কবির কদর নেই জীবদ্দশায়, কবির কবর দেয়া হয় না।
থাকলে,এপিটাফ কদর দিত/কোন নিষিদ্ধ প্রেমিকার মতো।

mayukh speaks

My photo
kolkata, west bengal, India
A media professional and a wanderer by passion. Blogger and social observer. loves to watch world films and hear different music genre.

Wednesday, April 12, 2017

বিপ্লব = হনুমান এর বীর্যধারন না সানি লিওনিতে বীর্যস্খলন?

মুম্বাইতে যোগেশ্বরী স্টেশন এর থেকে একটু এগিয়ে একটা স্টেশন নতুন হয়েছে। নাম রাখা হয়েছে রাম মন্দির। রেল এর দেওয়া নাম। আদর- ভক্তি-নেশা ধরানো নাম।

যোগেশ্বরী, বেহেরামবাগ এলাকাটি ৭০% মুসলিম প্রধান। এখানে দোকান এর নাম হয় ইলাহি স্টোর, ফ্ল্যাট এর নাম হয় অল্ মদত, অটোর পেছনে বিসমিল্লায়ে রেহমান এ রহিম। স্টেশন এর নাম রাখাই যেত হাজি আলি। হয়নি এবং এই নিয়ে কারোর কোন মাথা ব্যাথা নেই। কারন স্টেশনটি হওয়াতে বহু মানুষ উপকৃত। পেছনে বিসমিল্লায়ে রেহমান এ রহিম লেখা সারি সারি অটো ভাড়া পাচ্ছে। চা এর দোকান, হালিম, কাপড়, কফি, বোরখা, মাফলার- সব সম্প্রদায়ের দোকানির জটলা।

কয়েক লক্ষ বার মানুষ গুলো রাম উচ্চারণ করে। এতটা পড়ার পর যাদের মনে হচ্ছে, সত্যি তো একটা আরবী নাম রাখা উচিত ছিল, তাদের জানিয়ে রাখা ভালো যে মসজিদ নামক সেন্ট্রাল লাইন এ একটি স্টেশন দীর্ঘকাল ধরে আছে। গায়ত্রী মন্ত্র জপ করে স্নান করে, ভাত খেয়ে, তিলক কেটে অনেক লোক তাড়াহুড়ো করে মসজিদ যায়। রোজ মসজিদ যায়। সেখান থেকে কাজে। ব্যাবসায়। ধান্দায়।

আম্মি বলেছিল, ধান্দার থেকে বড় কোন ধরম নেই। আর তাই ৯২' এর দাঙ্গা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল, কিভাবে এক সম্প্রদায়ের গাছের ডাল কাটলে আদপে গাছটাই রুগ্ন হয়ে পরে। অর্থনীতিতে ধস নামে। যেভাবে আধাসেনা নামে অলি তে গলিতে দাঙ্গা হলে। এক বুক অবিশ্বাস আর যত্নে রাখা ঘৃণা গৃহবন্দি তখন।

বাংলাতে এখন রাম, হনুমান নিয়ে মিছিল এর হিরিক পরেছে। ফেসবুকে জিফ ফাইল এ সবার বুক চিড়লে হনুমান বা রাম বেরোচ্ছে ইদানীং। হাতে ত্রিশূল, তরোয়াল। গদা বা তির ধনুক চোখে পরছে না। ওগুলোই তো রামায়ণ এ সাক্ষী ছিল বোধহয়।

টিভিতে দেখলাম প্রচুর তরুন, সদ্যযুবক, স্লাইট ধেড়ে যুবক অস্ত্র হাতে। তা নিক গিয়ে। অস্ত্রের প্রতি নেশা মা বাবাই ছোটবেলায় ধরিয়ে দেয়। ক্যাপ বন্দুক, জিআইজো, শব্দ করা স্টেনগান, ডাব্লু ডাব্লু এফ।সে আলোচ্য নয় এখানে। হলেই মহরম এর তুলনা টানা হবে। যেভাবে ইদানীং একটা খারাপ জিনিস ঢাকতে আর একটা খারাপ সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয় বা চৌত্রিশ বছরের উদাহরণ বা কিছুতেই যুক্তি তে না পারলে- সিয়াচেন ম্যে হামারে জাওয়ান মর রহে হ্যায়।

যে ছেলেগুলো বাংলাতে অস্ত্র হাতে হিন্দুবীর সাজছে তারা কেউ পুজো আচ্চাতে নেই। হনুমান এর বীর্যধারন না সানি লিওনিতে বীর্যস্খলন তারাই জানে। কিন্তু তারা একটা জিনিস বুঝেছে।
দুবার জয় শ্রীরাম বললে আর বিনি পয়সায়, উইদাউট কেস তরোয়াল হাতে রাজপথে ঘুরলে যদি চাকরি জোটে ক্ষতি কি?

এতে ধর্ম নেই। চাকরি পাওয়ার জীভ ঝোলা অর্গাজম আছে। বাবার কারখানা বন্ধ, ঘরে আধ পেটা খেয়ে থাকার পর মনোরঞ্জন এর ডোজ আছে। কলেজ এর পর ইট বালি সিমেন্ট এর সিন্ডিকেট এ না ঢুকতে পারার হতাশা আছে। ওটাই প্রধান শিল্প।

এই ছেলেগুলোকেই ব্রিগেড এ লাল পতাকা ধরতে দেখেছিলাম। এদেরকেই পরিবর্তন চেয়ে দেব এর সাথে পাগলু ডান্স করতে দেখেছিলাম। এরাই এবার অস্ত্র হাতে। জয় সিয়ারাম। জয় সিয়ারাম।

রাম আজ ও এদের বোতল বন্দি। নয় ছয় করে ১৪০ হাতে এলেই একটা পাঁইট। সাথে ছোলা, গরুর কিমা, শুয়োর ভাজা, জলজীরা, মারোয়াড়ী হাওয়া ঢোকানো রকমারি নোনতা। সব পাঁচ টাকা।এলাহি!

বাঙালি হিন্দু হাফিজ এর রেওয়াজি খাসি তে আছে, আসমার বিরিয়ানিতে আছে, বিয়ের ভোরবেলা থেকে বিসমিল্লার সানাই এ আছে, এক থালায় ভাত খেয়ে কৃশানু- রহিম নবীর খেলায় আছে। সাবিনা রুনার গলায় আছে। পদ্মার ইলিশ এর কানকোয় আছে। বাঙালি খারাপ আছে।

ভয় হয় যদি ওই অস্ত্র গুলো সত্যি ব্যাবহার করে ফেলে বাঙালি।  যারা তেভাগাতেও শিল্প হবে বলেছিল তাদের বিরুদ্ধে, পরিবর্তন মানে পুরনো কারখানা খুলবে, নতুন কোম্পানি আসবে তাদের বিরুদ্ধে, ধর্ম  নিয়ে বেসাতি করে, গরুকে মা বলে আর গফুর চাচাকে শত্রু- তাদের বিরুদ্ধে।

আম্মি বলেছিল, ধান্দার থেকে বড় কোন ধর্ম   নেই। ধান্দা পানির লড়াই করার পালা।

এক হও। অস্ত্র শানাও।

----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

| ময়ূরের বীর্য, হাইওয়ের বার আর কিছু যান্ত্রিক জজ|

জজ সাহেব বলেছেন ময়ূর এর চোঁখের জল আসলে বীর্য। যেরকম গরু আসলে মা আর পীঠস্থান এ অর্ধ শিক্ষা লো জিডিপির কারন।

জজ সাহেব রক্ত মাংসেরই মানুষ। উনি টিভি সিরিয়াল দেখেন, বউ এর খ্যাদানি খান, মাঝেমধ্যে ক্লাবে পান, চোঁয়াড়ে ঢেকুর তোলেন, বুক পকেটে নিজের প্রিয় বাবার ছবি রাখেন মোবাইল এর সাথে।

জজ সাহেবদের সাথে চোখে কাপড় বাঁধা ন্যায় মূর্তির কোন সাদৃশ্য নেই। পাওয়া যায় না। জজ সাহেব যাই বলুন না কেন তিনি সত্য। তিনি সুন্দর।

শেষবার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলাম আদালত এর এক বিকট রায় শুনে। মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো রোধ করতে হাইওয়ের পাশের সব মদের দোকান তুলে দিতে। "জুতো আবিষ্কার" কেস আরকি।

আমার ফ্ল্যাট মুম্বাই এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে থেকে ২০০ মিটার দূরে। এই হাইওয়ে একদিকে যুক্ত করেছে মুম্বাই শহরকে আর অন্যদিকে চলে গেছে বরোদা, আমেদাবাদ অব্দি।

প্রায় ২০০০ লোক থাকে বিভিন্ন ফ্ল্যাট এ। এরা যদি মদ্যপান করে হাইওয়ে তে গাড়ি চালায় বা সোজা কোন গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় বা মাঝ রাস্তায় মাতলামি শুরু করে? আমার বিল্ডিং এ মদ্যপান নিষিদ্ধ হবে না?

জুতা আবিষ্কার এ গোটা পৃথিবী চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা হয়েছিল। এই দেশ এ দেখছি হাইওয়ের পাশে পুলিশ ভ্যান, কড়া নজরদারি, ব্রেথ এনালাইজার এর বালাই নেই। তথ্য ও প্রমাণ বলেছে দোকান গুলোই দোষী তাই দাও তুলে।

কানুন আন্ধা হ্যা জানতাম এখন দেখছি যান্ত্রিক ভি হ্যা। ঠাণ্ডা ঘরে বসে, ঠাণ্ডা গাড়ি চড়ে, লাল বাতি হেঁকে বিচার আসে। একে প্রশ্ন করা যায় না। খাড়া নেমে আসে মানহানি ও অবমাননার।

অথচ এ দেশেই তো আদালতের দীর্ঘশ্বাস থেকে খবর তৈরি হয়। ১২ বছর সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে জেল খেটে বেকসুর খালাস হয়ে যাওয়া, এক প্রভাবশালীর খুন এর বোঝা নিজের ঘাড়েচাপা ও জেল এ পচতে থাকা, রাষ্ট্রকে দেশপ্রেম সুখ দিতে ফাঁসিতে ঝুলে পরা। এ দেশেই তো দেখেছি। তবে কোন প্রশ্ন করিনি।

এ কানুন আন্ধা হ্যা। এ কানুন যান্ত্রিক হ্যা। এ কানুন এর ঘুমের ব্যাঘাত ট্রামের শব্দে হলে, ট্রাম খারাপ হ্যা। এ কানুন এর মেয়ে বিলেত ফেরত ট্রামডিপো তে সেল্ফি নিয়ে বাবাকে ট্যাগ করলে ট্রাম হেরিটেজ হ্যা।

মার্সিডিজ চেপে আইনজীবি আসলে এম্বাসেডর চেপে আসা কানুন বিব্রত করবেই। কানুন আন্ধা হ্যা। চোখ বুজে অল্প টাকার বান্ডিল নিলে সংবিধান বদলে যাবে না।

ঠান্ডা ঘরে রোবোটদের রাখা হয়। এদের চোখের চিপে কাপড় বেঁধে দিলেও তারা দেখতে পায় মাদারবোর্ড দিয়ে। ভারতের সমস্ত আইপিসি, সিআরপিসি আপলোড করে ডেটাবন্দি করে দিলেই কেল্লা ফতে হবে।

সুতরাং অবসর নেওয়ার আগের দিন সরকারকে তুষ্ট করে একটু ওকালতি করাই যায় গরু যাতে জাতীয় পশু হয়। সাথে ময়ূর এর যৌন এনালজি। চোখের জলে বীর্যস্খলন। এক ফোঁটাতেই কেস!

হাইওয়ে তে গাড়ির মধ্যে মেয়েটা কে রেপ করলো যারা, সতেরো বছরের যোনিতে লিঙ্গ, পাথর কুচি, জলের বোতল দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করলো যারা তারা নিষিদ্ধ হবেনা? বা নিদেনপক্ষে তাদের লিঙ্গটি বা গাড়িখানা? নাকাবন্দিতে দু হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার কসম এরা মদ্যপায়ী।

কিংবা কার ফ্রিজে কি মাংস রাখা আছে সেই অপরাধ এ পিটিয়ে মারার সংস্কৃতি? গরুর সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মেয়েগুলোর বিসর্জন দেওয়া জিন্দাবাদ।

যেই ভিনদেশী ট্রাক গুলো মানুষ পিষে কয়েক বছর জেল এর রুটি খেয়ে আসে, তারা বার এ বসে মদ্যপান করে না। তাদের জন্য হাইওয়ের পাশে লোক দাঁড়িয়ে থাকে। ঝোলা নিয়ে, মেয়ে নিয়ে, পুরিয়া নিয়ে। কানুন সব জানে। কারন পুলিশ জানে এদের। এদের ঘামের গন্ধ চেনে। তবে যে ছেলেটি মদ না খেয়েও, নিজের ভুল না থাকলেও পিষে মরে? কানুন অন্ধ কিন্তু বোবা হল কই?

বিবেক বুদ্ধি রক্ত মাংস বোধ ভাবনা- কানুন এর থাকতে নেই। থাকার মধ্যে রায় থাক। আইনরক্ষক, গাছ তলার মুহুরি, লক্ষ লক্ষ পেন্ডিং কেস সামলে রাখা কেরানির আয় আছে আর কনটেম্প এড়িয়ে চলা কিছু নিউজপ্রিন্ট।

--- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

Sunday, April 2, 2017

বংযাত্রীর বম্বে ডাইরি - ১০

| অয় মারম্ভ শুভায় ভবতু |

এ মায়ার শহরে কোনকিছুর মায়া পুষে রাখা বড় পাপ। বন্ধু বলে মায়া পরতে নেই। সমুদ্র ধারে আরোই না। স্থিতধী স্থবির পাহাড় হয়। এখানে যে সমুদ্র জল।
মুম্বাই বছরখানেক আগে আসার পর থেকেই অনেকগুলো বাসা বদল হয়েছে। শুরু করেছিলাম ওয়রলি সি-ফেস রোড দিয়ে। তারপর পালি হিল, গিরগাও চৌপাটি হয়ে দাদার। প্রত্যেকবার আমার কিছুমাত্র মায়া ফেলে এসেছি আলমারি, শোয়ার খাট, ময়লা বালিশ, নির্দিষ্ট জলের বোতলের গলায়। অনেকাংশ দীর্ঘশ্বাস দেওয়ালে লাগিয়ে এসেছি। খাটের নিচে ধুলো, বোতলের ছিপি, ঝুল, কাগজের টুকরো ছাড়াও কিছু পরে থাকবে বোধহয়।
আমরা সবাই ছেড়ে চলে যাই। কিছু না কিছু। যাওয়ার সময় হুজুক থাকে, তাগিদ থাকে। বেঁচে কুচে যা পরে থাকে, তা থেকেই যায়।
যেরকম চার পেগ খেয়ে বিল মেটানোর পরেও পরে থাকে মাংসের টুকরো, বিটনুন, কয়েকটা কাজু বাদাম। ওগুলো প্রত্যেকটা জরুরি ছিল, ভিষন গুরুত্বের ছিল। কয়েক ঘন্টার ফারাকে ডাস্টবিনে যাওয়ার প্রস্তুতিতে।
ছোটবেলায় দৌড়ে যেতাম।বিকাল সাড়ে তিনটে থেকে গমগম করতো এলাকাটা। আমার কৈশোর। তখন চারধারে প্রচুর কাঁটা ফলের গাছ ছিল। ওগুলো এর ওর চুলে আটকে দিতাম। আর কুলের আচার খেতাম। কুলের বিচি থুঃ করে মুখের জোরে কতদূর যেতে পারে তার কম্পিটিসন হত। 
সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব হত। তারপর সব চলে যেত। সব্বাই। পরে থাকতো একটা গোটা মাঠ হাজার খানেক ম্যাচের স্কোর কার্ড, শালপাতা আর ঝগড়ার গল্প আগলে। 
স্কুলের শেষ দিন ও তো হুজুগে কেঁদে ফেলা ছিল। একে অপরের স্কুলের জামায় বার্তা ছিল, অনুলিপি ছিল, লিপস্টিক এর স্মৃতি ছিল। কিন্তু সেই জামাও তো এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। 
আমরা সবাই তো জাহাজের দলে নাম লিখিয়ে ছিলাম, আদার ব্যাপার স্বপ্নে ছিল কই? তাই বোধহয় মায়া রাখতে নেই।
দাদার এলাকাজুড়ে বিছিয়ে দেওয়া স্মৃতি, অনেক রাতে দীপক সিনেমা হল আর স্নেহা ডান্স বার এর পাশ দিয়ে হেঁটে আসা, সকালে মেন্দু বড়া, নির্দিষ্ট দোকানে গাজর, আঁখের রস, ছুটির দিনের গোপাল কৃষ্ণ বার যেখানে ধুপের গন্ধ, জৈনধর্ম, রামের গন্ধ মিলে মিশে মাহল তৈয়ার করে। করতো।
দুটো সুটকেস, খান তিনেক ছোট ব্যাগপত্র, একটা ছাতা আর ব্যাগপ্যাক আমার সংসার। আপাতত।  এই নিয়ে এবার চল্লাম  নতুন ফ্ল্যাট এ। ভাড়ার ফ্ল্যাট কান্দিভালি। জানালা দিয়ে সবুজ দেখা যায় আর অন্যদিকে হাইওয়ে।
এ শহর দৌড় দিতে শেখায়। যতটা ব্যাগ এ পুরে নেওয়া যায় নস্টালজিয়া ততটা নিয়ে চল্লাম শহরের অন্যপ্রান্তে। এখানে থেকে গেল ভুতুড়ে লিফট, ক্ষ্যাপাটে বুড়ো যে ডাস্টবিন বাইরে থাকলে চ্যাঁচামেচি জুরে দেবে, কম্বল গায়ে মারাঠি উন্মাদ যে গান গেতে গেতে খিস্তি করে, আমার দুই পিজিমেট যারা আমার মধ্যরাতে আগমনে প্রথমে বিস্মিত, তারপর বিরক্ত ও পরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। দাদর এলফিন্সটন রোডের ভবানী বিল্ডিং এর দশ তলা থেকে ট্যাক্সি চেপে সোজা হাইওয়ে ধরতে হবে পিছনে না তাকিয়ে। এবার নতুন গল্প শুরু। অয় মারম্ভ শুভায় ভবতু।

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

বংযাত্রীর বম্বে ডাইরি -৯

| পুজোর আগে মনকেমন করা জ্বর |

বারান্দা তে রাখা রেডিও, ইজি চেয়ার এ চা, সকাল নামলো বলে। রাজপথে তখন হয়তো দুধওয়ালা, খবরের কাগজ এর গাড়ি ও কিছু উশখুশ। জটলা করে অপেক্ষা।

দূর থেকে একটা ট্রেন এর শব্দ, কয়েকটা কাশ ফুলের ছবি, সামনে সমুদ্র। অনেক নৌকো। সব নৌকো করে ঢাকি আসছে। বিশাল বিশাল বালিশ মাথায়।

কত জোনাকি প্যান্ডেল এর ঝাড়বাতি জুরে। এদের প্রসাদ এ ভাডা পাও আর মোদক দেওয়া হবে। আকাশে একটা ব্রিজ উঠে গেছে।  ওটা সোজা বাইশ তলা যায়।  ওখানে নাকি আসল দেবী রাখা। সামনে ধুনুচি নাচ হচ্ছে।

এ সময় খুব তেষ্টা পায়। ঘুম চোখে বোতল খুঁজতে গেলে ওদের সবার সাথে ধাক্কা লাগে। হুরমুড়িয়ে গিয়ে পরি রেডিওতে, রেডিওর নব মাথায় লেগে বেজে ওঠে। চারদিক থেকে বীরেন ভদ্র জেগে উঠেছে। আমার কোল বালিশ কেনা হয়নি নতুন শহরে। মন খারাপ হলে কি জাপ্টে ধরবো??

--ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ
mayukhrghosh.blogspot.com

#বংযাত্রীরবম্বেডাইরি

| বংযাত্রীর বম্বে ডাইরি -৮ |

****  ম্যাজিক- রিয়ালিটি  ****

ম্যাজিক হয় হয়। চারপাশেই হয়। বাথরুম, বারান্দা এমন কি দেবী পক্ষেও হয়। যারা জানার তারা জানে। আমি জানি। কিন্তু ম্যাজিক, রিয়ালিসম এর ল্যাজ ধরেই থাকে। তাই হয়তো সব ম্যাজিক এ জাপ্টে থাকে বাস্তব এর কিছু ভাগ।

প্রভাদেবী এলাকাতে সকালবেলা যে বাজার টা বসে তা হুবহু গড়িয়া বাজার এর মত হয়ে যায় আমি গেলেই। কত মাছ, সব্জি। কেবল মাছ গুলো বেশিরভাগ চালানি আর চাপাতি দিয়ে পিস পিস করে। আমাদের রথতলা বাজার এর স্বপন কেও বোধহয় এক আধবার দেখা যায়।

গোরেগাঁও স্টেশন এর সামনের রাস্তাঘাট পুরো যেন যাদবপুর স্টেশন রোড আমি যখনি যাতায়াত  করি। কি গ্যাঞ্জাম, কাদা, হকার এর ভিড়। কেবল হাজার পাক লাগালেও ইউনিভার্সিটি এক নম্বর গেট লাগোয়া ঝুপড়ি দোকানের মত দারুন মটন ঘুগনি আর পোঁড়া পাঁউরুটি মেলে না।

আর কোলাবা তে তাজ এর পিছনের যে বাজার টা। সেটাও তো অনেকটা এসপ্ল্যানেড। বাদিক ঘুরলেই শ' বার। আমি যেতাম।

এরকম বহু ম্যাজিক ঘটে যায় এখানে। রাতে বা কাঠ ফাটা দুপুরবেলা। সবচেয়ে গা ছমছম ম্যাজিক টা ঘটালো সোহম। মহালয়ার ভোররাত এ।

সোহম আমার ভাই ই বটে। প্রাক্তন কলিগ। বহু 'কান্ডের' সহযোগি।

সেদিন রাতে প্রায় দুটো বেজে গেছিল অফিস থেকে বেরতে। আমি একটা পিজি তে থাকি অফিসের পাশেই। বাকিরা কেউ ব্যাঙক বা বেসরকারি অফিস এ কাজ করে। সন্ধে সাতটায় বাড়ি এসে দাড়ি কামানোর সময় পায়। আমি রাতে ফিসফিসিয়ে ঢুকি। ফোনে কথা বলি না। বাকিরা বিরক্ত হয় ভোররাতে আমার আড্ডায়।

মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ইচ্ছে থাকলেও আমার রেডিও নেই ফোনে, নেট সেদিনই স্লো আর হেডফোন কেউ ঝেপে দিয়েছে।

আমার মতোই প্যাঁচা দের সাথে চ্যাট এ কথা বলতে বলতে সোহম শুনলো আমার ব্যাথা। আর তার কিছু পরেই ঘটিয়ে দিলো এক গা ছম ছম ম্যাজিক। 

মহিষাসুরমর্দিনী সবে শুরু হবে বোধহয়, আমার ফোন টানা বেজে চলেছে। সোহম।  কি হল রে?

সোহম : কথা বলতে হবে না, চুপচাপ কানে ফোন ধরে থাকো।

১২৩ আর ম্যাজিক। মুম্বাই এর সেই ঘরে যার একটা জানালা দিয়ে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দির আর দূরে সমুদ্র দেখা যায়, সেখানে ভোরের আলো ফুটছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র জানালা, দেওয়াল, বিছানার চাদরে। আমার গড়িয়ার বাড়ির দেওয়াল, দেওয়াল এ ঝোলানো ছবি, আমার বই এর আলমারি, আমার ল্যাধ খাওয়ার খাটের কোনা সবকিছু আমার চারপাশ জুরে।

আমার ঘরের গন্ধতে রাতের গরম ভাত, মাছ, বউ এর পারফিউম, আমার সেভিং ক্রিম লেপ্টে। মুম্বাই অব্দি চলে এসেছে। আমায় না জানিয়ে।

পুজো চলে এলো। আর সাতদিন। ওই শহর আমার সমস্ত কিছু জানে। আমায় মন খারাপ গুলো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে। আমায় যেতে হবে সব ম্যাজিক গুলো রিয়ালিটিতে বদলে ফেলতে।

----ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ
mayukhrghosh.blogspot.com

পুজোয় আসছি ।

#বংযাত্রীরবম্বেডাইরি

শেরাওয়ালি ভক্তি শেষে মুম্বাই যখন শুতে যাবে, আমি তখনই কেটে পরলাম।

ভোর পাঁচটা চল্লিশ এর জেট । সিটবেল্ট টাইট করে বেঁধে নিতে হবে। শেষবার যখন কলকাতা ছেড়ে গেছিলাম, তখন 'বঙ্গ' তে 'পশ্চিম' ছিল, সিঙ্গুরে টাটার জমি ছিল। বাঙালির স্বপ্ন ছিল রাজ্যেই।

কুনাল ও মদন বাবু জেলে ছিল, আনন্দবাজার এর শেষ পাতার নিচে অভীক বাবুর নাম ছিল।

আমার জানালা জুড়ে ছিল কলকাতার শ্বাস প্রশ্বাস আর শহর জুড়ে শিল্প না হওয়ার মনখারাপি।

আমি ও ছিলাম। মোল্লার দৌড় ছিল গড়িয়া টু গড়িয়াহাট।

সিটবেল্ট শক্ত করে বাঁধা ভালো। কলকাতাগামী বিমান। বিমান এর ওপার থেকে বহু নিশ্বাস ছেড়েছি।

আরবসাগর পার মানেই সর্বসুখ আমার তা বিশ্বাস ছিল না। থাকতে পারেনা। কারন কলকাতায় কিছু মানুষ তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে। করেই যাচ্ছে।

হুগলি নদীর এপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে/
অষ্টমীর ভোরবেলা প্লেন ছেড়েছে ওপারে ।

পুজোয় আসছি ।

mayukhrghosh.blogspot.com

বংযাত্রীর বম্বে ডাইরি -৭

| শব্দবাজি = দেশাত্মবোধক ভেল্কিবাজি |

আমি যুদ্ধ দেখিনি। যুদ্ধ যুদ্ধ শব্দ শুনেছি। একটা যুদ্ধক্ষেত্রে আজ বাস করছি। শহর এর নাম মুম্বাই। এখানে আজ সারা রাত শেলিং হবে তার পর সব শান্ত। বেঁচে থাকবে পাড়া জাগানো আজান এর মাইকের আওয়াজ এর এক রাশ দোষারোপ। বাকিটা দেশজ মন কি বাত যার মাইকিং হয় ফি রোববার।

এখানে দুমদাড়াক্কা বোম ফাটে, কানে তালা পরে যায় কয়েকটা শুনলেই। এর পর যে বাচ্চাটা ভয়ে কেঁদে ফেল্লো, যে অসুস্থ বুড়া ঘাবড়ে গেলো,  যে কুকুর কুকড়ে খাটের তলায় জবথব, তাদের শোনা যায়না।

আসলে গোটা শহরটা তিরঙ্গা ছাপ ও সৈনিক এর ছবি দেওয়া বাজির বাক্স খুলে শব্দবাজি দেখাচ্ছে।  কেউ বাড়ির ছাদ থেকে দুম করে একটা বোম মারলো, তাই দেখে পাশের রাস্তার ছেলে পাঁচটা ছুঁচোবাজি এক সাথে মারলো রে রে করে।

আজ কেউ কারোর কথা শোনে না। কেউ ফিসফাস করে না ফুলঝুরির আলোয়। মাঝেমধ্যে ছিটকে আসে এক আধটা ফুল্কি। ওটা দেশাত্মবোধ এর বিচ্ছুরণ।

আজ আমি মোল্লা না হয়ে ও anti- ন্যাশনাল এই প্রবল আওয়াজ এর প্রতিবাদ করলে। যে দিওয়ালীর আগে পাশের দেশে ঢুকে ওদের গুলি করে ও বিরিয়ানি খেয়ে আসি, যে দিওয়ালীর আগে এত জওয়ান শহীদ হয়, সেই দিওয়ালীতে আরো জোরে বোম ফাটাবো। 

শুনলাম কলকাতার মহানাগরিক Kanan Chatterjee ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন রাজ্যবাসীর কাছে শব্দ দৈত্য রুখতে না পেরে ব্যথাহত হয়ে। শোভন দা, খারাপ লাগার কিছু নেই। একটা গোটা মানচিত্রের অধিকাংশ জায়গাতে আজ ডেসিবল ২০০। দেশাত্মবোধ এর পারদ তুঙ্গে, নির্বাচনী বৈতরনী পার করতে দরকার হয় দেশাত্মবোধক ভেল্কিবাজ বা নিদেন পক্ষে একটা দাঙ্গা।

গো বলয় কালিপটকা ফাটিয়ে নিজেদের আধিপত্য জাহির করে। নিঃশব্দ যা কিছু সব জানালা দরজা আটকে শোবার চেষ্টা করে। পাছে মাঝরাতে দেশাত্মবোধের পরিক্ষা দিতে হয় বা ফ্রিজ খুলে দাঁড়াতে হয় লৌহ পূরুষদের সামনে।

--ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ
mayukhrghosh.blogspot.com

বংযাত্রীর বোম্বে ডাইরি-৬


| পড়লাম তবে শিখলাম কই |

জুন মাসের মাঝামাঝি যখন আমি আনন্দবাজার গোষ্ঠীর খবরের চ্যানেল এবিপি আনন্দ থেকে বিদায় নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করছি, এক সন্ধেবেলা শুলনাম অভীক বাবু, আনন্দবাজার গোষ্ঠীর প্রধান সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন। আমাদের কিছু এসে যাবেনা কিন্তু বাঙালির অনেক কিছু এসে যাবে।

চমকে গেছিলাম শুনে। মেনে নেওয়া টা সহজ নয়। আজন্মকাল আনন্দবাজার এর শেষ পাতায় নাম, মাটিতে লুটোচ্ছে ধুতি, বিশাল সম্পাদকীয় প্রতিপত্তি, আদ্যোপান্ত ভিক্টোরিয়ান বাঙালি। আমার মত সাব-অল্টারনেটস দের কাছে ব্যাপার একটা। মানে যেটা হ্যাংলামির কাছাকাছি আরকি।

অভীক বাবুর চলে যাওয়া আমায় বুঝতে শিখিয়ে ছিল যে নিজের ভাবনা চিন্তা, ধ্যান, ধারণা আরো আরো ফ্লেক্সিবিল ও সময় এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হবে। পাথর এর মত স্থিত, স্থবির হয়েছো কি কম্পালসারি ওয়েটিংরুম বরাদ্দ।

আরবসাগর এর পাশে কমলা মিলস নামক যে বিশাল জায়গাতে টাইমস নাও এর অফিস সেখানেও সেই মন্ত্রেই দিক্ষিত হয়েছিল একটা গোটা প্রজন্ম।  যাদের বয়স ২৩ থেকে ৩৩। হ্যা এটাই টাইমস নাও এর সম্পাদকীয় মানব সম্পদের গড় বয়স। টেবিল রিপোর্ট করছে, ফোন এ প্রধান অভিযুক্তকে চোখা চোখা প্রশ্ন ছুঁড়ছে, দেশের এজেন্ডা সেট করছে, শো এর গেস্ট ঠিক করছে পাকিস্তান বা লন্ডন থেকে বা কোন নেতা কে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে।

এই সব টাই ২৩ থেকে ৩৩। এখানে সংবাদমাধ্যম এর সংগা রোজ বদল হয়েছে, ব্যাকরণ দুমড়েছে, লুটিয়ান দিল্লীর ফর্মালিটি বদলে এসেছে মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখা কিছু দামাল ছেলে মেয়ের দাপাদাপি।  যারা ইংলিশ, হিন্দি, বাংলা, অহমিয়া, তামিল মিশিয়ে এক অদ্ভুত ভাষাতে কথা বলে, বাকিটা হাসি আর লজ্জা,ঘেন্না, ভয় ভুলে খবরদারি করা।

পুরোটাই শিখিয়েছিল যে, সাহস জুগিয়েছে যে, ছক ভেঙে চোখ এ চোখ রেখে প্রশ্ন করার, সে ১৮ই নভেম্বর ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেল।

দু বছর সাংবাদিকতা পড়েছি কলকাতায়, কিন্তু আসল শেখাটা বোধহয় প্রাথমিক ভাবে আনন্দবাজার আর বাকিটা ওই অহমিয়া ভদ্রলোক এর কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ যা শিখিয়েছে আমার শহর তাতে ৮০র দশকের দূরদর্শন এ কাজ মিললেও মিলতে পারে।

অশান্ত সমুদ্রে সাঁতার কাটা সহজ নয়। কিন্তু সেটাই তো নতুন প্রজন্মকে শেখাতে চেয়েছে এরা। প্রজন্ম যারা ফোর জি তে আছে, যারা ডিজিটাল স্ট্রিমিং করে, হ্যাশট্যাগ এ কথা বলে আর ভবিষ্যৎ এর ৭০% মিডিয়া যারা নিয়ন্ত্রণ করবে।

এদের সেলাম ঠুকলে কি খুব আদিখ্যেতা হবে?

---- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ
mayukhrghosh.blogspot.com

বংযাত্রীর বম্বে ডাইরি -৫

| বম্বাই মেরি জান |

আমি মুম্বাই নিবাসী এক সাংবাদিক। এ শহর এ আসার পর থেকেই ভাবি আবার যদি একটা সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়? কি হবে? কি করবো?

আমাকে আপিস ঢোকার আগে রিসেপশেন এ রোজ যে মহিলা গুড মর্নিং বলে, বা যে ভাডাপাও ব্যাপারী হেসে বলে দেয় কাল খুচরো দেনা, বা যে হাহাহিহি করা পাব থেকে বেড়িয়ে আসা রাত গুলো বা আমার মধ্যরাতের একলা গান শুনতে শুনতে বাড়ি ফেরা? আট বছর আগে এ সবই তো এক ছিল।

এ শহর আমার কাছে লড়াকু মধ্যবিত্ত মানুষগুলো যারা প্রতিদিন ট্রেন এ চেপে আপিস যায় আর প্রতি রাতে নতুন স্বপ্ন বোঁনে উচ্চাশার।

এ শহর বোধহয় এমন একটি মাত্র শহর যার সমস্ত শিরা উপশিরা জুরে বাস করে যৌবন। জৌলুশ। প্রমাণ করার তাগিদ।

আজ এই এলাকা জুড়ে আর পাঁচটা দিনের মতই ব্যস্ততা।  কিছু কৌতূহল। লিওপল্ট কাফে এখন পর্যটন কেন্দ্র। এখানে দাম দিয়ে লোকে গুলির চিহ্ন দেখতে ঢোকে। 

মুম্বাই পুলিশ রোজ রাতে নেশাখোর ড্রাইভার ধরার ছকে নজর রাখে প্রতি গাড়িতে। সব চেয়ে কঠিন কাজটা বোধহয় ওদেরই।

বাকি থাকলো যে ভবঘুরে রা তারা আমার মত চুপচাপ তাজ এর দিকে তাকিয়ে মানুষ দেখতে থাকে ছুটির শনিবার। ছাব্বিশ এগারোর আট বছর যে শনিবার।

কে কত বেশি গড়ুভক্ত আর কে কত বেশি গড়ুখেকো, এ শহর বোধহয় তা ভাবেও না। ভাবনা যেটুকু তা ওই ব্যাগটা নিয়ে যা আধ ঘন্টার উপর পরে রয়েছে। বা ওই চকলেট বোম এর আচমকা আওয়াজ বা খবরের চ্যানেল এ দেখানো সন্দেহভাজন দের সমুদ্রপারে ঘুরঘুর করতে দেখা। বা কোন উর্দু তে লেখা নৌকো।

ভয় লাগে। যে মানুষ টা আমার পাশে ট্রেন এ গান শুনতে শুনতে যাচ্ছে তার, যে বার এ বন্ধুর সাথে গল্প করছে তার, যে কাজে অকাজে নিজের প্রিয়জন কে ফোন করে জানে কোথায় আছো তার।

একেই বোধহয় ত্রাস বলে। কিন্তু যে শহর মায়াজাল বুঁনতে শেখায়, কান্না পেলে সমুদ্রকে ফিসফিস করে অনুযোগ করতে শেখায় আর অচেনা মানুষ কে বন্ধু হতে তার কি ভয়? সে তো বুক চিতিয়ে বাঁচবে, দারুণ বম্বের বৃষ্টি ভালোবাসবে আর দুম করে রাম এর নেশায় কোলাবা তে দাঁড়িয়ে বলবে:

সালাম বম্বে!

mayukhrghosh.blogspot.com