কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Sunday, October 15, 2017

অ লক্ষ্মী

| অ লক্ষ্মী |

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

আজও লক্ষ্মী মেয়ের পায়ের মাপ হয় ছোট, নতজানু থাকে সমাজে, শ্রীরূপা, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বালঙ্কারভূষিতা। এর বাইরে হলেই অলক্ষ্মী।

বড় সিগারেট খায়, আঁচল বুকে থাকেনা, কালচে বর্ণা হয়, নাভিতে নথ থাকে, চুলের আংশিক হাইলাইটেড।

এছাড়া ডাকিনী যোগিনী দেখা যায়। এসিডদগ্ধ, ওড়নায় কিছুটা মুখ ঢাকা, না বলার বেয়াদবি করেছিল বলে লক্ষ্মী হওয়া হইনি।

লক্ষ্মী তো মর্গ এ দেখা যায়। ওই যে মেয়েটি সর্বালঙ্কারভূষিতা হওয়া স্বত্তেও আরো পণের টাকা দিতে না পারায় কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শ্বশুরবাড়িতে।

লক্ষ্মী কি আর ডিভোর্সি হতে পারে? শ্রীরূপা, পতিপরিতক্তা, স্বাবলম্বী মেয়েকে খারাপ মেয়ে বলে ডাকে লোকে। লক্ষ্মী ওদের কাজের লোকের নাম। রোজ লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে আসে। সন্ধে হলে ভাত রাঁধতে আর মার খেতে দৌড়ে বাড়ি ফেরে।

অলক্ষ্মী মেয়েদের জন্যই ছেলেরা মেয়েদের খারাপ বলে, টিজ করে। অনেক লক্ষ্মীমেয়ের ভাবনা। যেরকম ভাবনা সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। রমণী না ছাই। সংসার সুখী হয় কম্প্রমাইজের গুনে। কে কতটা করবে তার ওপর। বাকিটা পুরুষত্ব ফলানো।অফিসে, লোকাল বাসে, বিছানায়, পুরুষত্ব ও কম্প্রমাইজ ফলাতে পারলেই কেল্লা ফতে।  কথা মতো চললে লক্ষ্মীটি, না হলে বেশ্যাটি।

যাইহোক, লক্ষ্মীপুজোর দিনে খিচুরি, আলু, বেগুন ভাজা, নাবড়া, চাটনি রান্না হয়েছিল আজ বাড়িতে। রেহানা মাকে সাহায্য করে রান্নাঘরে।

রেহানা মুর্শিদাবাদের মেয়ে। কষা করে মাংস রান্না করতে ভালোবাসে। করেও। সাথে পুজোর থালা সাজানো, ধুপ জ্বালিয়ে দেওয়া, আলপনা আঁকার সরঞ্জাম এগিয়ে দেওয়ার কাজটুকুও করে।

সব লক্ষ্মীর পা ছোট হয় না। হিন্দু ধর্ম হয় না। রাত হলে যখন লক্ষ্মীর কাপড় খুলতে চায় কয়েকটা জানোয়ার, কেউ তারপর থেকে আর তাকে লক্ষ্মী বলে না। প্যাঁচা সব দেখেছিল সে রাতে। রাতেই সে দেখে। লক্ষ্মী থেকে অলক্ষ্মী হওয়া অব্দি।

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মিসপ্লেস্ট প্রায়োরিটি আর শহুরে দীর্ঘশ্বাস

| মিসপ্লেস্ট প্রায়োরিটি আর শহুরে দীর্ঘশ্বাস |

মর্মস্পর্শী একটা ঘটনা। এই সময় পত্রিকার ১০এর পাতায়। কি জানি কেন দলা পাকানো কি একটা হচ্ছে খবরটা পড়ে। অবাক হলাম খবরটা দশের পাতায় জায়গা হল বলে। প্রথম পাতার anchor এ কাজুও ইশিগুরোর নোবেলে ভূষিত হওয়ার খবর।

১০এর পাতার খবরটা সংক্ষেপে হল, দু বছরের অরুন্ধতী বিবাহবিচ্ছিন্ন মা বাবার সন্তান। মা বাবা দুজনেই ডাক্তার, সম্ভ্রান্ত। মায়ের কাছে থাকতো পুচকে মেয়েটা। একদিন ভাত খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে কোমাতে চলে যায়। তারপর দীর্ঘ লড়াই চলে। অনেক টাকা খরচা হয়। কে কত টাকা দেবে, কোথায় দেবে বাবা মায়ের তা নিয়ে লড়াই। লড়াই ভেন্টিলেটর এর নল খোলা নিয়ে। কারন বাবা মনে করেছিল, বেসরকারি হাসপাতাল টাকা শুষে নিচ্ছে। শেষমেশ অরুন্ধতী মারা গেছে। দু বছরের মেয়ে। এর পর ও লড়াই চলছে লাশের উপর। ময়নাতদন্ত হবে না হবেনা।

এই খবর প্রথম পাতায় পাঠক হয়ে পড়তে চাইবো না? এবাবের নোবেলজয়ী আমার দেশের নয়। অনেকে নাম ও জানতো না। কিন্তু ওই একরত্তি মেয়েটি, ওই টানাপোড়েন এর গল্প, ওই মা বাবার ভাঙা সংসারের গল্প আমাদের দেশের। চারপাশের।

ইশিগুরো তো কালের কথা লেখে। রোজনামচা আর তার না পাওয়া ইচ্ছাসুখ এর কথা লেখে।

আমরা আর একটু এই খবর গুলো লিখতে পারিনা? ওই দু বছরের মেয়েটার নিথর শরীরটা নিয়ে, কোন এক সময় ভালোবাসা ছিল ওর মা বাবার আজকেও শূন্যতা নিয়ে, শহুরে জীবনের অন্ধতা আর দীর্ঘশ্বাস গুলো নিয়ে।

লিখি এখানেই আসুন।

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

ঋতব্রত, পাব্লিক যা চায় আর সামান্য খিল্লি

| ঋতব্রত, পাব্লিক যা চায় আর সামান্য খিল্লি |

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

যারা ফার্স্ট ফ্লাশ দার্জিলিং চা ও পার্ক স্ট্রিটের বেকারি থেকে আনানো প্রজাপতি বিস্কুট খেতে খেতে সংবাদমাধ্যমের অধোগতির সমালোচনা করেন, তারাই ঋত্বিক ও ঋতব্রতর যৌন জীবন ও নারী সম্পর্ক জানতে সবচেয়ে আগ্রহী।

গুরুগম্ভীর ইংলিশ ডিবেটের থেকে তো হিংলিশ দেশ মে হামারে জওয়ান মর রহে হে ন্যারেটভ অনেক আকর্ষক। যেমন নিউটন বা সহজপাঠের গপ্পো ডাউনলোড করে বাড়িতে দেখতে হয় আর তেলা মাথায় তেল ঢালতে বাহুবলী ও জুড়ওয়া দেখতে হয় মাল্টিপ্লেক্স এ।

ভিড় বাসে কচি পাছাতে হাত বোলানো বৃদ্ধ ধরা পরলে সব্বাই তখন ন্যায়পুরুষ। অথচ তারাই বাস থেকে নামার সময় হাল্কা কনুই মাড়বে নরম মাংসেরঢিপিতে।

ইদানীং সানি লিওনির থেকে বেশি ভিডিও মোবাইল এ রাখা এক সাংসদের জীব ও বালিশ চাটার। পাব্লিক কিন্তু হেব্বি খাচ্ছে। এখন ওসব জিডিপি, কৃষক মৃত্যু ইত্যাদি খবর যারা দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা ও করছে তাদের চ্যানেল পাল্টাও।

আসলে আমরা সব্বাই এক একটা ধনঞ্জয়, মোক্যাম্বো, ঋত্বিক, ঋতব্রত বা নম্রতা হয়ে ঘুরছি। কেউ সামনে আসছি দারুন কেচ্ছা নিয়ে আর কেউ দারুন রগড় দেখছি। সবটাই টিভির সামনে বসে।

পাব্লিকের আইন স্পষ্ট। রবি ঠাকুর দুপুর ঠাকুরপো হতে পারেনা, লেনিন শেষবয়েসে হাগু করতে পারেনা বিছানাপত্রে, রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে বিদেশী প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারেনা, ঋতব্রত সেক্স চ্যাট করতে পারেনা। কামুক সাজতে পারেনা।

সৌখিন কলম, সাদা পাঞ্জাবি, চোখে চিকচিক, ঠোঁটে মার্ক্স, ট্রটস্কি, টেগোর, শেলী নেরুদা,কামু থেকে এক ঝটকায় বালিশ চাটা, খালি গায়ে সাংসদের পানু দেখে লোকে আলবাত কেচ্ছা করবে।

সানি লিওনি নীরুপা রয় হতে পারেনা। আপনিও ভিক্টিম কার্ড খেলতে পারেন না। আপনারাই শিখিয়েছেন যে রাজনীতিবিদরা সচারচর হয় দুষ্টু লোক আর মেয়েদের সব অভিযোগই ঠিক।

©------ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

পুলিশ বড্ড অসহায়, ওর পাশে দাঁড়াও

| পুলিশ বড্ড অসহায়, ওর পাশে দাঁড়াও |

---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

মৃত স্বামীর কফিন আগলে এক তরুণী। বাকিরা সামলাতে পারছেনা। চিৎকার করছে: সবাই সব ভুলে যাবে। ওকে কেউ আটকাবে না (কফিনে) ওর নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হবে।

বেশির ভাগ পুলিশই ইনসোমনিয়াতে ভোগে। পুলিশ উর্দি খুলে যখনই স্বামী বা ছেলে বা বাবা হতে যায়, কিছু না কিছু বাঁধা আসে। হয় স্ত্রী অনেক আগেই ছেলে কে নিয়ে পাশের ঘরে শুয়ে পরেছে। বা ছেলে টেবিলের তলায় লুকোতে হচ্ছে দেখে প্রশ্ন করেছে বা মা দুশ্চিন্তা করেছে টিভিতে থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার ছবি দেখে। বাকিটা সময় মেটিয়াবুরুজ এ মিউমিউ বা রাজপথ এ ফ্যালফ্যাল করে ত্রিশূল হাতে মিছিল দেখা।

এবার ও এক পুলিশ পাহাড়ে কাজ শেষ হলে প্রেমিক সাজবে ভেবেছিল। খুন হওয়ার আগে নতুন বউয়ের সাথে খুনসুটি করবে ভেবেছিল। বিধাতার রুলবুকে বোধহয় এসব লেখা নেই। হাউহাউ করে এক কমবয়সী বউয়ের কান্না লেখা আছে। মাথা দারুন গরম হলেও মেরুদণ্ডহীন "ইয়েস স্যার" লেখা আছে।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। ওর ডি.এ নেই, নপুংসক এর রাষ্ট্রগত ছায়া থেকে বেরোনোর উপায় নেই, সেনার মত সম্মান নেই, আল্লা হু আকবর বা জয় শ্রী রামের আড়ালে লুম্পেনবাজি হলে লাঠি চালানোর পারমিশন নেই।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। সাংবাদিক ও বোধহয় আংশিক। ফাটিয়ে লিখতে ইচ্ছে করলেও থেমে যেতে হবে। হাত নিশপিশ করলেও রিপোর্ট থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রশ্ন থেকে বিরত থাকতে হবে, অনেক প্রশ্ন ঢোঁক গিলে নিতে হবে। সবার উপরে কি যেন কি সত্য সেলুকাস।

পুলিশ বড্ড অসহায়। ওর পাশে দাঁড়াও। ৩৬৪ দিন তোষামোদি, ডিসি সাহেবের বাচ্চাকে স্কুল ছেড়ে দেওয়া, দাপুটে নেত্রীর চাপকানোর হুমকি শোনা, হেলমেট না পরেও নির্দিষ্ট কিছু পাড়া দিয়ে বাইক জুলুস এ কিছু না বলতে পারার হতাশা। ফোকটে গুলি খাওয়া, হজম করা। কারন রাজনীতির পরবর্তী চাল ঠিক হচ্ছে কফিনের পাশে।

পুনশ্চ, গোটা মুম্বাই এ হেলমেট ফেজ টুপির উপরে হলেও পড়তে হবে। তা সে যতই বড় দাড়ি হোক। যেমন মাল খেয়ে শিবাজী মহারাজ এর স্টিকার গাড়িতে থাকলেও ফাইন দিতে হবে। হবেই। পুলিশ নিজের কাজ করবে। কোন বাবা তাকে নির্দেশ দেবেনা কম্প্রোমাইজের।

এই অসহায়তা আমাদের। বেকার পুুলিশদের দোষ দিয়ে কি লাভ!

©--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Kolkata Police

সব প্লেন উড়ে যায়

সব প্লেন উড়ে যায়/
ডানা হলে সব পাখি সমুদ্রপাড় দেয় পাড়ি।
ঘর ছেড়ে আমার ও আজ/
যেতে হবে ভিনদেশি বাড়ি।

একটা দারুন সুন্দর শহর থেকে ফিরছি। আমার শহর। বৃদ্ধাশ্রমের মতো ধূসর শহর।

কি মায়াবী আলোতে সাজানো রাস্তাঘাট, ভাস্কর্য, স্কন্ধকাটা বল বাবাজি, লন্ডন টাওয়ার। শিল্প নেই তো কি? শান্তি আছে, সৌন্দর্য আছে।

এবার শুনলাম ট্রাম্প টাওয়ার্স ও কোলকাতা তে হচ্ছে। নামজাদা কিছু রেস্তরাঁ ও সেলামী দিচ্ছে খাদ্যরসিক শহরটাকে। তবে কি যেন নেই।

দারুন মনখারাপ হলেও যেতে হবেই বাড়ি। ঘর পিছনে ফেলে প্লেন উড়বে।

আমার বিশ্বাস যে শহর চাড্ডি চক্রান্ত রুখে দিতে পারে একপাতে গোস্ত ও ভোগ খেয়ে, একসাথে ভাসান আর আজান দিয়ে, হাজারে হাজারে বিশ্বকাপের মাঠ ভরিয়ে, দেশের সবচেয়ে মনভালো করা শহর হতে পেরে-

তারা একদিন নিশ্চই শিল্পের মাহাত্য বুঝবে। একদিন ঠিক দেখবো মমতাদিদি, বুদ্ধবাবু, মান্নান সাহেব, বাবুল দা, রুপাদি একসাথে গলা ফাটিয়ে দিল্লী থেকে শিল্প, প্রকল্প, রেলপথ, উড়ালপুল, এইমস, আইআইটি ছিনিয়ে আনছে বাংলার জন্য। বাঙালির জন্য।

আমি বিশ্বাস করি এরকম একটা দিন আসবেই। চললাম অনেকটা আশা নিয়ে। ফিরতে হবে আবার শিগগির।

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Monday, August 7, 2017

| রবি ঠাকুরকে গনহত্যার মামলায় সমন |

| রবি ঠাকুরকে গনহত্যার মামলায় সমন |

©---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই তুমি?
যে বৈশাখ বদলে দিলো জন্মভূমি।
মধ্যবর্তী যেই বা আসলো খরকুটো,
শ্রাবণ মাসের বাইশে সমন/
মৃত্যু গুনি।

গুরুদেব প্রনাম। আপনার লেখা পড়ে বড়ই আনন্দ অনুভব করি। কিন্তু এই চিঠি লিখে আমি আপনার লেখা গান, কবিতা বা গদ্যের প্রশংসা করতে পারলাম না। আমি অপারগ।

এই লেখা মারফৎ আপনাকে সমন করা রবীন্দ্র সদন চত্বরে। একটি মৃতদেহদের আদালতে।

শ্রী রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আপনার বিরুদ্ধে IPC 301,302,306, 307 সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে কিছু মৃতব্যক্তি। জীবদ্দশায় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাফসোল কবি, ক্ষ্যাপা লেখক বা চিত্রকর হিসেবে পরিচিত ছিল।

আপনার হাতে যদি শতবার হাত ধোয়ার পরেও দোয়াতের কালি লেগে থাকে,তবে তা আপনার ভ্রান্তি। কলম বিলাস কখন ক্ষমতার উৎস হয়ে উঠেছে আপনি নিজেও জানেন না। ভালো করে গোল চশমা পরে হাত দুটো দেখুন। দেখবেন তাতে রক্ত লেগে কত অখ্যাত লেখকের। যারা আপনার তলায় চাপা পড়ে গেছিল।

অনেক দিস্তা কাগজ কলম খরচা করেও নতুন কিছু লিখতে পারেনি। প্রতি বছর প্রতি রাতে পায়চারি করেছে এ ঘর ও ঘর। যাই লিখতে গেছে, আপনি তা অনেক বছর আগে লিখে ফেলেছেন। বেচারা লিখে আবার কুচি কুচি করে সেই কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে। কেবল সিলিং ফ্যান সাক্ষী ছিল এদের ব্যর্থতার। এদের না লিখতে পারা গল্পের। এদের না ভাবতে পারা মৌলিকতার। শেষে ওই সিলিং ফ্যানেই গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছিল এদের। এক বিশাল গোলাছুটের মাঠে।

যেভাবে সারাজীবন কেরানি হয়ে থেকে গেছিল কেউ কেউ কারন লেখক হতে চাইলেও নতুন কিছু লিখতে পারেনি। পারেনা। তবে পড়তে ভালোবাসে। পড়েও। পানু থেকে কামু।

আপনার সাথে আমার পরিচয় নিতান্তই বাড়ির চাপে। জোর করে মা দুটো গান আর তিনটে কবিতা মুখস্থ করিয়ে রেখেছিল। যেখানেই হোক, আউড়ে দিতাম। এতে শুনেছি মায়ের শান্তিতে ঘুম হতো।

এভাবে জোর করতে করতে একদিন কিছু কথার মানে বুঝতে শুরু করি। মানে বুঝে মন দিয়ে গেয়ে ফেললাম কিন্তু আপনার স্বঘোষিত স্তাবক-চ্যালার দল আমাদের ধমকালো। " বাবা, রবি ঠাকুরের গান রবিন্দ্রসঙ্গীত এর মতো গাও, এটা লাড়ে লাপ্পা নয়। একটু সিরিয়াস হও!!!!

কিভাবে হই। কিভাবে গাই। আমার তো WALKMan প্রজন্মে জন্ম। পরদেশী পরদেশী জানা নেহি গাইতে বেশি আনন্দ। এ আর রহমান আর চন্দ্রবিন্দু ভগবান। আপনি তো কেবল মা বাবার শাসন আর ইচ্ছেতে। আমার কৈশোরে বিনোদ রাঠোর। আমার কৈশোর এ বাড়ির শক্ত শাসন হারমোনিয়াম এর।

গুরুদেব আপনি অজান্তেই বহু মানুষের, বহু প্রতিভা, বহু সম্ভাবনার অকাল মৃত্যুর কারণ। তারা আপনার তলায় পিষ্ট হয়ে থেকে গেছে রবীন্দ্র সদন এর গাছে, নন্দন এর পাচিঁলে বা মোহরকুঞ্জতে। এদের সাধারণ মানুষ ভূত, দৈত্য বা পিষাচ বলে- আমরা বলি ব্যর্থ।

এরা এতটাই ব্যর্থ আর অপদার্থ যে পঁচিশে বৈশাখ এরা অদ্ভুতুরে কান্ড ঘটাতে পারে না, রবি ঠাকুর কে ভেঙে চুরমার করে একটা নতুন লেখা, ছবি, একটা গান গাইতে, লিখতে পারে না। ভয় পায়। গরুর মাংস ফ্রিজে রাখলে যে ভয় আছে আরকি।

আজ পচিশে বৈশাখ আপনি আসুন এই মৃতদেহ গুলোর সামনে। সালিশি হোক। আপনি কি সত্যিই গোঁড়া ছিলেন না ওই বাটিক ছাপ রাবীন্দ্রিক মৌলবিরা আপনার আপাদমস্তক মোল্ডিং করে? ঠিক যেভাবে প্যালেস্টাইন এর যিশু কখন যেন গির্জার শৃঙ্খল এ ফাদার এ বিদ্ধ। আপনি ও তো বিদ্ধ। সিনেমা শুরুর আগে। একজন ও না দাঁড়ালে সে এন্টি-ন্যাশনাল।

আপনার মত লিখতে হবেই? গাইতে হবেই? একই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে হবেই আপনার সুরে? না করলেই নাম খোদাই করে দেওয়া হবে কপালে- জর্জ বিশ্বাস?

হাজার হাজার মৃত কবি,লেখক, গায়ক আজ এসেছে আপনার কথা শুনতে। আপনি আসুন। আপনার ওজনে দুমড়ানো মোচড়ানো প্রতিভাগুলো একসাথে হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে। বুকে নতুন কিছু আইডিয়া, একটা কথার মোচড়, কিছু সুর ঠাসা বিস্ফোরক নিয়ে।

আপনি নেমে আসুন কবি। ধর্ম নিয়ে ফের লিখতে হবে। মুক্তমনাদের চাপাতির কোপ থেকে বাঁচানোর জন্য লিখতে হবে। কানামাছি খেলার মত যাকে পাবি তাকে দেশবিরোধীর তকমা লাগানোর বিরুদ্ধবাদ করতে হবে। ভারতবর্ষ মানে যে শুধু হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্থান নয়, সে গান গাইতে হবে।

সেদিন বিধাতা একা রবেন বসে, নীলিমাহীন আকাশে, ব্যক্তিত্বহারা অস্তিত্বের গনিততত্ব নিয়ে।

ছ'ফুট তখন জোব্বা পরে, অস্থির পায়চারি করছে। পাশের গ্রামের কালো হরিন চোখে কে বা কারা যেন এসিড ছুঁড়ে মেরেছে। ছোট নদীর মাঝিকে কে যেন হুমকি দিয়ে গেছে। নৌকায় ভারত মাতা কি জয় লেখা বাধ্যতামূলক। লালন সাঁই কি অহিন্দু? রামনবমীর দিন ঘর ওয়াপসির তোরজোড় করছে এক দল। একতারার বদলে ত্রিশূল নিতে হবে। ওদিকে একের পর এক ধানের গোলা জ্বলছে গুজবের আগুনে।

রেডিওতে সদ্য জন গন মন শেষ হল। এবার অনন্ত, অসংখ্য, লোকে লোকান্তরে এ বানী ধ্বনিত হবে। হবেই। মিঁত্রোওওওওও...............

---©---ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Thursday, August 3, 2017

টেস্টনি আসলে হ্যাকিং ও সমস্ত তথ্য চুরির বেষ্টনী |

টেস্টনি ক্লিক করা বন্ধ করুন নয়তো প্রস্তুত থাকুন হ্যাকিং,স্প্যামিং ও তথ্য অপপ্রয়োগের।

একেই বোধহয় বলে বিশ্বজোড়া ফাঁদ। চিটফান্ডের চেয়ে অমায়িক, জোচ্চুরির চেয়ে আধুনিক, যেচে প্রশংসার থেকে স্বাস্থ্যকর।

ভাবুন তো কয়েক বছর আগেও থার্ড পার্টি ভেন্ডারদের কি কাল ঘাম না ফেলতে হত ডেটা সংগ্রহ করতে। মলের সামনে কাগজ হাতে, ফোন কম্পানিগুলোকে ঘুষ খাইয়ে, কলেজের ছেলে মেয়েদের প্রতি ১০০ ডেটাবেস প্রতি অর্থ দিয়ে।

তারপর এল সেই বৈপ্লবিক বিপণন বুদ্ধি। সোশাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে, মজার ছলে, অজান্তে সব তথ্য নেওয়া ও সিলেক্টিভ ইউজের সম্মতি নিয়ে তথ্য হাসিল। টেস্টনি আসলে তাই। একটা ডেটা কালেকশন সফটওয়্যার। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন স্যাম্পল সাইজ, সেগমেন্ট, কনজিউমার ভাগ করে বিভিন্ন সহজ খেলা, ফ্যান্টাসি গেম, ইম্যাজিন ও রোল প্লে গেম খেলা।

শুধু একটা ছোট্ট গল্প আছে। এই খেলার বা কুইজের রেজাল্ট পেতে গেলে আপনাকে আপনার মোবাইল ও প্রোফাইল এর সমস্ত তথ্য ব্যবহার ও সংগ্রহ করার অনুমতি দিতে হবে। আপনি উত্তর জানার আনন্দে ঝটপট দু তিনটে বোতাম টিপে ওকে বলে দেন। ডট ডট ঘুরতে থাকে, আপনার ডেটা কালেক্ট করা হচ্ছে বলা হয়, একটা থার্ড পার্টি ভেন্ডার যার প্রোফাইল জানেন না, ওয়ার্ক প্যাটার্ন জানেন না, কোথায় রেজিস্টারড জানেন না, তাকে সমস্ত তথ্য দিয়ে দেন। ভাবেন জুকারবার্গ সামলে নেবে।

না আসলে ফেসবুক দায় নেবে না। ফেসবুক ক্যান্ডি ক্রাস বা ফেসবুক লাইভের দায়িত্ব নিতে পারে কিন্তু ফেসবুক পলিসিতে কোথাও টেস্টনি বা তার মত হাজার খানেক জেনে নিন অমুক, দেখে নিন তমুক সাইটের দায়িত্ব নেয় না।

শ্রীজিত, মীর,শ্রীজাত বা এদের মত আরো কয়েক ডজন তারকা দেখি এদের ফাঁদে পা দিয়েছেন। মজা পাচ্ছেন, শেয়ার করছেন, বাকিদের রেজাল্ট রিপোষ্ট করছেন। আসলে অজান্তে নিজেদের অনলাইন সমস্ত তথ্য, কন্টেন্ট, ইমেল লিস্ট, ফোনবুক, সার্ফিং প্যাটার্ন, ব্রাউজিং হিস্ট্রি এক অজানা, অচেনা থার্ড পার্টিকে দিয়ে দিচ্ছেন। এদের কোন একাউন্টেবিলিটি আছে? কোটি কোটি যে তথ্য এরা জোগাড় করছে তা কিসে ব্যবহার হবে আমরা জানি? স্প্যামিং বা হ্যাকিং হবে না এই তথ্য ব্যবহার করে কোন নিশ্চয়তা আছে?

টেস্টনির সাইটে পরিষ্কার লেখা আছে তারা ব্যাবসাহিক কাজে আপনার তথ্য ব্যবহার করবে। আপনি হয়তো নিউজলেটার, মেল, এসএমএস পেতে পারেন হাজার প্রোডাক্ট সম্পর্কিত। তারপরই লেখা এটা আমেরিকা ও ইউরোপ এর দেশগুলিতে প্রযোজ্য। অর্থাৎ ভারতে এর ক্ষেত্রে এর ইউটিলিটি স্পষ্ট নয়।

আসলে মজার ছলে এসব খুনসুটি। কেই বা এত কিছু ভাবে? কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর লড়াইটা তো ছিল তথ্যের অধিকার ও রাইট টু প্রাইভেসি- একই সাথে। ডেটা ইস দি নেক্সট ওয়েল।

আপনার ফোনবুক, কত ঘন্টা কথা বলেন, মাঝরাতে কোন সাইট দেখেন, কোন ছবি ডাউনলোড করেছেন, কোন প্যাটার্ন সাধারণত থাকে পাসওয়ার্ড এর, কার সাথে কোন শব্দ সবচেয়ে বেশী বার ব্যবহার করেছেন- এদের সব জানা চাই। বা হুক অর বা ক্রুক। না জানতে পারলে কেমিক্যাল ওয়েপেনের মত টেস্টনি ছড়িয়ে দাও। বোকা বোকা সাদৃশ্য,অলীক কল্পনা, জনপ্রিয় চরিত্রায়ন করুন। করতে বাধ্য করুন। টকিং পয়েন্ট হবে। আরো ক্লিক অর্থাৎ আরো ডেটা।

আমরা সবাই দিবাস্বপ্ন দেখি। সবাই লুকিয়ে থাকা সুপারহিরো পুষি আর তার সাথে সামান্য মিল কেউ মিলিয়ে দিলেই জাহির করি। কেউ আসলে কথা বলি না। একে অপরের উত্তর পড়ি। মজা পাই যখন নিজেকে টেস্টনি সিনেমায় সত্যজিৎ, কবিতায় সুনীল, ঔরসে বাহুবলী ও রাজনীতিতে মমতার সাথে তুলনা করে। খিল্লি করি, অবাক হই, জাহির করি, ট্যাগ করি, খিস্তি করি কিন্তু শেয়ার করি। করতেই থাকি।

ফোর জি লাইফকে জিংগালালা করেছে। মুঠোয় অগাধ নেট ডেটা কিন্তু সেই নেট ডেটা ব্যাবহার করতে শিখুন। আপনার নিজেকে শক্তি, সুনীল, বুদ্ধদেব, বিবেকানন্দ ভাবতে ভালো লাগতে পারে কিন্তু নিজের সমস্ত প্রাইভেসি সমর্পণ করে নয় নিশ্চই।

Thursday, July 13, 2017

| তাজ এর ঝাড়বাতিতে শত্রুর খোঁজ |

| তাজ এর ঝাড়বাতিতে শত্রুর খোঁজ |

কি অদ্ভুত সমাপতন। বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা দিবস পালন হল মুম্বাই তাজ হোটেল এ। সাক্ষী থাকলো মুজিবর রহমান আর জামশেদজী টাটা। দুজনেই স্বপ্ন দেখতো।

একটা দেশ যেখানে প্রত্যেক দিন আত্মঘাতি হামলা চালাচ্ছে উগ্রবাদীরা আর সরকার তার জবাব দিচ্ছে দাঁতে দাঁত চেপে তার স্বাধীনতার দিন উদযাপন। ৫০,০০০ বাঙালীর রক্তের বিনিময়, বাংলা ভাষায় কথা বলার জেদের স্বাধীনতা।

আর একটা শহর যার মেরুদন্ড বার বার ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা  করে উগ্রবাদীরা কিন্তু সে শহর আবার মাথা তুলে ব্যস্ত হয়ে যায়। এই হোটেল সাক্ষী। এই সিঁড়ি, ওই যে গলিপথ, বিলিতি ঝাড়বাতি, দেওয়াল এর ছবি। এরা সবাই মাথা তুলে আবার দাঁড়িয়ে।

অনেক খুঁজলাম দেওয়াল এ আর বুলেটের দাগ নেই। মেঝেতে রক্তের গন্ধ নেই। যেরকম মুজিব এর ছবি বসানো হয়েছে আজ। ১৫ আগস্ট এর রক্তপাত ঢাকার বাসাতেও তো নেই। তাজ থেকে বাইরে এলেই ইন্ডিয়া গেট তারপর আরব সাগর। ওখানে নৌকো চলে। নৌকো চেপেই মৃত্যু এসেছিল। ২৬ তারিখেই। দুটো দেশ। একই শত্রু।

একটা দেশ লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, আর একটা দেশ আজ ও প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। তাজ, লিওপল্ট, লোকাল ট্রেন, উড়ি, বারামুলা। অর্থাৎ শত্রু তারাই। গোটা দেশ। নাকি নয়? স্বাধীনতা উদযাপন এ রুনা লাইলা এসেছিলেন। মহারাষ্ট্র এর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ এর স্ত্রী অমৃতা এসেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ তে লড়াই করেছেন এরকম ভারতীয় সৈনিক এসেছিলেন, বহু দেশের কুটনীতিবিদ এসেছিলেন।

রুনা দি নিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটা ধরলেন। বলরুম এর কেতাদুরস্ত আদব, সাহেবিয়ানা, রাষ্ট্রগত শিষ্টতা তখন ভেঙে চুরমার। রুনা লাইলা দামা দম মস্ত কলন্দর/ আলি শাহবাজ কলন্দর গাইছেন। বাবা বুল্লে শাহ এর সেই বিখ্যাত কাওয়ালি। লাল শাহবাজ কলন্দর এখনো পাকিস্তান এ আছে। পাকিস্তান এর পাঞ্জাব প্রদেশ এর এই গান শাহবাজ কলন্দর এর দরগাতে এখনো গাওয়া হয় কিছু রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে।

এই দরগা বানানোর সময় ইরান থেকে শ্রমিক, লাল পাথর আর কিছু সুর এসেছিল। টাটারাও তো ইরান থেকেই এসেছিল। টাটাদের এই স্থাপত্য,তার দেওয়াল, ঝাড়বাতি, গোলাপ কাঠ এর দরজাতে আস্তে আস্তে বাবা বুল্লে শাহ হাত রাখছেন, মস্ত কলন্দর,মস্ত কলন্দর, মস্ত কলন্দর মন্ত্রচ্চারন এর মত গোটা হল পাকিস্তানি গান গাইছে। তাহলে শত্রু কে?

লাল শাহবাজ কলন্দর দরগাতে আগের মাসেই সন্ত্রাসবাদী হানা হয়েছিল। প্রার্থনা চলছিল তখনো। আর সন্ধেবেলা গান। তাহলে শত্রু কে? দুমুঠো ভাত জন্নতে গরুর ঝাল দিয়ে খাওয়ার স্বপ্ন দেখা মানব বোমা ওপারে না এপারে নৌকো থেকে নেমে হাসতে হাসতে মানুষ মারা যন্ত্র মানুষ যে ফাঁসির আগে বিরিয়ানি খেতে চায়?

অস্ত্র ব্যাপারীরাও খায় নিশ্চিত। যেরকম বাড়ি ফিরে মেয়ের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে ভাত খায় নেতা। বেওয়ারিশ লাশ বদলে গিয়ে হয় সন্ত্রাসবাদীর, সন্ত্রাস হানায় নিহত মানুষ এর স্তুপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় জেলে পিটিয়ে মারা নাম। নির্দিষ্ট নাম। পদবী। শত্রু কে?

বাইরে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে গেটওয়ের দিকে। অনেক দূরে পাকিস্তানি বন্দর। ওখানেও কেউ গান গাইছে রুনা লাইলার। কেউ লুকিয়ে ছবি দেখছে শাহরুখের। দামি মোবাইল আছে ওদের। সস্তা ইন্টারনেট। অন্ধকার থেকে একটা গলা এল: জন্নত যাবি?  ভালো খাওয়া, কাপড় পাবি। তোর বিস্ফারণ এ মৃত্যু, আমার শত্রুতাকে জিন্দা রাখবে।

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ