে পারিনা? ওই দু বছরের মেয়েটার নিথর শরীরটা নিয়ে, কোন এক সময় ভালোবাসা ছিল ওর মা বাবার আজকেও শূন্যতা নিয়ে, শহুরে জীবনের অন্ধতা আর দীর্ঘশ্বাস গুলো নিয়ে।

লিখি এখানেই আসুন।

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ঋতব্রত, পাব্লিক যা চায় আর সামান্য খিল্লি

| ঋতব্রত, পাব্লিক যা চায় আর সামান্য খিল্লি |

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

যারা ফার্স্ট ফ্লাশ দার্জিলিং চা ও পার্ক স্ট্রিটের বেকারি থেকে আনানো প্রজাপতি বিস্কুট খেতে খেতে সংবাদমাধ্যমের অধোগতির সমালোচনা করেন, তারাই ঋত্বিক ও ঋতব্রতর যৌন জীবন ও নারী সম্পর্ক জানতে সবচেয়ে আগ্রহী।

গুরুগম্ভীর ইংলিশ ডিবেটের থেকে তো হিংলিশ দেশ মে হামারে জওয়ান মর রহে হে ন্যারেটভ অনেক আকর্ষক। যেমন নিউটন বা সহজপাঠের গপ্পো ডাউনলোড করে বাড়িতে দেখতে হয় আর তেলা মাথায় তেল ঢালতে বাহুবলী ও জুড়ওয়া দেখতে হয় মাল্টিপ্লেক্স এ।

ভিড় বাসে কচি পাছাতে হাত বোলানো বৃদ্ধ ধরা পরলে সব্বাই তখন ন্যায়পুরুষ। অথচ তারাই বাস থেকে নামার সময় হাল্কা কনুই মাড়বে নরম মাংসেরঢিপিতে।

ইদানীং সানি লিওনির থেকে বেশি ভিডিও মোবাইল এ রাখা এক সাংসদের জীব ও বালিশ চাটার। পাব্লিক কিন্তু হেব্বি খাচ্ছে। এখন ওসব জিডিপি, কৃষক মৃত্যু ইত্যাদি খবর যারা দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা ও করছে তাদের চ্যানেল পাল্টাও।

আসলে আমরা সব্বাই এক একটা ধনঞ্জয়, মোক্যাম্বো, ঋত্বিক, ঋতব্রত বা নম্রতা হয়ে ঘুরছি। কেউ সামনে আসছি দারুন কেচ্ছা নিয়ে আর কেউ দারুন রগড় দেখছি। সবটাই টিভির সামনে বসে।

পাব্লিকের আইন স্পষ্ট। রবি ঠাকুর দুপুর ঠাকুরপো হতে পারেনা, লেনিন শেষবয়েসে হাগু করতে পারেনা বিছানাপত্রে, রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে বিদেশী প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারেনা, ঋতব্রত সেক্স চ্যাট করতে পারেনা। কামুক সাজতে পারেনা।

সৌখিন কলম, সাদা পাঞ্জাবি, চোখে চিকচিক, ঠোঁটে মার্ক্স, ট্রটস্কি, টেগোর, শেলী নেরুদা,কামু থেকে এক ঝটকায় বালিশ চাটা, খালি গায়ে সাংসদের পানু দেখে লোকে আলবাত কেচ্ছা করবে।

সানি লিওনি নীরুপা রয় হতে পারেনা। আপনিও ভিক্টিম কার্ড খেলতে পারেন না। আপনারাই শিখিয়েছেন যে রাজনীতিবিদরা সচারচর হয় দুষ্টু লোক আর মেয়েদের সব অভিযোগই ঠিক।

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

পুলিশ বড্ড অসহায়, ওর পাশে দাঁড়াও

| পুলিশ বড্ড অসহায়, ওর পাশে দাঁড়াও |

---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মৃত স্বামীর কফিন আগলে এক তরুণী। বাকিরা সামলাতে পারছেনা। চিৎকার করছে: সবাই সব ভুলে যাবে। ওকে কেউ আটকাবে না (কফিনে) ওর নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হবে।

বেশির ভাগ পুলিশই ইনসোমনিয়াতে ভোগে। পুলিশ উর্দি খুলে যখনই স্বামী বা ছেলে বা বাবা হতে যায়, কিছু না কিছু বাঁধা আসে। হয় স্ত্রী অনেক আগেই ছেলে কে নিয়ে পাশের ঘরে শুয়ে পরেছে। বা ছেলে টেবিলের তলায় লুকোতে হচ্ছে দেখে প্রশ্ন করেছে বা মা দুশ্চিন্তা করেছে টিভিতে থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার ছবি দেখে। বাকিটা সময় মেটিয়াবুরুজ এ মিউমিউ বা রাজপথ এ ফ্যালফ্যাল করে ত্রিশূল হাতে মিছিল দেখা।

এবার ও এক পুলিশ পাহাড়ে কাজ শেষ হলে প্রেমিক সাজবে ভেবেছিল। খুন হওয়ার আগে নতুন বউয়ের সাথে খুনসুটি করবে ভেবেছিল। বিধাতার রুলবুকে বোধহয় এসব লেখা নেই। হাউহাউ করে এক কমবয়সী বউয়ের কান্না লেখা আছে। মাথা দারুন গরম হলেও মেরুদণ্ডহীন "ইয়েস স্যার" লেখা আছে।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। ওর ডি.এ নেই, নপুংসক এর রাষ্ট্রগত ছায়া থেকে বেরোনোর উপায় নেই, সেনার মত সম্মান নেই, আল্লা হু আকবর বা জয় শ্রী রামের আড়ালে লুম্পেনবাজি হলে লাঠি চালানোর পারমিশন নেই।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। সাংবাদিক ও বোধহয় আংশিক। ফাটিয়ে লিখতে ইচ্ছে করলেও থেমে যেতে হবে। হাত নিশপিশ করলেও রিপোর্ট থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রশ্ন থেকে বিরত থাকতে হবে, অনেক প্রশ্ন ঢোঁক গিলে নিতে হবে। সবার উপরে কি যেন কি সত্য সেলুকাস।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। ৩৬৪ দিন তোষামোদি, ডিসি সাহেবের বাচ্চাকে স্কুল ছেড়ে দেওয়া, দাপুটে নেত্রীর চাপকানোর হুমকি শোনা, হেলমেট না পরেও নির্দিষ্ট কিছু পাড়া দিয়ে বাইক জুলুস এ কিছু না বলতে পারার হতাশা। ফোকটে গুলি খাওয়া, হজম করা। কারন রাজনীতির পরবর্তী চাল ঠিক হচ্ছে কফিনের পাশে।

পুনশ্চ, গোটা মুম্বাই এ হেলমেট ফেজ টুপির উপরে হলেও পড়তে হবে। তা সে যতই বড় দাড়ি হোক। যেমন মাল খেয়ে শিবাজী মহারাজ এর স্টিকার গাড়িতে থাকলেও ফাইন দিতে হবে। হবেই। পুলিশ নিজের কাজ করবে। কোন বাবা তাকে নির্দেশ দেবেনা কম্প্রোমাইজের।

এই অসহায়তা আমাদের। বেকার পুুলিশদের দোষ দিয়ে কি লাভ!

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Kolkata Police

সব প্লেন উড়ে যায়

সব প্লেন উড়ে যায়/
ডানা হলে সব পাখি সমুদ্রপাড় দেয় পাড়ি।
ঘর ছেড়ে আমার ও আজ/
যেতে হবে ভিনদেশি বাড়ি।

একটা দারুন সুন্দর শহর থেকে ফিরছি। আমার শহর। বৃদ্ধাশ্রমের মতো ধূসর শহর।

কি মায়াবী আলোতে সাজানো রাস্তাঘাট, ভাস্কর্য, স্কন্ধকাটা বল বাবাজি, লন্ডন টাওয়ার। শিল্প নেই তো কি? শান্তি আছে, সৌন্দর্য আছে।

এবার শুনলাম ট্রাম্প টাওয়ার্স ও কোলকাতা তে হচ্ছে। নামজাদা কিছু রেস্তরাঁ ও সেলামী দিচ্ছে খাদ্যরসিক শহরটাকে। তবে কি যেন নেই।

দারুন মনখারাপ হলেও যেতে হবেই বাড়ি। ঘর পিছনে ফেলে প্লেন উড়বে।

আমার বিশ্বাস যে শহর চাড্ডি চক্রান্ত রুখে দিতে পারে একপাতে গোস্ত ও ভোগ খেয়ে, একসাথে ভাসান আর আজান দিয়ে, হাজারে হাজারে বিশ্বকাপের মাঠ ভরিয়ে, দেশের সবচেয়ে মনভালো করা শহর হতে পেরে-

তারা একদিন নিশ্চই শিল্পের মাহাত্য বুঝবে। একদিন ঠিক দেখবো মমতাদিদি, বুদ্ধবাবু, মান্নান সাহেব, বাবুল দা, রুপাদি একসাথে গলা ফাটিয়ে দিল্লী থেকে শিল্প, প্রকল্প, রেলপথ, উড়ালপুল, এইমস, আইআইটি ছিনিয়ে আনছে বাংলার জন্য। বাঙালির জন্য।

আমি বিশ্বাস করি এরকম একটা দিন আসবেই। চললাম অনেকটা আশা নিয়ে। ফিরতে হবে আবার শিগগির।

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ